অবশেষে একনেকে উঠছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অজ্ঞাতকারণে দীর্ঘ ছয় মাস ঝুলে থাকার পর অবশেষে শেষ হচ্ছে অপেক্ষার পালা। দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য যানজটমুক্ত চলাচলের জন্য স্বপ্নময় প্রকল্প ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের’ দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব উঠছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। শুধু এটি নয়, আরও ৮টিসহ মোট ৯টি প্রকল্প উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা বিভাগ।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে এ প্রকল্পের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হবে বাইপাইল ইন্টারসেকশন, বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল ও পাতাল মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযোগ। প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর কাওলা থেকে আব্দুল্লাহপুর-কামারপাড়া-ধউর-আশুলিয়া-জিরাবো-বাইপাইল-সাভার ইপিজেড হয়ে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানান, এখনো প্রকল্পের তালিকার চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে আজ অথবা কাল সকালেই চূড়ান্ত করে বিতরণ করা হবে।
তারা বলেছেন, চীনের ঋণে বাস্তবায়নাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি দেশের বর্তমান চলমান গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের একটি। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে ঝুলে ছিল। কিন্তু গুরুত্ব বিবেচনায় সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশোধনী প্রস্তাবটি একনেকে উপস্থাপনের জন্য স্বাক্ষর করেন। এরপরই বুধবার এটি উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের পাঁচ হাজার ৯৫১ কোটি ৪১ লাখ এবং চীনের ঋণ থেকে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এর আগে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।
দ্বিতীয় সংশোধনীতে ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। এতে মূল ব্যয়ের তুলনায় বাড়বে ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় খরচ হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫২ শতাংশ।
এদিকে প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এটি অনুমোদন পেতে অনেকটা সময় চলে যায় ২০২২ সালের ১৬ জুন অনুমোদন দেয় একনেক। ফলে মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছিল ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। এখন আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পটির পরিচালক (পিডি) মো. শফিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রকল্পটি জি টু জি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। পরে প্রকল্পের বাণিজ্যিক চুক্তি ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর স্বাক্ষর হয় এবং ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর চায়না এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একটি ঋণ চুক্তি করা হয়েছিল। এটি পরের বছর থেকে কার্যকর হয়। বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাল ধরা হয়েছিল ৫ বছর ২ মাস; কিন্তু বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের ৫ বছর পর ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ পরবর্তী সময়ে জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন, ভ্যাট ও আয়কর খাতে পরিবর্তন, কাস্টমস শুল্ক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, প্রাইস কন্টিনজেন্সি খাতে পরিবর্তন, ইউটিলিটি স্থানান্তর বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি, অপরিহার্য পাঁচটি ভ্যারিয়েশন, ভূমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিতীয় সংশোধন করা হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন পেলে নতুনভাবে বাইপাইলে একটি ইন্টারসেকশন যুক্ত করা হবে। এটি হলে সেখানে এক মিনিটের জন্যও কোনো গাড়ির যানজটে দাঁড়াতে হবে না। এ ছাড়া বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল ও নির্মিতব্য পাতাল মেট্রোরেল-১-এর সঙ্গে এটির সংযোগ তৈরির নতুন অঙ্গ যোগ করা হয়েছে। ফলে ব্যয় বেশি বাড়ছে।
পরিকল্পনা কমিশন জানান, গত জানুয়ারি মাসে সংশোধনী প্রস্তাবটি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে ঝুলে ছিল এটির সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন।
একনেকে উঠতে যাওয়া অন্যান্য প্রকল্প
মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুনা এলাকা রক্ষা প্রকল্প। এ ছাড়া বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলার সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প এবং সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ প্রকল্প।
আরও আছে, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ-সংস্কার ও উন্নয়ন, একটি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সিলেট বিভাগ এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন প্রকল্প।






