এবং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাসায় কিছু হারালে আমি প্রথমে জিনিসটা খুঁজি না। প্রথমে নিজের ওপর রাগ করি। তারপর রেগে ফোঁসফাঁস করে বলি, ‘জিনিসটা আমি এখানেই রেখেছিলাম।’ কথাটা বলার মধ্যে এমন একটা আত্মবিশ্বাস থাকে, যেন চোখের সামনে সবকিছু দেখছি। কিন্তু যা খুঁজছি, সেটাই নেই। তখন শুরু হয় দ্বিতীয় ধাপ। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ, ‘কেউ এটা এখান থেকে সরিয়েছ?’
সবাই বলে, ‘না’।
অবশ্য কেউ স্বীকার না করাটাই স্বাভাবিক। জিনিসটা যদি সত্যিই কেউ সরিয়ে থাকে, এত সহজে স্বীকার করার কথা নয়। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। ড্রয়ার খুলি। আলমারি খুলি। টেবিলের ওপরের সবকিছু নামিয়ে ফেলি। একটা সময় এমন জায়গায়ও খুঁজি, যেখানে জিনিসটা থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারপরও মনে হয়, ‘দেখি, যদি থাকে!’
হারানো জিনিসের ক্ষেত্রে মানুষের যুক্তি খুব দুর্বল। জিনিসটা যদি টেবিলে থাকার কথা হয়, আমরা প্রথমে টেবিলের নিচে দেখি। তারপর ড্রয়ারে। তারপর আলমারিতে। শেষে ফ্রিজেও দেখা হয়ে যায়। যদিও জিনিসটা সেখানে থাকার কোনো কারণ নেই।
একবার আমার একটা কাগজ হারিয়ে গেল। খুব দরকারি কাগজ। পুরো বাসা তোলপাড় করে ফেললাম। পুরনো ফাইল বের হলো। বইয়ের তাক এলোমেলো হলো। এমনকি কয়েকটি বই উল্টেপাল্টে দেখলাম। কোথাও পাওয়া গেল না।
শেষ পর্যন্ত কাগজটা পাওয়া গেল আমার টেবিলেই। অন্য কাগজের নিচে চাপা পড়েছিল। তবে কাগজটা ফিরে পেয়ে আমার অনুভূতি আনন্দের নয়; বরং অপমানের হলো। এতক্ষণ পুরো বাসার ওপর সন্দেহ করেছি। ড্রয়ার খুলেছি। আলমারি খুলেছি। স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছি। অথচ কাগজটা শুরু থেকেই আমার সামনে ছিল।
তারপরও খুঁজে পাওয়ায় স্বাভাবিক গলায় বললাম, ‘জানতাম, এখানেই আছে।’ হারানো জিনিস পেলে এই একটা কথা মানুষ খুব বলে। জিনিসটা খুঁজে পাওয়ার আগে সে কিছুই জানত না। পাওয়ার পর সব জানে।
মানুষের স্মৃতিশক্তি বোধহয় এমনই। জিনিস হারালে স্মৃতি বলে, ‘মনে নেই।’ জিনিস পাওয়া গেলে স্মৃতি বলে, ‘আমি তো জানতাম।’
আমরা জিনিস হারাই, তারপর খুঁজতে খুঁজতে বুঝি— আমাদের সবচেয়ে অগোছালো জিনিসটা আসলে স্মৃতি।



