হতেও পারে

অবাক পৃথিবী! সদ্যোজাত শিশু। তার শরীরেও সেন্সর; জিপিএস ট্র্যাকার; এআই। কী দিন আসছে মানুষের! প্রযুক্তি-রক্তমাংস সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে আগামীর দুনিয়ায়। কম্পিউটারের আপডেট ভার্সন সফটওয়্যারের মতোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইনস্টল করা হবে নবজাতকের শরীরে। তাও আবার জন্মের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই। হয়তো চোখ খোলার আগেই। কঠিন পৃথিবীর গন্ধে কেঁদে ওঠার আগেই। এমনই হবে নাকি ২১২৬ সালের দুনিয়া। সেই পূর্বাভাসই দিয়েছেন মার্কিন ভবিষ্যৎবিদ ক্রিস নিয়েলসন। তিনি প্রযুক্তি আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান লেভাটাসের প্রতিষ্ঠাতা।
শুধু মানব সন্তান হয়ে নয়; হাসপাতাল ছাড়বে গুগল ম্যাপ, স্বাস্থ্য মনিটর আর চলন্ত ইন্টারনেট হয়ে। সেন্সরটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংবলিত এক ধরনের ইলেকট্রিক চিপ। সেই ইলেকট্রিক চিপের মতো ক্ষুদ্র যন্ত্রের মাধ্যমেই কখন কী লাগবে, তা মা-বাবার কাছে নিজেই প্রকাশ করবে শিশুটি! জন্মের পর হাসপাতাল ছাড়ার আগেই শরীরে ‘ইনস্টল’ করে দেওয়া হবে ওই সেন্সর। দূরে বসেও বাচ্চার হাবভাব, বর্তমান অবস্থান সব জানতে পারবেন মা-বাবা। নিয়েলসনের দৃঢ় বিশ্বাস, এখন এটি অযৌক্তিক মনে হলেও ভবিষ্যতে এ সেন্সরই হয়ে উঠবে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবার হাতের লাঠি। মানুষ আর প্রযুক্তির মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে এটি দরকার বলেও জানিয়েছেন তিনি। শিশুর রোগব্যাধি বা স্বাস্থ্যের টুকিটাকি জানতে চাইলে পলকে রক্তের কোষে ঢুকে যাবে সেন্সরটি! কী তাজ্জব ব্যাপার! মুখে বুলি ফোটার আগেই বাচ্চার কী অসুখ, কী চায়— সব বলে দেবে এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেন্সর। এমনকি খেলতে বেরিয়ে সে কোথায় গেছে; সেই লোকেশনও ঘরে বসে দেখতে পারবেন মা-বাবা। বড় হলে অর্থ আদান-প্রদানও হবে শরীরের ওই চিপে। লেনদেনের এ বিষয় নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ফিন্টেক প্রতিষ্ঠান পালাডিনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যালেকজেন্ডার লোপাটিন। চোখের রেটিনায় ভেসে উঠবে লেনদেন। প্রতিটি অর্থ আদান-প্রদানের হিসাব যোগ হবে সে সেন্সরে। সঙ্গে থাকবে ক্রেডিট স্কোর। লোনের দরকার পড়লে ব্যাংকে যাওয়ার আগেই সেন্সর জানিয়ে দেবে কোন ব্যাংকের কী অফার। শুধু অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ দিয়ে নয়; বরং স্বাস্থ্যের অবস্থায়ও নির্ভর করবে একজনের লোন পাওয়ার সম্ভাবনা।




