বাণিজ্যমন্ত্রী
আপাতত বাড়ছে না ভোজ্যতেলের দাম

ফাইল ছবি
আসন্ন পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরির কোনো আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রমজানকে ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে, যোগ করেন মন্ত্রী।
আজ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতিও তুলে ধরলেন মন্ত্রী। বললেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে সরকার।’
‘পাইপলাইনে থাকা পণ্যের পরিমাণ বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। রমজান কিংবা এর আগে-পরে বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না’ এমন আভাস দিলেন আব্দুল মোক্তাদির।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও জাহাজভাড়ার ওঠা-নামা আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে উল্লেখ করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
দাম বাড়বে না ভোজ্যতেলের
ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রস্তাব রয়েছে কিনা এবং রমজানের আগে দাম বাড়ানো হবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
ভোজ্যতেল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয় গত সেপ্টেম্বরে। ব্যবসায়ীরা দাম প্রতি লিটারে আরো ১৪ টাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে।
এলসি খোলায় সমস্যা হলে ব্যবস্থা
পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কোনো সমস্যায় পড়ছেন কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে কোনো আমদানিকারক এলসির মার্জিন কিংবা অন্য কোনো ব্যাংকিং জটিলতায় পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
২০২৭ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা মন্ত্রীর।
মন্ত্রী জানান, আলোচনা এগিয়ে নিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়ক হবে।
বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করলেন মন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা।



