প্রিন্টিং মেশিনের আড়ালে ৪০ লাখ জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প

সংগৃহীত ছবি
প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়েছিল একটি চালান। কিন্তু কনটেইনার খুলতেই বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র। ঘোষিত প্রিন্টিং মেশিনের বদলে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী এবং ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প। এসব জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারত। আর প্রসাধনী আমদানিতে শুল্ককর ফাঁকির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল এ চালানে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার যৌথ অভিযানে এ অনিয়ম ধরা পড়ে।
এনবিআর সূত্র জানায়, ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত চায়না মার্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালানটি আমদানি করে। গত ৯ আগস্ট চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে প্রিন্টিং মেশিনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে সন্দেহজনক হওয়ায় চালানটি গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়।
এরপর গত ৫ নভেম্বর সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা যৌথভাবে কনটেইনারটি খুলে বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। এতে ঘোষিত কোনো প্রিন্টিং মেশিন পাওয়া যায়নি। বরং কনটেইনারভর্তি প্রসাধনী সামগ্রীর পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প।
উদ্ধার করা স্ট্যাম্পগুলো নিম্নস্তরের ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী। দেশে এ ধরনের এক প্যাকেট সিগারেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা। এর বিপরীতে সরকার রাজস্ব পায় ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা। সেই হিসাবে উদ্ধার করা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা ছিল।
অন্যদিকে, চালানে পাওয়া প্রসাধনী সামগ্রীর বিপরীতে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। অর্থাৎ, জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প ও পণ্যের ভুল ঘোষণা—দুই ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের শুল্ককর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।
এনবিআর বলছে, জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে উৎপাদিত সিগারেট বাজারজাত করা হলে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বৈধ তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এতে রাজস্ব ব্যবস্থার পাশাপাশি বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্যের ভুল ঘোষণা, শুল্ককর ফাঁকি এবং অবৈধ পণ্য বাজারজাতকরণ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক তল্লাশি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।



