কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গ্রীষ্ম, বর্ষা বা শীত। দেশে বারো মাসে, ছয় ঋতুতেই রাস্তা কিংবা ঘরে দেখা মেলে ধুলোর। বিশাল রাস্তার পাশে লম্বা গাছের সবুজ পাতা খয়েরি রঙ ধারণ করে জমে থাকা ধূলিকণায়। কবে একটু বৃষ্টি হবে আর পাতাগুলো সবুজ হবে, সে প্রশ্ন রাস্তার ধার দিয়ে হাঁটলেই মাথায় আসে। কেমন হতো যদি এ দুনিয়ায় ধূলিকণা না থাকত? কানাডার ভবিষ্যৎবিষয়ক ওয়েবসাইট কোয়ান্টামরান ফোর্সাইটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭০ সালে পৃথিবীতে থাকবে না ধুলোবালি। একদম পরিষ্কার, ঝকঝকে হবে প্রতিটি কোনা। ওয়েবসাইটটির ২০২৩ সালের প্রতিবেদন বলছে, ধুলো-প্রতিরোধে নিযুক্ত প্রযুক্তি উপকারী হতে পারে ইলেকট্রনিকস, মহাকাশ গবেষণা, স্মার্ট হোমসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য।
ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের বিজ্ঞানী দল ধুলো কমাতে গবেষণা করছে একটি বিশেষ প্রযুক্তির ওপর। এই কৌশলটি তারা ব্যবহার করেছে দুটি উৎপাদন পদ্ধতি, ন্যানো-কয়েনিং ও ন্যানো-ইমপ্রিন্টিং। এ দুটির সমন্বয়ে সমতল পৃষ্ঠতলে তৈরি করা হয় ছোট ছোট পিরামিডের নকশা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধূলিকণা থেকে দূষণ হ্রাস, বায়ুর গুণমান উন্নয়ন এবং শ্বাসযন্ত্রজনিত স্বাস্থ্যসমস্যা কমানো হলো এ প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য। গবেষণায় সফল হলে ঘরে বাইরে কমতে পারে ধূলিকণা জমা হওয়ার পরিমাণ। পাশাপাশি মহাকাশে অভিযানের সময় সেখানে ধূলিকণা মোকাবিলায় নাসার ভবিষ্যৎ রোভারগুলোকে সহায়তা করতে পারে নতুন এ ধরনের প্রযুক্তি। এ ছাড়া এটিকে কাজে লাগানো যেতে পারে পৃথিবীতে ব্যবহারের উপযোগী ধুলোরোধী সোলার প্যানেল তৈরিতেও। এতে করে কোনো ধরনের কায়িক শ্রম বা ম্যানুয়াল পরিষ্কারের প্রয়োজন ছাড়াই কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে প্যানেলগুলোর। দৈনন্দিন জীবন এবং মহাকাশের পাশেও আরেকটি শিল্প যেটি ধুলোপ্রতিরোধী প্রযুক্তির সহায়তা পেতে পারে সেটি হলো ইলেকট্রনিকস। ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশে অল্প ধুলো জমলেও তা করে ব্যাপক ক্ষতি। এতে করে অনেক যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং আয়ুষ্কাল হ্রাস পায়। তবে ধুলোপ্রতিরোধী প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কমিয়ে আনতে পারে যন্ত্রের ক্ষতি। সঙ্গে আরও কমাতে পারে মানুষের শ্বাসযন্ত্রজনিত স্বাস্থ্যসমস্যা ও ঝুঁকি।



