মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বাবা-ভাইকে অপহরণ

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনিল কুমার ও তা ছেলে অচুকে উদ্ধার করে ভার্কালার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রতীকী ছবি
মেয়ের জন্য আসা বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার খেসারত এতটা নৃশংস হতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি ভারতের কেরালার এক বাবা। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তি ও তার ছেলেকে অপহরণ করে একদল যুবক। এরপর একটি ঘরে বন্দি রেখে তাদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেরালার তিরুবনন্তপুরম জেলার ভার্কালার কাছে নাগুরুরে ঘটে এই ঘটনা। এতে জড়িত সুধীশ, শামনাদসহ পাঁচ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, কেরালার ভাদাসেরিকোনামের বাসিন্দা অনিল কুমার তার মেয়ের সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত সুধীশের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর থেকেই অনিল কুমারকে টার্গেট বানায় সুধীশ। কাজের সুযোগ দেওয়ার নাম করে অনিল কুমারকে কৌশলে একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে ডেকে নেয় অভিযুক্তরা।
অনিল কুমার সেখানে পৌঁছামাত্রই তাকে একটি সাউন্ডপ্রুফ ঘরে বন্দি করা হয়। এরপর শিকল দিয়ে বেঁধে তার ওপর চালানো হয় নির্যাতন। পরবর্তীতে অনিল কুমারের ছেলে অচুকেও চাকুর মুখে জিম্মি করে সেই বাড়িতে আসতে বাধ্য করা হয়। তার ওপরও একই কায়দায় চালানো হয় নির্যাতন।
‘এই বিয়ে না হলে অনিল ও তার ছেলে অচুর গায়ে বিস্ফোরক বেঁধে মেরে ফেলা হবে। এমনকি অনিলের মেয়েকেও হত্যা করা হবে’, বাবা-ছেলেকে হুমকি সুধীশের।
তদন্তকারীদের ধারণা, দুষ্কৃতকারীরা অনিল কুমারের স্ত্রীকেও অপহরণ করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পুলিশের পদক্ষেপে তা ভেস্তে যায়। নির্যাতনের কারণে অনিল কুমারের এক হাত ভেঙে গেছে। আর অচুর আঙুলে মারাত্মক আঘাত লেগেছে।
নির্যাতনের একপর্যায়ে অচুর কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে ভার্কালার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ওই বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে হাতবোমা, আগ্নেয়াস্ত্র, শিকলসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।
সূত্র : গালফ নিউজ





