ডেঙ্গু চিকিৎসায় পেঁপে পাতা কি সত্যিই কাজ করে?

প্রতীকী ছবি
বর্ষা এলেই আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায় ডেঙ্গুর প্রকোপ। রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করায় চিকিৎসাসহ সুস্থতার সময় কমানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ওঠে নানা প্রশ্ন। ডেঙ্গু হলে দ্রুত কমতে থাকে রক্তের প্লাটিলেট।
এমন পরিস্থিতিতে প্লাটিলেট বাড়াতে ঘরোয়া উপায় হিসেবে তাজা পেঁপে পাতার রস খাওয়ার প্রচলন বহু পুরোনো। বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও পাওয়া গেছে এই দাবির সত্যতা ও কার্যকারিতা।
নিউট্রিয়েন্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, তাজা পেঁপে পাতার রস সাহায্য করে ডেঙ্গু রোগীদের দ্রুত হ্রাস পাওয়া প্লাটিলেট বাড়াতে।
তবে এই পাতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে থাকতে হবে সতর্ক। কারণ প্রকৃতির তাজা পেঁপে পাতায় থাকতে পারে ধুলাবালি, জীবাণু ও পোকামাকড়। তাই পাতা ভালোভাবে পরিষ্কার না করে রস খাওয়া বাড়াতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ডেঙ্গুর একটি মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্ত কণিকা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া। এর ফলে হতে পারে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া। রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করার অন্যতম প্রধান কারণই এটি। তাই উচিত হবে না ল্যাব পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ ছাড়া শুধু প্রাকৃতিক উপায়ের ওপর ভরসা করা।
বিজ্ঞানীদের মতে, পেঁপে পাতার নির্যাসে ভূমিকা রাখে অ্যালক্স-১২ এবং পিটিএএফআর নামের দুটি বিশেষ জিন। যা সহায়তা করে লাল রক্তকণিকা ও প্লাটিলেট তৈরিতে।
বিএমসি কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিন ও প্লস ওয়ান সাময়িকীর গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপে পাতার নির্যাস সাহায্য করে রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা ৫০ হাজার অতিক্রম করতে। তবে এটি সীমিত সংখ্যক রোগীর ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে। তাই আরও বড় পরিসরে প্রয়োজন রয়েছে গবেষণার।
তবে পেঁপে পাতা কিন্তু ডেঙ্গুর মূল চিকিৎসার ওষুধ নয়। এটি কেবল একটি সহায়ক উপাদান হিসেবে প্লাটিলেট বাড়াতে কাজ করে। এর মাত্রা ও খাওয়ার সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। অতিরিক্ত তিতা হওয়ায় এটি খেতে সমস্যা হতে পারে অনেকের।
এ ছাড়া পেঁপে পাতার রসেও রয়েছে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। যেমন : পেট খারাপ, বমি বমি ভাব, এলার্জি এবং গর্ভবতী মায়েদের জন্য শারীরিক ঝুঁকি। তাই ডেঙ্গু হলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে শুরুতেই নেওয়া জরুরি চিকিৎসকের পরামর্শ।
সূত্র : এনডিটিভি







