কিন্তু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিদ্যুৎ আধুনিক রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশ জুড়ে বেড়ে যাওয়া লোডশেডিং সেই ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব প্রতিবাদ শুধু ক্ষণিকের অসন্তোষ নয়; বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ভোগান্তির বহিঃপ্রকাশ।
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। একই সময়ে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি, গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা এবং সঞ্চালনব্যবস্থার দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি, হাসপাতাল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষরা।
অবশ্য বিদ্যুৎ-সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি, আর এক দিনে এর সমাধানও সম্ভব নয়। তবে সমস্যার বাস্তব চিত্র জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা এবং সম্ভাব্য সময়সূচি জানানো সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নয়, উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বিদ্যুৎ কোনো বিলাসিতা নয়; এটি নাগরিকের ন্যায্য সেবা। তাই লোডশেডিংকে সাময়িক অস্বস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ সংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা গেলে শুধু অন্ধকারই দূর হবে না, রাষ্ট্রের সেবাদান সক্ষমতার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।




