র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি, অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চ
- মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
- কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ককর কমানোর সিদ্ধান্ত
- সিসা বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ১০ বছর মেয়াদি জাতীয় কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার খসড়া

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে ‘এসআরবি আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া অর্থবছরের প্রচলিত সময়সীমায় বড় পরিবর্তন এবং কাঁচা মরিচ-টমেটো আমদানিতে শুল্ককর কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
র্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে এসআরবি: দীর্ঘদিনের আলোচিত র্যাব অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে পুলিশের অধীনে নতুন নামে বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে ‘এসআরবি আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। নতুন আইনে র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অভিযোগ ও ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
অর্থবছর হবে এপ্রিল-মার্চ: এদিকে বর্ষাকালে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতা ও জনদুর্ভোগ কমাতে দেশের অর্থবছরের প্রচলিত সময়কাল বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান ১ জুলাই থেকে ৩০ জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে ট্রানজিশনাল বছর— জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে সেটি শেষ করা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়সীমায় সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এজন্য সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টসহ প্রয়োজনীয় আইনি ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপরিধি নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।
মরিচ-টমেটোয় করের লাগাম: বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ককর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান মোট ৬১ শতাংশ করভার কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পরের মাসে ৩১ শতাংশ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। মৌসুমি উৎপাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া ও উৎপাদন ঘাটতির কারণে এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিসার বিষে ঝুঁকিতে ৩৮ শতাংশ শিশু, ২০৩৫-এর মধ্যে নির্মূলের লক্ষ্য: সিসা বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ১০ বছর মেয়াদি জাতীয় কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর আওতায় সিসাদূষণ শনাক্তকরণ, নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী— বিশেষ করে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিশু এবং প্রায় ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বার রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রার সিসা পাওয়া গেছে। ঢাকায় আক্রান্ত শিশুর হার ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা ভিত্তিমানের তুলনায় ৫০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।






