সম্ভবত

স্কুল-কলেজ মানেই ছয় ঘণ্টা ক্লাস। ব্যাগভর্তি বইখাতা। ক্লাস টেস্টের আতঙ্ক। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, খুনসুটি। খোলা মাঠে দৌড়াদৌড়ি। আর লেকচারের মধ্যে প্রতিদিনের প্রশ্ন, ‘স্যার! এটা কি পরীক্ষায় আসবে?’ শিক্ষাপদ্ধতির এ হাজার বছরের পুরনো ধারা নাকি একেবারে গায়েব হয়ে যাবে শিগগির! ২০৫০ সালেই! পরীক্ষার নাম-গন্ধও থাকবে না সে সময়। আসছে দুনিয়ার পড়াশোনা নিয়ে এমন পূর্বাভাসই দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎবিদ ট্রেসি ফলোস। ২০২৬ সালে অস্ট্রিয়ার এডুটেক কোম্পানি ‘গো স্টুডেন্ট’র সঙ্গে এক গবেষণায় ভবিষ্যতের শিক্ষাদীক্ষা ও জ্ঞানার্জন সম্পর্কে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
হাতে-কলমে পড়ালেখা নাকি একেবারেই থাকবে না ২৪ বছর পরের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে। কে কোন বিষয়ে পড়বে, তা জন্মের পরেই জানিয়ে দেবে উন্নত প্রযুক্তি। আজকের মতো ক্লাস টেস্ট, মিডটার্ম, ফাইনালের জঞ্জালও থাকবে না। একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়ালেখা করছে কি না, তার খবর রাখবে ক্লাসরুমে থাকা এআই। নম্বর ও গ্রেডিং হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে করা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে।
গবেষণা অনুযায়ী বর্তমানে যুক্তরাজ্যের জেন-জি বিশ্ববিদ্যালয়গামী ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা তাদের কর্মজীবনের জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতের অধিকাংশ চাকরি যুক্ত থাকবে প্রযুক্তির সঙ্গে। এ বিষয়ে ফলোসেরও একই মত। জীবনের অনেক অংশ যেমন— স্বাস্থ্য খাত, কৃষি, স্মার্টফোন, যাতায়াতের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রবেশ করবে ২০৫০ সালের শিক্ষা খাতে। শিক্ষকদের ওপর চাপ কমাতে তাদের পাশেই বড় বড় লেকচার দেবে এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার জন্যও নিয়োজিত থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তার ভবিষ্যদ্বাণীতে ফলোস অবশ্য দিয়েছেন একটি চমৎকার পূর্বাভাস। জানিয়েছেন ২৪ বছর পর নিজের অপছন্দের কোনো বিষয় নিয়ে কেউ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে না। সবাই নিজের পছন্দ এবং নিজে যে বিষয়ে বেশি পারদর্শী এমন কিছুতেই ডিগ্রি শেষে কাজে যোগ দেবে। কোন শিক্ষার্থী কীসে ভালো করবে, সেটিও জানা যাবে ছোটবেলায়। স্কুলে ভর্তির আগেই। আজকের একটি ৫০/১০০ জনের ক্লাসরুম ২৪ বছর পর হবে পুরনো দিনের কথা।




