সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২০১০ সাল। দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রতিটি বিশ্বকাপেই বিশ্ব কাঁপে। কিন্তু সেই বিশ্বকাপটি শুধু কাঁপুনিতেই থেমে থাকেনি, রীতিমতো ঝড় নিয়ে আসেন এক সংগীতশিল্পী। এখনকার সময়ের মতো তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার যুগ ছিল না। তারপরও একটি গান হয়ে ওঠে ভাইরালের চেয়েও ভাইরাল। বিশ্ববাসীর মুখে মুখে ফেরে ‘ওয়াকা ওয়াকা— দিস টাইম ফর আফ্রিকা’। মুহূর্তেই হৃদয়ে ঠাঁই পেয়ে যান কলম্বিয়ান পপতারকা শাকিরা ইসাবেলা মেবারাক রিপোই। এত বড় নাম কি মুখে আসে? তাই ‘শাকিরা’ই সই। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং গাওয়া তার। এলেন, গাইলেন, মন জয় করলেন। আফ্রিকান সুর, দুর্দান্ত নাচ আর ফুটবলীয় আবেগের কারণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেটি জায়গা করে নিয়েছে অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক শোনা গান হিসেবে। পরের আসরে ২০১৪ সালেও ব্রাজিলে দেখা মেলে শাকিরার। সবার মুখে মুখে ‘লা লা লা’।
এরপর দীর্ঘ বিরতি। এক যুগ পর আবার ফিরে এলেন তিনি মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে গাইলেন অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’। নিশ্চয়ই এবার সবাই গাইবেন, ‘দাই দাই’।
অনেকের মনে প্রশ্ন, বারবার কেন শাকিরা? প্রশ্নটা অযৌক্তিক নয়। তবে এর পেছনে একটি যুক্তি দাঁড় করা যেতেই পারে। এই যেমন: ঈদ মানেই আনন্দ। তবে কাজী নজরুল ইসলামের ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি ছাড়া কি বাঙালির ঈদের আনন্দে ঢেউ লাগে? লাগে না। সুতরাং ঈদ মানেই নজরুল, বিশ্বকাপ মানেই শাকিরা।
আরবিতে ‘শাকিরা’ নামের অর্থ ‘কৃতজ্ঞ’। বিশ্বকাপ তো বটেই, বিশ্ববাসীও কৃতজ্ঞ শাকিরার প্রতি। এমন করে বিশ্ব আয়োজনকে আর কে মাতিয়ে তুলেছেন আগে?




