বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রযুক্তির উদ্ভাবনে মানুষের জীবন হয়ে উঠছে স্মার্ট। কমে আসছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা। প্রতিদিন রাস্তা দেখিয়ে দেয় জিপিএস। কখন কী দেখতে হবে, তা বলে দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম। গল্প লিখে দেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এমনকি কোন কাজে কী সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হবে, সেটিও বলে দিচ্ছে এআই। ধীরে ধীরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি। তবে এই সুবিধার সঙ্গে তৈরি হচ্ছে ঝুঁকিও। কেননা, অনেকেই বিচার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ওপর ঝুঁকে পড়ছে। এতে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের ক্ষমতা হারাচ্ছেন অনেকেই। ভবিষ্যতে মানবজাতি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি এআইয়ের ওপর ঝুঁকতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
২০৩৫ সালে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাটি কেমন হতে পারে, তা জানতে একটি জরিপ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইলন বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘ইমাজিনিং দ্য ইন্টারনেট সেন্টার’ এবং পিউ রিসার্চ সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। জরিপে উঠে আসে, ৫৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, ২০৩৫ সালে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সমস্যায় পড়তে পারে। তারা ছোট-বড় যেকোনো বিষয় বিবেচনায় নিতে পারে প্রযুক্তির সাহায্য। বাকি ৪৪ শতাংশ এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশ আশাবাদী। তাদের মতে, প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক না কেন, মানুষ তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কখনোই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করবে না। ইলন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জরিপে অংশ নেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তাদের একজন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অধ্যাপক রাকেশ খুরানা। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ সাধারণত যন্ত্র বা প্রযুক্তির কাছে নতি স্বীকার করে থাকে। অধিকাংশ মানুষই নিজে থেকে চিন্তা করতে পছন্দ করে না; বরং তারা এমন এক ভ্রমের মধ্যেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে যে, তারা নিজেরাই চিন্তা করছে।’







