এনবিআরে নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আহসান হাবিবকে। এবারই প্রথম কোনো চেয়ারম্যানকে এই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তার এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আহসান হাবিবকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
এর আগে তিনি ছিলেন এনবিআরের কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য। তার নিয়োগের মাধ্যমে এই প্রথম সরাসরি ইনকাম ট্যাক্স, অর্থাৎ কর ক্যাডার থেকে কাউকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রক্ষক করা হলো। আহসান হাবিবের চাকরির মেয়াদ আছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।
বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার এই বাসিন্দা ১৫তম কর ক্যাডারের মেধাতালিকায় প্রথম হয়েছিলেন। আর বিসিএসে সম্মিলিত মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল ৬২তম। সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম ১০০ জনকে ধরা হয় ‘টপার’।
আহসান হাবিবের আগের বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানও ট্যাক্স ক্যাডারের ছিলেন। তিনি ট্যাক্স থেকে সচিবালয়ে চলে গিয়ে সেখানে থেকে ফিরে এসেছিলেন এনবিআরে। লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা এই কর্মকর্তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শীর্ষ পদে কে বসবে— তা নিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বরিশাল বিভাগের ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ অনেক বছরের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাওয়ার আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। গতকাল যার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন এলো।
এ বিষয়ে জানতে টেলিফোন করা হলে আহসান হাবিব আগামীর সময়কে বললেন, ‘দোয়া করবেন, আপনাদের সাপোর্ট চাই।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিলেন আহসান হাবিব। ১৫তম কর প্রশাসনসহ তার তিনটি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
গত ১৩ জুন আগামীর সময়ে ‘নতুন এনবিআর চেয়ারম্যানের দৌড়ে সাতজন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে আহসান হাবিব যে চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন, সে সম্ভাবনা প্রথমে তুলে ধরা হয়। তবে তাকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো।
তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে এনবিআরের একজন সিনিয়র পর্যায়ের সদস্য বললেন, আহসান হাবিব একজন ভালো প্রশাসক। আরেকজন সিনিয়র সদস্য বললেন, ‘উনার মুড সুইং (মেজাজের উত্থান-পতন) হয় দ্রুত। তবে সরকার ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে নিয়োগ দিয়ে। নবিশ কাউকে দিলে তার বুঝে উঠতে অনেক সময় নষ্ট হতো।’
নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিষয়ে কথা হয় এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তারা বলছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও সিদ্ধান্তের পরই বিষয়টি সম্পর্কে জেনে গিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ-ই প্রকাশ করেননি। এর মধ্যে গোপনে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এসেছেন।
বর্তমান নাজুক ও ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা বেশ চিন্তায় রয়েছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল করা, নতুন কর্মসংস্থান বাড়ানো, রাজস্ব আদায়ের গতি সচল রাখা বিএনপি সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনবিআর চেয়ারম্যানের নীতি-কৌশল সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়। বাকপটু ও চৌকস আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যানের ‘সূক্ষ্ম সমন্বয়’ করার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি।
দেশের লৌহজাত শিল্প খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তপন সেন গুপ্ত বললেন, ‘বিজনেস হাউজ ও শিল্পায়ন ছাড়া দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। অহেতুক হয়রানি কমিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, টেবিলে টেবিলে ফাইল ঘুরিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার মতো বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। এক কথায়, হয়রানি বন্ধ, পরিষেবা বাড়ানো নীতিই গ্রহণ করা দরকার।’
বর্তমান বাজেটে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি পূরণ না হলে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভূমিকা কী হবে বা কী কৌশল প্রয়োগ করবেন, সেদিকে তাকিয়ে আছেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বললেন, ‘আশা করি, উনি ভালো করবেন। আমরা ব্যবসায়ীরা ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে চাই। কিন্তু সেটি যাতে পেশাদারি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পরিচালন হয়।’




