মনে হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রোগবালাইয়ের অন্ত নেই মানুষের। এর মধ্যেই অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি আছে, যার জন্য পুরো অঙ্গটাই ফেলে দিতে হয় শরীরের। ডাক্তার যদি বলে বসেন কালকেই অপারেশন করে কিডনি পাল্টাতে হবে, তাহলে তো মাথায় হাত। এক রাতে দাতা জোগাড়, আবার সঙ্গে নানা প্রাসঙ্গিক টেস্ট। তবে এমন একটি দিন আসবে, যখন হাসপাতালে বেডের পাশেই এক প্রিন্টার থেকে বের হবে কিডনি, যেটি কাল অপারেশন থিয়েটারে বসবে দেহের ভেতর। থ্রিডি প্রিন্টার! মেডিকেল বিশ্বে এটি হবে কালের সবচেয়ে বড় অগ্রসর। ২০২৩ সালে সিএনএনকে সেই ভবিষ্যদ্বাণীই দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিস ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যালি ইনসপায়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক জেনিফার লুইস।
থ্রিডি অর্গান প্রিন্টিং বা বায়োপ্রিন্টিং হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যা বিশেষ থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে একেবারে শূন্য থেকে জীবন্ত মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি করে। প্রিন্টারটি প্লাস্টিকের পরিবর্তে জীবন্ত কোষ ও পুষ্টি উপাদান দিয়ে তৈরি এক ধরনের জেল-সদৃশ তরল ব্যবহার করে। স্যান্ডউইচের মতো স্তরে স্তরে কাজ করে, যতক্ষণ না একটি কার্যকরী অঙ্গ বা কলা তৈরি হয়। অঙ্গ প্রতিস্থাপনে এ উদ্ভাবন আনুমানিক কোন বছরে আসবে, তা অবশ্য আঙুল দেখিয়ে জানান দেননি লুইস। তবে আসছে দশকের মধ্যেই ডোনার না পাওয়া রোগীদের থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং অঙ্গ পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে এ নিয়ে একটি বড় ধরনের গবেষণাও করেন তিনি। সেখানে দেখানো হয় কীভাবে এ কৃত্রিম প্রিন্ট করা অঙ্গ কাজ করবে হুবহু আসল মানব অঙ্গের মতোই। বায়োপ্রিন্টিংয়ের এ প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হবে রোগীর নিজের কোষ। থ্রিডি মডেলের প্রতিটি ধাপে ধাপে থাকবে বায়োমেটেরিয়াল (জৈব উপাদান), যেটি যেকোনো অঙ্গের স্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি এবং কার্যক্ষমতায় ভূমিকা রাখবে। একই প্রযুক্তি ব্যবহার হবে ওষুধ তৈরিতেও।
ভবিষ্যৎ মেডিকেলে থ্রিডি প্রিন্টিং এলে, তা সবচেয়ে বেশি আশাজনক হবে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের রোগীদের জন্য। লুইসের গবেষণা অনুযায়ী, কিডনি সংকটে রয়েছেন বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি মানুষ।




