ইলন মাস্কের সম্পদ কমছেই

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক
দিন দিন কমছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সম্পদ। টেসলার শেয়ারের বড় দরপতনে এক দিনেই তার সম্পদ কমেছে ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। তবুও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
এর আগে স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেটের সর্বশেষ উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানির শেয়ারেও বড় ধস নামে, যা মাস্কের সম্পদে আরও চাপ তৈরি করেছে।
ফোর্বস বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, আজ ২৫ জুলাই ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৭২৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে গত ২৩ জুলাই টেসলার শেয়ার ১৪ শতাংশ পড়ে যাওয়ার পর ইলন মাস্কের সম্পদ কমে দাঁড়ায় ৭৩১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে।
এত বড় পতনের পরও তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার পরেই রয়েছেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, যার সম্পদের পরিমাণ ২৬৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, যার সম্পদ ২৪৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
টেসলার শেয়ারের এই দরপতনের প্রধান কারণ প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল। কোম্পানিটি ২৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, শেয়ারপ্রতি মুনাফা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩ সেন্ট। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ৫৫ সেন্ট। প্রত্যাশার তুলনায় কম মুনাফা হতাশ করেছে বিনিয়োগকারীদের।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিনিয়োগকারীদের।
টেসলার প্রধান অর্থ কর্মকর্তা বৈভব তানেজা জানিয়েছেন, চলতি বছর এআই প্রকল্পে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়ানো হবে এই বিনিয়োগ। এই অর্থ মূলত অপটিমাস হিউম্যানয়েড রোবট, রোবোট্যাক্সি এবং ব্যয় করা হবে অন্যান্য এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এখন বিনিয়োগকারীরা শুধু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নয়, বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চান।
মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এআই খাতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও রোবোট্যাক্সি ও অপটিমাস প্রকল্পে দেখাতে হবে দৃশ্যমান সাফল্য।
অন্যদিকে ক্যানাকর্ড জেনুইটির বিশ্লেষকেরা আশা করছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে টেসলা রোবোট্যাক্সি সেবার উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটাবে।
সম্প্রতি এক আয়-পরবর্তী আলোচনায় টেসলা ও স্পেসএক্স একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইলন মাস্ক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি স্বীকার করেন, দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আগের তুলনায় বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাইবারট্রাকে স্টারলিংক সংযোগ এবং টেসলা ও স্পেসএক্সের সম্ভাব্য যৌথ এআই চিপ উৎপাদন প্রকল্প টেরাফ্যাবের কথা উল্লেখ করেন।
এর আগে স্টারশিপ রকেটের সর্বশেষ উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় স্পেসএক্সের শেয়ারেও বড় ধস নামে। শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায় এবং টানা পাঁচ কার্যদিবসে মোট ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ দরপতন হয়। শেয়ারের এ পতনে এক দিনেই মাস্কের সম্পদ প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার কমে যায়।
বিশ্লেষকদের আশা ছিল, স্টারশিপের উৎক্ষেপণ সফল হলে স্পেসএক্সের শেয়ারের পতন থামতে পারে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রকেটের সব ইঞ্জিন চালু না হওয়ায় উৎক্ষেপণ বাতিল করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতে আবার উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়েও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শেয়ারবাজারের টানা দরপতনের কারণে ইলন মাস্কের সম্পদ দ্রুত কমছে। বিশেষ করে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের ওঠানামাই তার সম্পদের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে।





