রামিসার বাবার আক্ষেপ
ধর্ষিতার নয়, গর্বিত বাবা হতে চেয়েছিলাম

সংগৃহীত ছবি
সন্তান বড় হবে, মানুষ হবে, একদিন বাবার পরিচয় হবে সন্তানের সাফল্যে। সব বাবার বুকপকেটেই এমন স্বপ্ন লুকানো থাকে। কিন্তু রাজধানীর পল্লবীর সেই বাবা আজ পরিচিত হতে বাধ্য হয়েছেন এমন এক পরিচয়ে, যা কোনো বাবাই কখনো চাইবেন না। বুকভরা কান্না নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘আমি তো একজন ধর্ষিতার বাবা, খণ্ডিত লাশের বাবা হয়ে থাকতে চাই না। আমি তো গর্বিত বাবা হয়ে থাকতে চেয়েছিলাম। আপনারা আমাকে সেই নাম ফিরিয়ে দেন, সেই সম্মান ফিরিয়ে দেন।’
পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর কেটে গেছে ১৩ দিন। কিন্তু পরিবারের জীবনে সময় যেন থমকে আছে। রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে গতকাল শনিবার গোলটেবিল বৈঠকে কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন আব্দুল হান্নান মোল্লা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, সমাজকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা। কিন্তু সেদিনের সবচেয়ে ভারী শব্দ ছিল একজন বাবার অসহায় প্রশ্ন— ‘আমার মেয়েকে এভাবে হারানোর দায় কার?’
তার ভাষ্য, ‘আমি জানতে চাই— এ দায়িত্ব কে নেবে? এ দায়িত্ব কি আমার অবহেলা, সমাজের অবহেলা, না রাষ্ট্রের অবহেলা? খণ্ড-বিখণ্ড আমার খুকু সোনার টুকরা সন্তান— তার দায়িত্ব কে নেবে? আমি কি তার জন্য দায়ী? না কে দায়ী?’
বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক ওই গোলটেবিলে আব্দুল হান্নান এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। তিনি শুধু নিজের মেয়ের জন্য বিচার চাননি; চেয়েছেন এমন এক সমাজব্যবস্থা, যেখানে আর কোনো মা-বাবার বুক খালি হবে না, আর কোনো পরিবার আজীবন ‘জিন্দা লাশ’ হয়ে বেঁচে থাকবে না।




