যদি

হামে মারা গেল পাঁচ শতাধিক শিশু। খুব অবহেলায় ঝরে গেল দেশের এতগুলো ভবিষ্যৎ। যদি ঠিক সময়ে টিকা দেওয়া হতো, তাহলে এত এত মৃত্যু দেখতে হতো না দেশকে। কে জানে, এই শিশুদের মধ্যে হয়তো কেউ মানবিক চিকিৎসক হতে পারত, কেউ সেরা উদ্ভাবক, কেউ স্বপ্নদ্রষ্টা লেখক, কেউ বিশ্বখ্যাত অভিনেতা, কেউ-বা দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি। শেষ, সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে এত দিনে সবাই জেনে গেছে, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশে আবার ফিরে এসেছে হামের সংক্রমণ। তবে সেসব দেশে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি হয়নি। তাই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ কেন এসব মৃত্যু ঠেকাতে পারছে না? কেন থামছে না এই মৃত্যুর মিছিল? এ বিষয়ে নজর দেওয়া এখন খুবই জরুরি। তা তো হচ্ছেই না, বরং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রেখে চলছে পাল্টাপাল্টি বিতর্ক, একে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর নোংরা সংস্কৃতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামে দেশে এখনো যেভাবে শিশুমৃত্যু হচ্ছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শুধু আইসিইউর দিকে ছুটছে সরকার। কিন্তু আগে ঠেকাতে হবে হামের প্রবণতা। সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি চলায় সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং সংক্রমণ কমলে মৃত্যুর সংখ্যাও কমবে বলে আশাবাদী সরকার। কিন্তু সেটি কবে, কখন থেকে? একটি মৃত্যুই যেখানে কাম্য নয়, সেখানে প্রতিদিন সংখ্যা হয়ে যাচ্ছে শিশুরা।
কোনো মহামারী রাতারাতি ঘটে না। বিশেষ কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এমন পরিস্থিতি দেখা দেয়। বিশেষ করে, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে। যদি এই মৃত্যুর মিছিল থামাতে হয়, তবে কুতর্ক রেখে কাজ করতে হবে ফলপ্রসূ। এটি সবার জন্য প্রযোজ্য।






