সম্ভবত

পা বাড়ালেই মহাকাশ! হাত বাড়িয়ে রোদ্দুর ধরার মতোই অনেকটা। চলন্ত সিঁড়িতে চীনের হুনান প্রদেশের ন্যাশনাল পার্কের আকাশমুখী পাহাড়টায় ওঠার মতোই। ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে উঠে যাচ্ছে ১ হাজার ৭০ ফুট উঁচু পাহাড়ি চূড়ায়! ঠিক এমনই এক সিঁড়িতে চড়েই নাকি মহাকাশ ছোঁবে মানুষ। ১০০ বছর আগেই এই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎবক্তা মিশিও কাকুর। পেশায় পদার্থবিদ এই বিজ্ঞানীর দূরদর্শনে ধরা পড়েছে মহাকাশ ছোঁয়ার সেই মহাবিস্ময়। তার মতে, ২০৭০ থেকে ২১০০ সালের মধ্যেই আবিষ্কার হতে পারে এই ‘চলন্ত সিঁড়ি।
কাকুর এই আন্দাজের সম্পর্কে প্যাট্রিক জে কিগার লিখেছেন তার ‘বিজ্ঞান বিশ্বে পাঁচ ভবিষ্যদ্বাণী’ আর্টিকেলে। বড় মহাকাশযানে নয়। উচ্চ দালানে কেনাকাটা করতে যাওয়া বা বহুতল রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়ার মতোই ‘হরহামেশা’ কাণ্ড হয়ে উঠবে মানুষের ভবিষ্যৎ মহাকাশযাত্রা। সিঁড়িতে দাঁড়ালেই পৌঁছে যাওয়া যাবে মহাকাশে। যত সহজে পৌঁছানো যাবে, ফিরেও আসা যাবে তত সহজেই। কী দারুণ ব্যাপার তাই না!
১৮৯৫ সালে প্রথম চলন্ত সিঁড়ির ব্যাপার মাথায় আসে রুশ পদার্থবিদ কন্সতান্তিন সিওলকোভস্কির। এমন এক জাদুর বাহনের প্রস্তাব সে সময়ই দিয়েছিলেন তিনি। ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার দেখে তার এই প্রস্তাবনা। পরে একই সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করেন রুশ মহাকাশচারী ও সায়েন্স ফিকশন লেখক ইউরি আর্টসুতানভ।
২০০২ সালে নাসার এক গবেষণায় ড. ব্র্যাড এডওয়ার্ডস প্রকাশ করেন টেকসই, নমনীয় কেবল ও স্পেস স্টেশনে বিপরীত দিকে ভার ব্যবহার করে চলন্ত সিঁড়ি বানানো সম্ভব। নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব এই সিঁড়ির বিপক্ষে গেলেও বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কেবল ও নেনোটিউব দিয়ে তাদের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিযোগিতা
মহাকাশে যাওয়ার আশা থেকে পিছিয়ে নেই কেউই। হয়তো যাওয়া যাবে— তা ভেবেই সিঁড়ি নকশা করছেন অনেকে। অংশগ্রহণ করছেন নকশা প্রতিযোগিতায়। প্যারিসের জ্যাক রুগেরি ফাউন্ডেশন এমন মহাকাশযাত্রার বাহন নকশার প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকে। সেখানেই ২০২৪ সালে ১০ হাজার পাউন্ড জিতেছেন কুমব্রিয়ার নির্মাতা, জোর্ডান উইলিয়াম হিউজ। তার মতে, এই নকশা এখন আজব মনে হলেও ভবিষ্যতে কাজে আসবে। আর্কিটেক্ট হিসেবে কাজ করেন লন্ডনে। কাজের ফাঁকে করেন মহাকাশযানের নকশা।






