সমুদ্রের অণুজীব থেকে জৈবপ্রযুক্তি

প্রোটিন এবং উচ্চ তাপমাত্রার সম্পর্ক তেমন একটা মধুর নয়। একে ওপরের আশপাশে এলে ব্যাপারটা হয় বেশ ধ্বংসাত্মক। সাধারণত উচ্চতাপ প্রোটিন অণুগুলোকে প্রদান করে গতিশক্তি। এই দ্রুতগতির কারণে প্রোটিনের দুর্বল নন-কোভ্যালেন্ট বন্ধনগুলো, যেমন হাইড্রোজেন বন্ধন এবং ভ্যান ডার ওয়ালস বল, ভেঙে যায়। প্রকৃতি ও রসায়নে এটি অনেক স্বাভাবিক। তবে সম্প্রতি ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর মেরিন মাইক্রোবায়োলজির নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর তথ্য। বিজ্ঞানী দল এমন একটি গভীর সমুদ্রের অণুজীব আবিষ্কার করেছেন যেটি ব্যবহার করে অত্যন্ত তাপ-সহনশীল এক এনজাইম। সেই এনজাইম দিয়ে অণুজীবটি বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেনকে রূপান্তরিত করে অ্যামোনিয়ায়। অর্থাৎ উচ্চ তাপমাত্রা অধিকাংশ প্রোটিনকেই ধ্বংস করে দিলেও এই বিশেষ এনজাইমকে করতে পারে না ধ্বংস। ভবিষ্যতে বিশেষ এই ধরনের অণুজীব থেকে সম্ভব সার উৎপাদন। সায়েন্স ডেইলির গত শনিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রের এই অণুজীব পরিবেশবান্ধব জৈবপ্রযুক্তি ও সার উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। কেননা, অণুজীবরা সক্ষম অসাধারণ কিছু রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। এর একটি উদাহরণ হলো নাইট্রোজেন সংবন্ধন বা নাইট্রোজেন ফিকসেশন। এটি একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নাইট্রোজেন গ্যাস এমন এক রূপে রূপান্তরিত হয়, যা জীবেরা প্রকৃতপক্ষে ব্যবহার করতে পারে।



