সিএসএসের গবেষণায় ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক
- শিশুদের পণ্যেও মিলল ক্ষতিকর কণা

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৬টি টুথপেস্টে পাওয়া গেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক। ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৬টি টুথপেস্টে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ভোক্তা অধিকার ও সচেতনতাবিষয়ক সংগঠন কনশাস কনজিউমারস সোসাইটি (সিএসএস)। সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণার ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। গবেষণায় পরীক্ষা করা প্রতিটি টুথপেস্টেই বিভিন্ন মাত্রায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সিএসএসের গবেষণা বলছে, পরীক্ষাধীন টুথপেস্টের প্রতি ১০০ গ্রাম নমুনায় সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। সংগঠনটির মতে, প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার মতো সাধারণ অভ্যাসের মাধ্যমে অজান্তেই মানুষ এসব ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণার সংস্পর্শে আসছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
গবেষণায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে, যেখানে প্রতি ১০০ গ্রাম নমুনায় ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্লোজ আপ রেড হট এবং ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ। দুটি টুথপেস্টেই ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি এবং পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে সিএসএস জানিয়েছে, শিশুদের জন্য তৈরি টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জে ২০টি কণা পাওয়া গেছে। শিশুদের অনেক সময় টুথপেস্ট গিলে ফেলার প্রবণতা থাকায় বিষয়টি অভিভাবকদের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
গবেষণায় আরও যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট, পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং, মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা, এএম.পিএম. হার্বাল টুথপেস্ট, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক প্লাস, ম্যাজিক হার্বাল, মেসবাক, ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশে, ডেন্টিন জেল টুথপেস্ট, ক্লোজ আপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল এবং হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ।
চিকিৎসকদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মুখের ক্ষতের মাধ্যমে সরাসরি রক্তপ্রবাহে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া এটি পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে লিভার, কিডনি এবং হরমোনজনিত বিভিন্ন জটিলতার কারণ হতে পারে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভোক্তা সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং সংশ্লিষ্ট মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত এসব টুথপেস্টের মান পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাজার তদারকি জোরদার করা উচিত।
সিএসএস চিহ্নিত ২৬টি টুথপেস্ট ও প্রাপ্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ:
১. মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেল: ৩২০টি কণা
২. ক্লোজ আপ রেড হট: ১৬০টি কণা
৩. ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ: ১৬০টি কণা
৪. কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরি: ১৪০টি কণা
৫. সিগন্যাল গ্রিন টি: ১২০টি কণা
৬. পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট: ১০০টি কণা
৭. হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার: ১০০টি কণা
৮. সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট: ৮০টি কণা
৯. পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট: ৬০টি কণা
১০. হোয়াইট প্লাস রেড: ৬০টি কণা
১১. হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল: ৬০টি কণা
১২. মেরিল বেবি-স্ট্রবেরি: ৬০টি কণা
১৩. সিগন্যাল হোয়াইটেনিং: ৬০টি কণা
১৪. মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা টুথপেস্ট: ৬০টি কণা
১৫. এএম.পিএম. হার্বাল টুথপেস্ট: ৪০টি কণা
১৬. মেডিপ্লাস ডিএস: ৪০টি কণা
১৭. পেপসোডেন্ট জার্মিচেক+: ৪০টি কণা
১৮. মেরিল বেবি-অরেঞ্জ: ৪০টি কণা
১৯. ম্যাজিক হার্বাল: ৪০টি কণা
২০. মেসবাক: ৪০টি কণা
২১. ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশে: ৪০টি কণা
২২. ডেন্টিন জেল টুথপেস্ট: ২০টি কণা
২৩. পেপসোডেন্ট কিডস-অরেঞ্জ: ২০টি কণা
২৪. ক্লোজ আপ লেমন সি সল্ট: ২০টি কণা
২৫. ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল: ২০টি কণা
২৬. হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ: ২০টি কণা




