অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডে বড় পরিবর্তন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টে দুর্নীতি বন্ধে বোর্ড ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনে এনেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত আইনের আলোকে বোর্ডে তিন বছর পর শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিবর্তন আনা হচ্ছে দুই প্রতিষ্ঠানের মূল আইনি কাঠামোতেও। যেখানে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বেসরকারি শিক্ষকদের একক কর্তৃত্ব। ফলে গতি আসবে নিয়মিত কমিটি ছাড়া চলা বোর্ড দুটিতে।
গতকাল রবিবার পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে অবসর সুবিধা বোর্ডের অষ্টম পরিচালনা পরিষদ এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ১২তম ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। ফলে ঝুলে থাকা হাজার হাজার আবেদন দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তির আশা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী তিন বছরের জন্য গঠিত হয়েছে বোর্ড দুটি। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব। আর ভাইস চেয়ারম্যান থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। অবসর বোর্ডে সচিব মনোনীত হয়েছেন চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার বালাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন লিটন। কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব মনোনীত হয়েছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শালফা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ইউসুফ আলী।
তবে শিক্ষক নেতাদের আধিপত্য কমাতে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; শিক্ষা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং কর্মচারী প্রতিনিধিকে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর আগে বোর্ডের একক নিয়ন্ত্রণ ছিল শিক্ষক নেতাদের হাতে। কার্যত বোর্ড ও ট্রাস্টের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে ছিলেন তারাই। ফাইল অনুমোদন, অর্থ ছাড়, আবেদন প্রক্রিয়া সবকিছুতেই নিরঙ্কুশ প্রভাব ছিল তাদের। সেখানে তাদের নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যারা একই শিক্ষক ভাতা একাধিকবার, ভুয়া কাগজ দেখিয়ে মৃত শিক্ষকদের ভাতা উত্তোলন কিংবা ঘুষ নিয়ে আগের আবেদন নিষ্পত্তি করতেন। এতে সময়মতো টাকা পেতেন না অসুস্থ শিক্ষক ও তার পরিবার।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আর্থিক সিদ্ধান্তে এখন বহুমাত্রিক অনুমোদন নিতে হবে। বিনিয়োগ, প্রশাসনিক ব্যয় ও নীতিগত সিদ্ধান্তে একাধিক স্তরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডিজিটাল আবেদন ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, বার্ষিক অডিট, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।




