মনে হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কী অবাক কাণ্ড— কল্পনাকেও হার মানাবে বাস্তব! ভাবলেও শিউরে ওঠে গা! এক লাফে কপালে উঠে যায় চোখ! কী দিন আসছে সামনে! মাত্র ২০ বছরেই নাকি পাড়ি দেওয়া যাবে ৮০ হাজার বছরের পথ। প্রযুক্তি জগতের মুখে মুখে উড়ে বেড়ানো এই উদ্ভট-আজগুবি ‘বয়ান’ একেবারে গালগল্পও নয়! রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে সেই আওয়াজ তুলছেন এক বিজ্ঞানী।
সৌরজগতে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র ‘আলফা সেন্টরাই’। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় চার আলোকবর্ষের সমান। চলতি হিসাবে সেখানে পৌঁছতে লাগবে হাজারো বছর। সংখ্যায় বললে প্রায় ৮০ হাজার বছর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অজেয় এ দীর্ঘ পথ শিগগির জয় করবে মানুষ। এক ঝটকায় নেমে আসবে ২০ বছরে। কিন্তু কখন? আর কত বছর লাগবে সেই অবিশ্বাস্য গতি ধরতে; এখনো তার সঠিক দিশা পাননি বিজ্ঞানীরা। গবেষণা চলছে। ভবিষ্যৎ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চমকই হবে এই ‘লেজার লাইট প্রতিফলন যন্ত্র’।
চলতি বছরের এপ্রিলেই সে জানান দিয়েছে মার্কিন গবেষক দল। নিউটন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে বিজ্ঞানের এ ‘নবযাত্রা’র বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট ও অ্যাডভান্সড নেনোফোনেটিকসের গবেষকরা। দলের প্রধান হিসেবে ছিলেন ড. শউফেং লান। তাদের বক্তব্য, এবার খুঁজে পেয়েছেন ‘আলফা সেন্টরাই’ যাওয়ার রাস্তা। লেজার ব্যবহার করে দ্রুত বেগ পেতে সক্ষম মহাকাশযান। অবিশ্বাস্য সেই ‘পলক গতি’তে মাত্র ২০ বছরেই ছোঁয়া আলফা সেন্টরাইয়ের শরীর। গবেষণায় তারা ব্যবহার করেছেন আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণ। দীর্ঘ গবেষণায় তৈরি করা হয়েছে মানব চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম এক ডিভাইস। নাম ‘মেটাজেট’। লেজার লাইট নিক্ষেপ করে ডিভাইসটি এদিক-ওদিক ঘোরাতে পারেন গবেষকরা। তাদের মতে, এই আবিষ্কার বিশ্বে প্রথম। নিবন্ধে লিখেছেন, লেজারের তীব্র আলো পড়তেই ওপরের দিকে উঠে যায় ডিভাইসটি, যা মহাকাশযানকে দেবে উচ্চগতি।




