অতএব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকা চিড়িয়াখানায় গেলে প্রথমেই একটা বিষয় চোখে পড়ে— এখানে পশুরা খুব শান্তিতে আছে! অবশ্য শান্তিতে থাকার কারণটা একটু ভিন্ন। তারা জানে, তাদের কাজ শুধু খাঁচায় বসে থাকা, মাঝেমধ্যে গর্জন করা আর দর্শনার্থীদের বিনোদন দেওয়া। আর খাবারের ব্যাপার? সে দায়িত্বও নাকি মানুষ খুব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে! চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বড় রহস্য হলো পশুর খাবার। কাগজে-কলমে খাবার যায় পশুদের জন্য; কিন্তু বাস্তবে সেই খাবার কতটা তারা পায়, তা গভীরভাবে জানার বিষয়। গন্ধ পেয়ে কিছু মানুষের চোখ এমন চকচক করে ওঠে, মনে হয় বাঘের জন্য আনা মাংসটা বুঝি তাদেরই বহুদিনের পাওনা। পশুরা খাঁচার ভেতর বসে তাকিয়ে থাকে আর অভিযোগ করে— ‘ভাই, আমাদের কিছু খাবার দিয়ে যান! আমাদের যে খাবার দেয় তাতে হয় না।’ কিন্তু মানুষ কি প্রাণীদের ভাষা বোঝে?
এরপর আছে বানর। চিড়িয়াখানার সবচেয়ে সক্রিয় কর্মচারী বলা যায় তাদের। সারাদিন লাফালাফি, ঝোলাঝুলি, দাঁত বের করে হাসি আর দর্শনার্থীদের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত সব কাণ্ড! কেউ মোবাইল ফোন বের করলেই বানর এমনভাবে তাকায়, যেন বলছে, ‘ছবি তুলছ? আগে আমার অনুমতি নাও!’ তবে তাদের দৃষ্টি থাকে দর্শনার্থীদের বাদামের দিকে।
তারপর সিংহের খাঁচার সামনে গেলেই পরিবেশ বদলে যায়। একটু পরপর গম্ভীর গর্জন— ‘গররররর!’ দর্শনার্থীরা সঙ্গে সঙ্গে চুপ। ছোট বাচ্চারা মায়ের হাত শক্ত করে ধরে। আর কিছু সাহসী মানুষ দূর থেকে বলে, ‘ওই দেখ, সিংহ!’ এমনভাবে বলে যেন সিংহ তাদের পাশের বাসার কাকা।
বাঘের ব্যাপার আবার আলাদা। বাঘ যখন হুংকার দেয়, তখন বোঝা যায়— এই লোকটা এখনো নিজের পদমর্যাদা ভুলে যায়নি। খাঁচার ভেতর পায়চারি করতে করতে এমন ভাব নেয়, যেন পুরো চিড়িয়াখানার ম্যানেজার সে-ই। কিন্তু খাবার কম পাওয়ায় বিষণ্ন থাকে তার মন।
আর ময়ূর? সে তো চিড়িয়াখানার ফ্যাশন আইকন। হঠাৎ পেখম খুলে নাচ শুরু করলে সবাই মোবাইল বের করে। শুরু হয়ে যায় ছবি-ভিডিও করা। কেউ আবার এমনভাবে তাকিয়ে থাকে যেন জীবনে প্রথমবার সৌন্দর্য দেখেছে। ময়ূরও সম্ভবত মনে মনে বলে, ‘হ্যাঁ, ছবি তোলো। আমারও একটু সোশ্যাল মিডিয়া দরকার।’
সব মিলিয়ে ঢাকা চিড়িয়াখানা আসলে অদ্ভুত এক জায়গা। এখানে পশুরা খাঁচায় থাকে, মানুষ তাদের দেখতে আসে, বানর মানুষকে দেখে হাসে, সিংহ গর্জন করে, বাঘ হুংকার দেয়, ময়ূর নাচে।
আজ প্রাণী দিবস। প্রাণীরা আমাদের প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের ভালোবাসা, নিরাপদ পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। বনের পশু, পাখি, গৃহপালিত প্রাণী— সবাই পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়; বরং সহানুভূতি ও যত্ন দেখাই। প্রাণীরা বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, আর প্রকৃতি বাঁচলেই সুন্দর থাকবে আমাদের পৃথিবী।
আমাদের মনে রাখতে হবে পৃথিবীটা তাদেরও।



