মনে হয়

গ্রীষ্মের দুপুরে প্রচণ্ড রোদ। পৃথিবী যেন পরিণত হয়েছে এক বিশাল চুলায়! ভর দুপুরেও একেবারে নিস্তব্ধ শহরের অলিগলি। আবার রাতের দৃশ্য পুরো উল্টো। নতুন দিনের হিসাব শুরু হয় মাঝরাতে। সূর্যাস্তের পর জেগে ওঠে শহর। প্রাণ পায় মানবজীবন। বিচিত্র এই জীবনযাত্রার ছক ২০৪০ সালের। কেননা, সে সময় দুনিয়া চলছে এক অদ্ভুত রহস্যময় ছন্দে। হয়তোবা এটাই এখন নতুন স্বাভাবিক। ১৪ বছর পরের দুনিয়ায় মানুষ চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য করবে রাতবিরাতে। নাইন টু ফাইভ ভবিষ্যতে মনে হয় দিনের নয়, বরং বোঝাবে রাতের ৯টা ৫টা। আসছে বছরের এই পূর্বাভাস দিয়েছেন কানাডার ভবিষ্যৎবিদ নিকোলাস ব্যাডমিন্টন। তার এ ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে যুক্ত করে আরও কিছু সম্ভাবনা নিয়ে ২০২৪ সালে একটি প্রতিবেদন করে যুক্তরাজ্যের পত্রিকা দ্য আই পেপার।
ব্যাডমিন্টনের এমন ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে রয়েছে একটি কারণ। সেটি জলবায়ু পরিবর্তন। আবহাওয়ার বিপর্যয়ের কারণে নতুন দিনের শুরু হবে মাঝরাতে। প্রচণ্ড গরম এড়াতে মানুষ রাতকেই বেছে নেবে কাজের প্রধান সময় হিসেবে। নৈশজীবন তখন আর শুধু বিনোদনের নয়, বরং অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। অফিসের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে কর্মজীবীরা ২০৪০ সালে দেখবেন চাঁদের আলো। রাতের বাজারগুলো হয়ে উঠবে সবচেয়ে বেশি সরগরম। দিনের আলো সংরক্ষিত থাকবে শুধু বিশ্রামের জন্য। ব্যাডমিন্টন বলেছেন, ‘আমরা এমন সব পূর্ণাঙ্গ অর্থনীতি দেখতে যাচ্ছি, যা গড়ে উঠবে নৈশকালীন কর্মীদের নিয়ে।’ ১৪ বছর পরের পূর্বাভাস ব্যাডমিন্টন একাই দেননি, দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎবিদ ট্রেসি ফলোস। তার ধারণা, ২০৪০ সালে ইতিহাসের ধুলোয় মিশে যাবে পুরো মাসের বেতন একবারে পাওয়ার প্রচলন। ফলোসের মতে, ভবিষ্যতে মাসিক বেতনের জায়গা দখল করবে মাইক্রোপেমেন্ট। প্রতিটি ছোট কাজের বিনিময়ে মুহূর্তের মধ্যে ডিজিটাল ওয়ালেটে জমা হবে কর্মীর অর্থ। প্রতি ঘণ্টায় কিংবা প্রতিটি কাজ শেষ হওয়ার এক সেকেন্ড পরই অ্যাকাউন্টে বেজে উঠবে পেমেন্টের নোটিফিকেশন। মানুষ তখন আর অপেক্ষা করবে না মাসের শেষের জন্য। বরং প্রতিমুহূর্তে তার পরিশ্রমের মূল্যায়ন হবে তাৎক্ষণিক। এ সম্ভাবনা নিয়ে ফলোস বলেছেন, ‘শ্রমিকদের ঘণ্টাপ্রতি, এমনকি প্রতি আধা ঘণ্টা বা ১৫ মিনিট অন্তরও মজুরি দেওয়া যেতে পারে।’



