যদি

নিত্যপণ্যের বাজারে যখন সবকিছুর দাম রকেটের গতিতে বাড়ছে, তখন আমাদের রান্নাঘরের প্রাণপ্রিয় এলপিজি সিলিন্ডার কেন পিছিয়ে থাকবে? সেও এবার এক বিশাল লাফ দিল। চারদিকে যখন ‘উন্নয়নের জোয়ার’, তখন এলপিজি সিলিন্ডার ভাবল— আমি একা কেন নিচে পড়ে থাকব? তাই বিইআরসি ৪ অক্টোবরের শুভ সন্ধ্যায় দেশের আমজনতাকে এক চমৎকার সারপ্রাইজ উপহার দিল। যদি আপনি ভেবে থাকেন ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক-দুই টাকা বেড়েছে, তবে আপনি সম্পূর্ণ ভুলের স্বর্গে আছেন! দাম এক ধাক্কায় পুরো ২৫২ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার এখন ১ হাজার ৮৩৭ টাকার এক মহামূল্যবান ‘সোনার হরিণ’।
এই খুশিতে দেশের সাধারণ গৃহিণীরা যদি এখন রান্নাঘরে যান, তবে সিলিন্ডারের দিকে তাকিয়ে কপালে হাত দিয়ে ভাববেন, ‘এ তো সিলিন্ডার নয়, এ যেন আরব্য উপন্যাসের কোনো আলাদিনের চেরাগ, যা স্পর্শ করলেই পকেট ফাঁকা হয়ে যায়!’
তবে এই দাম বৃদ্ধির পেছনে কিন্তু দারুণ সব তত্ত্ব আছে। বলা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে নাকি তুমুল উত্তেজনা, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম চড়া। যদি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজার গরম হয়, তবে আমাদের দেশের আমজনতার পকেটে কেন ‘আগুন’ জ্বলবে— সেই উত্তেজনার খবর অবশ্য কেউ রাখে না। বাজারে গেলে মনে হয়, আমরা সাধারণ মানুষ আসলে কোনো এক অলিখিত ‘সারভাইভাল গেম’-এর প্রতিযোগী।
এখন থেকে সিলিন্ডারের গ্যাস খরচ করার আগে আমাদের হয়তো দশবার ভাবতে হবে। যদি বাড়িতে মেহমান আসে, তবে আনন্দের চেয়ে বেশি হিসাবনিকাশ মাথায় ঘুরবে, ‘ডালটা আরেকটু কম ফোটালে বুঝি চার টাকার গ্যাস বাঁচত!’
পরিশেষে, বিইআরসি অবশ্য বরাবরের মতোই আশ্বস্ত করেছে যে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কেউ বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আপনি যদি বাজারে যান, তবেই বুঝবেন আইন শুধু কাগজে-কলমেই সুন্দর, বাস্তবে সিলিন্ডার কিনতে গেলে সেই ‘উত্তেজনা’ পকেটেই টের পাওয়া যায়!



