দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আগামীর দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন। প্রাকৃতিক এই সংকট ভবিষ্যতে শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটাবে না, বদলে দেবে সব রাষ্ট্রের চেহারা। আসছে বছরগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আবাসনের খোঁজে লাখ লাখ মানুষ দেশ ছাড়বে। সেই ঢল মোকাবিলায় হিমশিম খাবে একেকটি রাষ্ট্র। চাপে পড়বে বহু দেশের সরকার। ২০৬০ সালে এমনই এক সংকটে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব। এমন পূর্বাভাসই দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভবিষ্যৎবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ফিউচার টাইমলাইন’। ইন্টারনেটের এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে থাকেন দেশটির ভবিষ্যৎবিদ উইল ফক্স।
আজ থেকে চৌত্রিশ বছর পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। অনেকেই নিজ দেশের দুরবস্থা দেখে শুধু একটু আশ্রয়ের আশায় ছুটবেন অন্য দেশে। এতে গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়বে একেকটি রাষ্ট্র, এমনকি গোটা পৃথিবী। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৬০ সালে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এক বিশাল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলই দ্রুত অবনতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হবে। ওয়েবসাইটটির তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অনেক দেশ ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। সেখানে ভেঙে পড়বে সরকারব্যবস্থা। জনগণ থাকবে এক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে। এ অবস্থায় অনেক অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমনটা হলে প্রতিবেশী দেশগুলোয় অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানো বড় সংকট হয়ে দাঁড়াবে। ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল ব্যাপকভাবে সামরিকীকৃত হয়ে উঠবে। এর ফলে ইতালি, স্পেন ও গ্রিস বিশেষ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। সেখানে কট্টরপন্থী ও জাতীয়তাবাদী সরকার গঠিত হবে। খাদ্য ও পানি বণ্টন নিয়ে অনেক ইউরোপীয় দেশ রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখোমুখি হবে।
একই ধরনের সমস্যা ও সংকট দেখা দেবে এশিয়া জুড়েও। এর সঙ্গে যোগ হবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংক্রামক রোগ। ফলে এ অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক এলাকায় পরিণত হবে। পূর্বাভাসের শেষে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশ পরিণত হবে নৈরাজ্যপূর্ণ ধ্বংসস্তূপে। টিকে থাকবে শুধু গুটিকয়েক মোটামুটি স্থিতিশীল দেশ।






