হতেও পারে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হাসপাতাল এমন একটি স্থান, যেটি প্রতি সেকেন্ডে দেখে জীবনের জন্ম ও সমাপ্তি। আরও দেখে রোগ যাচাই হওয়ার পর রোগীর দুশ্চিন্তা কিংবা সুস্থতা অর্জনের পর তার খুশি। তবে ২০৪০ সালে এই একই হাসপাতালের কক্ষে একজন রোগী বসে থাকবেন নিশ্চিন্তে। পাশে কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভেসে থাকবে হুবহু তার মতো দেখতে একজন ব্যক্তি। সেটি মানুষ নয়, তবুও আচরণ করবে রক্ত-মাংসের তৈরি মানবজাতির মতোই। তার হৃদযন্ত্র চলবে, রক্তপ্রবাহ বদলাবে, এমনকি ওষুধে প্রতিক্রিয়াও হবে। ডাক্তার আসল ব্যক্তিটির ওপর অপারেশন করার আগে সেই ডিজিটাল শরীরটিতেই করবেন নানা পরীক্ষা। হতেও পারে ভবিষ্যতের চিকিৎসা শুরু হবে অপারেশন থিয়েটারে নয়, কম্পিউটারের পর্দায়! আসছে বছরের এ ধরনের ‘মেডিক্যাল টুইন’ বা মেডিকেল যমজের পূর্বাভাস উঠে এসেছে ভারতের টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) ডিজিটাল টুইনডেক্সের একটি জরিপে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথকেয়ার ডাইভ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ২০২৩ সালে।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন স্বাস্থ্যসেবা খাতে ‘ডিজিটাল টুইন’ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রচলন ঘটবে ভবিষ্যতে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্যসেবা খাতে ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ব্যবহার রোগীর জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে সক্ষম। পাশাপাশি রোগের পূর্বাভাস প্রদান, দীর্ঘস্থায়ী রোগের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং ওষুধ উদ্ভাবন প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ করে তুলতে পারে নতুন এ প্রযুক্তি। তবে বিশেষজ্ঞরা এটি ব্যবহারে গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশ করেছেন উদ্বেগ। টিসিএসের ভবিষ্যৎবিদ আলেকজান্দ্রা হুইটিংটন বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির স্বাস্থ্য প্রোফাইলের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরির মাধ্যমে এগুলো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রদান করে সহায়তা করতে পারে। এতে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যগত ফলাফল সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে, দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে এবং চিকিৎসার কৌশলগুলোকে সর্বোত্তম পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।’ তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, ডিজিটাল টুইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিম্নমানের ডেটা ও ভুল মডেলের ব্যবহার নিয়ে যেতে পারে ভুল সিদ্ধান্তের দিকে।



