নির্বাচিত কবিতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অনিকেত শামীম
সাকুরা পর্ব (নিস্তার)
আসবো
না যেনেও গ্লাসগুলো শূন্য থাকবে,
এমনতো নয়। রাতভর উজাড়
হবে মদিরার পাত্র—
একা ফিরে গেছি সরাইখানার
দিকে
বরং
বসে থাকবো হৃদের ধারে, যে বছরভর
বৃষ্টির অপেক্ষা করে। বয়সী বৃক্ষের
নিচে বসে থাকবো
একা, যার ফুলের গরিমা
নেই, ফলের—
নেই কোনো রঙের চিৎকার
বুক
থেকে টেনে তুলবো পুরনো
খঞ্জর
একে একে, রক্ত মুছে
ফেলবো অশ্বত্থ পাতায়—
একা ফিরে যাবো সরাইখানার
দিকে
সবুজ,
ও সবুজ মদ,
তোমার সব দিকে হৃদয়
ভেবেছি।
তানভীর মাহমুদ
রঙ্গন
একেকটি আলাপের বারান্দায়
আলোর শাখা বেয়ে বাড়ে নিঃশ্বাস
সম্মোহনের পর্দা নামে অবিরত
অবারিত নিরুদ্দেশে
বোধ হারানোর অতলে
যাত্রার মোহ থেকে জমছে মায়া
যার পিঠে আঙুল বুলিয়ে বজ্রকে বেশ করছি আমি।
অজস্রতার বাগানে তবু বিবশ আশ্রয় নিই বারবার
আলতাফ শাহনেওয়াজ
দুনিয়া
নীরব দুঃখের মাঝে তোমাকে সুনসান হয়ে ডাকি!
রাত শেষ হয়ে এলো; আলো ফোটার আগের ভোরে
ঘুম ভেঙে আম্মা কি উঠেছেন?
চোখ বুজে আছি আমি আকাশের মতো আমল-ধবল নীরবতা—
তুমি নেমে আসছ করুণাময়! পরমের চোখে;
জেগে আছি তোমার দুচোখভরা রক্তপাতের আশায়; প্রভু,
আমার একটাই মেয়ে,
রাতে চোখে সে জমায় রক্ত আর ঘুমায় দেরি করে,
এই সকালে সে কি দেখতে
পাবে
জায়নামাজে বসামাত্রই আম্মা হাত তুলবেন ইহকালে
এবং নির্ঘুম আধবোজা চোখে তাকে আমি বলতেই থাকব:
‘কেউ
কেউ কাঁদছে বাইরে দাঁড়িয়ে—
রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাতাঁও...
দুনিয়ার আলো এখনো ফোটে নাই গো, আম্মা!’
সৈয়দ ফরহাদ
নিলাভ গাই
আমি এক ছোট শহর থেকে, এক বড় শহরে যাই
আমার
শরীরে আমার ছোট শহর
নিয়ে।
ঐ বড় শহর তার ঠাট্টা তামাশা দিয়ে
আমাকে আমার ছোট শহরসহই আরও মফস্বল হয়ে থাকতে বলে।
আমি ভার্সিটি পাস দেই, মফস্বলে পোস্টিং নেই
যেহেতু
ওইসব মফস্বল নিয়েই অগ্রজরা সাহিত্য করেছেন।
তাই সেইসব মফস্বল, আর তার নদী পুকুর মাঠ ঘাট
ছোট ছোট ক্লাব, তাদের করা কলা প্রদর্শন ও কাব্য পাঠ,
বিবিধ
পাঠচক্রে আমি ফেন্সি শহর
হয়ে উপস্থিত থাকি, ঠাঁটেবাটে।
জীবনের বহুবিধ ল্যাডারে ক্রম উড্ডীন কিছু নীলাভ গাই
চলিষ্ণু
মেঘ হতে চাই, ফরাসি
কাব্যে বড়রা যেভাবে হতো।
পুনরায় তাই শহরে আসি— ছোট, ছোট, ছোট হই মফস্বলের মতো।
আমাদের রেনেসাঁস, ফরাসি কাব্য, বিপ্লব ও রুশ সাহিত্যসহ।
মাওয়া জান্নাত
ক্ষুধার আদ্যোপান্ত
আকাশ মাটি বাতাস সমুদ্র হাতড়েও কোনো ক্ষুধার্ত চোখ পাওয়া গেল না
কোনো ক্ষুধার্ত আঙুল কিংবা ক্ষুধার্ত আত্মা পাওয়া গেল না
যে লুফে নিতে চাইবে অন্য আরেকটা ক্ষুধার্তের বুক।
পৃথিবীর একপ্রান্তে খুব গোপনে যে ঘরটায় নিভু নিভু আগুন জ্বলে
কোনো কাঙ্ক্ষিত চোখ সেই ঘরে দৃষ্টি রাখেনি।
মৃত্যু এখানে একমাত্র আলোকিত সত্য।
নকল হাসির বড় বড় দেয়ালে আবৃত এই ঘর।
অদ্ভুত নিয়মে চলছে মন। শত শত তৃষ্ণার্ত হাত
এগিয়ে এলেও সূক্ষ্মভাবে বেছে নেওয়া হয় নির্লিপ্ত চোখ।
কাউকেই বোঝানো গেল না খাবারের সমীকরণ।
মানচিত্র খুঁড়ে খুঁড়েও মিললো না
সমপরিমাণ দৌড়াতে পারা দুটো পা।
এক প্লেট খাবার মৃত্যুর আগপর্যন্ত কাঁদলো।
কোনো কাঙ্ক্ষিত ক্ষুধার্ত জিভ
তাকে খাওয়ার লোভ করেনি বলেই...!
এভাবেই— একটা দিন আসবে, দেহ ছিটিয়ে পড়বে পুঁথির মতো।
কুড়িয়েও গাঁথা যাবে না পরিপূর্ণ মানব শরীর।



