যদি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
উপসংহারের পথে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া ছয় শিশুর পরিবারের গল্প। সমঝোতা হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ৮০ লাখ টাকা করে দিতে সম্মত হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী এবং শিশুদের পরিবারের আইনজীবী শিশির মনিরের মাধ্যমে এ কথা জানতে পারল দেশবাসী। তার মানে প্রত্যেক শিশুর জীবনের মূল্য ৮০ লাখ টাকা।
একটু ঘুরে আসা যাক নরওয়ে থেকে। অহেতুক প্রসঙ্গ নয়। একটি তথ্য শেয়ার করতেই এ প্রসঙ্গের অবতারণা।
নরওয়ের শিশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, চরম অবহেলার শিকার শিশুদের রক্ষায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে রাষ্ট্র। তাদের রক্ষা করতে কাজ করে দেশটির সরকারি সংস্থা ‘বারনেভার্নেট’ (Barnevernet)। সেখানে শিশুদের প্রতি সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক আঘাত সম্পূর্ণ বেআইনি, শাস্তি ভয়াবহ। যেখানে শিশুদের মনে কষ্ট দেওয়াই গুরুতর অপরাধ, সেখানে শিশুদের মেরে ফেলার শাস্তি কী হতে পারে, তা আর উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে কি?
ফিরে আসা যাক আদ্-দ্বীন হাসপাতালে। সেখানকার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু নিছন কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। বরং শুরুতে ধামাচাপা দিতে যাওয়া সেই ঘটনাটি তুমুল আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার প্রমাণ পায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি। কড়া হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তদন্তে প্রমাণিত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের শাস্তি অনিবার্য। কিন্তু কী দেখা গেল? অপরাধ প্রমাণিত, কিন্তু শাস্তি অর্থদণ্ড। কোনো গ্রেপ্তার নেই, কারাদণ্ড নেই।
যাদের পেটে তিলে তিলে ভ্রূণ থেকে বেড়ে উঠেছিল সেই সব দেবদূত, যদি একে একে সেই গর্ভধারিণীদের জিজ্ঞাসা করা হয়, এই অর্থদণ্ডে কতখানি সন্তুষ্ট তারা, কী উত্তর মিলবে? সেই মায়েদের হৃদয় কি ওই টাকায় সারিয়ে দিতে পারবে তাদের হারানো নবজাতকের শোক? মনে হয় না। পৃথিবীর তাবৎ অর্থ একসঙ্গে জমা করলেও এর এক আনা মূল্য পরিশোধ হওয়ার নয়।
শিশুগুলো পৃথিবীর আলো দেখতেই এসেছিল। কিন্তু ভুল সময়ে ভুল দেশে জন্ম হলো তাদের। ভাগ্যিস, দেশটি নরওয়ে নয়। যদি হতো, তাহলে কী যেন হতো।




