হয়তো

মানুষের মৃত্যু হবে, কিন্তু শেষ হবে না তার অস্তিত্ব! একজন ব্যক্তি পৃথিবী ত্যাগ করার পরও তার কণ্ঠ, চিন্তা, ব্যক্তিত্ব— সবই বেঁচে থাকবে কৃত্রিম শরীরে। ধাতু ও প্রোগ্রামের তৈরি রোবটে বাস করবে সে। ভবিষ্যতে শুধু রক্ত-চামড়ার তৈরি দেহ সংখ্যায় কমে যাবে, তা কিন্তু না। তার সঙ্গে নাই হয়ে যাবে পকেটের স্মার্টফোন। বর্তমানের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে বসবাসের দালান। এগুলোই ২০৬৪ সাল নিয়ে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎবিষয়ক গবেষক ইয়ান পিয়ারসনের পূর্বাভাস। তার কাছে আগামীর বিশ্ব নিয়ে ২০১৪ সালে নানা সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চায় সে দেশেরই সংবাদমাধ্যম ‘রেডিও ফ্রি ইউরোপ’। সেসময় পিয়ারসন তুলে ধরেন কিছু চমকপ্রদ সম্ভাবনার কথা।
তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণের চাপে গড়ে উঠতে পারে বিশাল মেগাসিটি।
কোনো কোনো শহরে বসবাস করতে পারে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ। জায়গার সংকট মোকাবিলায় নির্মিত হতে পারে কয়েক কিলোমিটার উঁচু ভবন। গ্রাফিনের মতো শক্তিশালী ও হালকা উপাদান এসব স্থাপনা নির্মাণে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পিয়ারসনের মতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও আসবে বড় ধরনের পরিবর্তন। স্মার্টফোনের জায়গা নিতে পারে কানের দুল বা নাকের অলংকারের মতো ছোট প্রযুক্তিপণ্য। বিশেষ কনট্যাক্ট লেন্সের মাধ্যমে চোখের সামনেই দেখা যাবে ডিজিটাল ছবি, তথ্য ও ভিডিও। হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বিভিন্ন যন্ত্র। তবে পিয়ারসনের সবচেয়ে বিস্ময়কর পূর্বাভাস মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে। উন্নত কৃত্রিম ত্বক ও পলিমার প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হতে পারে পুরো মানুষের মতো দেখতে রোবট। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনেও বাড়তে পারে তাদের উপস্থিতি। এমনকি যেকোনো মানুষের চিন্তা, ব্যক্তিত্ব, আবেগ সব মিলিয়ে বানানো যাবে সেসব মানুষ আকৃতির রোবট। অর্থাৎ, তার মতে, ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রম কম্পিউটারে স্থানান্তরের প্রযুক্তি। এতে সম্ভাবনা রয়েছে স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব কৃত্রিম শরীরে সংরক্ষণের বিষয়টি। ফলে জৈবিক শরীরের মৃত্যু হলেও ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষের পরিচয় টিকে থাকতে পারে। সব মিলিয়ে, পিয়ারসনের কল্পনায় ২০৬৪ সাল এমন একসময়, যখন প্রযুক্তি শুধু মানুষের জীবনযাত্রাই নয়, বদলে দিতে পারে মানুষের অস্তিত্বের প্রচলিত সংজ্ঞাও।



