অথচ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মসজিদপাড়া মহল্লার মেহেদী হাসান ও রজব আলী ছিলেন দীর্ঘদিনের বন্ধু। গতকাল বুধবার দুপুরে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে শুরু হয় তর্কাতর্কি। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান মেহেদী হাসান। ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, কত সহজে মানুষের জীবন ঝরে যাচ্ছে সামান্য কারণে।
এমন ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দুষ্টুমি করে পিঠে থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় একজনকে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জমির বিরোধের জেরে মসজিদে নামাজরত
ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেন বড় ভাই। রংপুরে থুতু ফেলা নিয়ে বিরোধে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে হোটেল শ্রমিককে। লক্ষ্মীপুরে ফোন চুরির অপবাদে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তারই সিনিয়র সহপাঠীরা। গাইবান্ধায় এক কিশোরকে পুকুরে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। সবশেষ আলোচনায়, রাজধানীর মিরপুরে ইট মেরে তরুণ সাজিদ চৌধুরী রাফিকে হত্যার ঘটনা। প্রশ্ন হলো, মানুষ এত অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে কেন? তুচ্ছ বিরোধ কেন মুহূর্তেই প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে? এসব ঘটনায় শুধু একটি প্রাণই ঝরে যায় না; একটি পরিবার আজীবনের জন্য বয়ে বেড়ায় অপূরণীয় ক্ষত। অথচ সহিংসতার এ প্রবণতার কারণ অনুসন্ধান ও প্রতিরোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। রোগ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ যে শ্রেয়, তা সবাই জানে। তাই এখন প্রয়োজন অসহিষ্ণুতার সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া। না হলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির এ মিছিল থামবে না।




