যে শহরের আয়ুষ্কাল বছরে দুই মাস

সংগৃহীত ছবি
পাহাড় কিংবা সমুদ্রসৈকতের টানে মানুষ কত জায়গায়ই না ঘুরতে যায়। তবে পৃথিবীতে এমন এক শহর আছে, যার অস্তিত্ব টিকে থাকে বছরের মাত্র অল্প কিছু দিনের জন্য। বসন্তের ছোঁয়া লাগতেই পুরো শহরটি যায় বিলীন হয়ে।
প্রতি শীতকালে চীনের উত্তরের শহর হারবিনের এক জমে যাওয়া নদী থেকে হাজার হাজার বরফের টুকরো কেটে তৈরি করা হয় এক চোখ ধাঁধানো নগরী। সেখানে গড়ে ওঠে বরফের দুর্গ, প্রাসাদ আর অনন্য সব ভাস্কর্য।
তবে সূর্যের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই মায়াপুরী গলে পরিণত হয় পানি। প্রকৃতির এই ক্ষণস্থায়ী রূপ দেখতে প্রতিবছর লাখো মানুষ ভিড় করেন বরফের এই অস্থায়ী রাজ্যে।
চীনের হেইলুংচিয়াং প্রদেশের রাজধানী হারবিন দেশটির অন্যতম শীতলতম অঞ্চল। প্রতি শীতকালে এখানকার হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পী ও প্রকৌশলীরা বরফ দিয়ে তৈরি করেন এক আস্ত শহর। যা বিশ্বজুড়ে হারবিন আইস অ্যান্ড স্নো ওয়ার্ল্ড নামে পরিচিত।
এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বরফ ও তুষারভিত্তিক থিম পার্ক। এখানকার সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী। বরফ খোদাই করে বানানো বিশাল প্রাসাদ, বরফের তৈরি সুড়ঙ্গ আর বিশালাকার স্লাইড মুগ্ধ করে পর্যটকদের।
এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত স্থাপত্যের হুবহু প্রতিরূপও তৈরি করা হয় এই বরফ দিয়ে। শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে এই তুষারনগরী ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়। পরবর্তী শীতের আগে এর আর কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট থাকে না এই শহরের।
দিনের বেলার চেয়ে হারবিনের আসল আকর্ষণ শুরু হয় সূর্য ডোবার পর। রাতের অন্ধকার নামতেই স্বচ্ছ বরফের স্থাপনাগুলোর ভেতর থেকে জ্বলে ওঠে হাজার হাজার রঙিন এলইডি আলো। নীল, গোলাপি, সবুজ আর বেগুনি রঙের সেই আলোতে পুরো অবয়বটি যেন কোনো রূপকথার রাজ্য সিলভার স্ক্রিনে ফুটিয়ে তোলে।
এই মায়াবী দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আলোকচিত্রীরা ছুটে আসেন। কেবল বরফের রূপ দেখাই নয়, সান আইল্যান্ডে বিশাল তুষার ভাস্কর্য দেখা, স্কেটিং করা এবং বরফের স্লাইডে মেতে ওঠার সুযোগ মেলে এখানে।
শহরটিতে চীনা সংস্কৃতির পাশাপাশি দেখা যায় রুশ স্থাপত্যের এক দারুণ মেলবন্ধন। এখানকার স্থানীয় দংবেই খাবার কনকনে ঠাণ্ডায় পর্যটকদের শরীরে জোগায় উষ্ণতা।
উনিশ শতকের শেষের দিকে এবং বিশ শতকের শুরুতে চাইনিজ ইস্টার্ন রেলওয়ে নির্মাণের পর দ্রুতই বিকাশ ঘটে এই শহরের। তখন বিশেষ করে রাশিয়া থেকে প্রচুর মানুষ এখানে এসে স্থাপন করেন বসতি। যার প্রভাব আজও এখানকার চার্চ ও খাবারে স্পষ্ট।
সাধারণত ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির শুরুতে এই উৎসব শুরু হয়ে চলে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত। তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় জানুয়ারি মাসকেই ধরা হয় এই ভাস্কর্যগুলো দেখার সেরা সময় হিসেবে।
সূত্র : এনডিটিভি







