Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
মানুষের কল্যাণই রেজাউলের ব্রত
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কাজললেখা

জননী

তাইমুর মাহমুদ শমীক
agamir somoy
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০
জননী

অলংকরণ: অরবিন্দ হালদার

আমার জীবনের কিছু কিছু অংশ আমি কখনো নিজে সামলে রাখতে জানি না। ওই অংশগুলো দেখভালের দায়িত্ব শুধুই আম্মুর।

এবারের ঈদের সকালেও তেমন একটি দায়িত্ব বর্তেছিল আম্মুর ওপর। পরে শুনেছি, সেদিন আম্মু এমন একটা জায়গায় ঢুকে পড়েছিল, যেখানে মেয়েদের ঢোকার অনুমতি নেই।

আমার অসুখটার অনেক নাম। ডাক্তার বলে এপিলেপসি, পাড়ার লোকে বলে মৃগী আর দাদি বলত জিনের আছর। খিঁচুনি শুরুর আগে পেটের ভেতর থেকে একটা শিরশিরে অনুভূতি সুনামির ঢেউয়ের মতো গলার দিকে উঠে আসে। তারপর আর কিছু মনে থাকে না। জেগে উঠে দেখি জিভ কেটে গেছে, মাথাটা পাথরের মতো ভারী, গায়ে অন্য কোনো জামা। আর অবধারিতভাবে শিয়রে ঝুঁকে আছে আম্মুর মুখ। আমি তখন পরিস্থিতি হালকা করার জন্য জিজ্ঞেস করি, আজকে কত সেকেন্ড, আম্মু? রেকর্ড ভাঙলাম নাকি? আম্মু হাসে না কোনোবারই।

আত্মীয়স্বজন আড়ালে বলে, বাপ ছাড়া পোলা, মানুষ হইব কেমনে? কথাটা কানে গেলে আম্মু ক্লান্ত হেসে বলে, আমিই ওর মা, আমিই ওর বাবা। আম্মু কখনো মিথ্যা বলে না, শুধু এই একটা কথা ছাড়া।

আমার অসুখ ধরা পড়ার পর থেকে আব্বু-আম্মুর ঝগড়া বাড়তে লাগল। দাদি বলত, আমাগো বংশে এ রোগ আছিলো না, বউয়ের দিক থিকা আসছে। আব্বু তখন রা কাড়ত না। ঝগড়ার রাতগুলোতেও আব্বু চুপ করে থাকত। যেদিন ব্যাগ গুছিয়ে চলে গেল চিরতরে, সেদিনও কিছু বলেনি। ওই রাতগুলোতে আমি কাঁথার নিচে মটকা মেরে পড়ে থাকতাম। ঘুমের ভান ধরার বিদ্যাটা আমি তখনই রপ্ত করেছিলাম।

আব্বু চলে যাওয়ার পর খিঁচুনি এত বেড়ে গেল যে, ডাক্তার আংকেলকে ওষুধ বদলাতে হলো। আম্মুকে তিনি বলেছিলেন, ঘুম কম হলে আর দুশ্চিন্তা বাড়লে খিঁচুনিও বাড়ে। আমি পাশে বসে কথাটা শুনে ফেলেছিলাম। সেই থেকে মন খারাপকে আমি বেশিক্ষণ ধোপে টিকতে দিই না। হাঁটু ছড়ে গেলে যেভাবে ফুঁ দিয়ে জ্বলুনি থামাই, সেভাবে ফুঁ দিয়ে মন খারাপও সারিয়ে ফেলি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্বুর প্রোফাইল পিকচারে এখন চুলে লাল ফিতা বাঁধা একটা ছোট্ট মেয়ের আদুরে ছবি। একবার আব্বুর বাসায় গিয়েছিলাম। নতুন আন্টি খুব যত্ন করে নাশতা দিলেন। কিন্তু যতক্ষণ ছিলাম, ছোট বোনটাকে কোল থেকে একবারও নামালেন না। ফেরার পথে রিকশায় বসে মন খারাপটা বরাবরের মতো ফুঁ দিয়ে সারিয়ে ফেললাম।

আম্মু একটা কিন্ডারগার্টেনে পড়ায়। সন্ধ্যায় টিউশনি করে। আমার ওষুধ আর টেস্টের খরচ জোগাতে গিয়ে হাতের চুড়িগুলো একে একে উধাও হয়েছে। হাতে এখন শুধু ঢলঢল করে আব্বুর ফেলে যাওয়া পুরনো ঘড়িটা। খিঁচুনির সময় মাপার জন্য আম্মু ওটা কখনো খোলে না। একা একজন নারীকে বাড়িওয়ালারা ভাড়া দিতে চায় না বলে আমরা বাসা বদলেছি অনেকবার। রাতে আম্মু আমার বুকের ওপর হাত রেখে ঘুমায়। আমি জানি, ওই ঘুমটা আসলে ঘুম না। চোখ বুজে আমার নিঃশ্বাস গোনার অসিলা মাত্র!

একবার মাঝরাতে আমাকে নিয়ে আম্মুকে একাই হাসপাতালে ছুটতে হয়েছিল। ইমার্জেন্সি ফরমে অভিভাবকের ঘরে আম্মু নিজের নাম লিখতেই কাউন্টারে বসা ভদ্রলোক ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, বাচ্চার বাপ কই? পুরুষ মানুষ কেউ নাই? আমি তখন আধো অচেতন, তবু কথাটা কানে এসেছিল। আম্মু কলমটা শক্ত করে চেপে ধরে শান্ত গলায় বলেছিল, আমি আছি।

ক্লাসের ভেতর একবার আমার খিঁচুনি হওয়ার পর প্রিন্সিপাল ম্যাডাম আম্মুকে ডেকে পাঠালেন। আমাকে পাশে বসিয়ে রেখেই নরম গলায় বললেন, রাইয়ানের মতো স্পেশাল বাচ্চাদের জন্য তো আলাদা স্কুল আছে। অন্য প্যারেন্টসরা অস্বস্তিবোধ করছেন। স্পেশাল শব্দটা শুনে আমি প্রথমে খুশিই হয়েছিলাম। তারপর আম্মুর মুখের দিকে তাকিয়ে খুশিটা কপ করে গিলে ফেললাম। আম্মু কোনো তর্কে গেল না। ব্যাগ থেকে আমার রেজাল্ট কার্ড বের করে চুপচাপ টেবিলের ওপর মেলে ধরল।

ইদানীং আমার গলা ভাঙতে শুরু করেছে। ঠোঁটের ওপর উঠেছে গোঁফের হালকা রেখা। আম্মু দেখে মুখ টিপে হাসে। রেজর কীভাবে ধরতে হয়, সেটা আম্মু ইউটিউব ঘেঁটে বের করে দিয়েছে। ভিডিওর অচেনা মানুষটা গালে সাবানের ফেনা মেখে আমাকে শিখিয়েছে সুনিপুণভাবে। সেলুনে চুল কাটাতে গেলে আম্মু স্বচ্ছ দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকে। জুমার দিন মসজিদের গেট পর্যন্ত এসে ফিরে যায়। ঈদগাহে আম্মু ঢুকতেই পারে না।

আব্বু কথা দিয়েছিল, এবারের ঈদে আমাকে নিয়ে নামাজে যাবে। চাঁদরাতে মেসেজ এলো, সরি বাবা, এবার হচ্ছে না রে! তোর বোনটার খুব জ্বর। আমি সঙ্গে সঙ্গে লিখলাম, সমস্যা নাই আব্বু! সঙ্গে একটা হাসিমুখের ইমোজিও দিলাম। তারপর সারা রাত শুয়ে রইলাম সিলিংয়ের দিকে চোখ মেলে। আম্মুর হাতটা পড়েছিল আমার বুকের ওপর। সেই পুরনো বিদ্যাটা ওই রাতে কাজে লাগল। মেপে মেপে সন্তর্পণে নিঃশ্বাস নিলাম, যাতে আম্মু টের না পায় আমি জেগে আছি!

সকালে নতুন পাঞ্জাবি পরার পর আম্মু আতরের শিশিটা হাতে নিল। আব্বু কড়ে আঙুলে এক ফোঁটা নিয়ে কানের লতিতে ছুঁইয়ে দিত। আম্মু শিশি উপুড় করে আমার কলারে অনভ্যস্ত হাতে ঢেলে দিল অনেকখানি। দরজায় দাঁড়িয়ে আমি গোঁ ধরলাম, একাই যাব। আমি কি এখনো বেবি নাকি! আম্মুর মুখটা শুকিয়ে এতটুকু হয়ে গেল। তবু না করল না। শুধু ব্যাগে ওষুধ আর পানির বোতল ভরে আমার সঙ্গে মাঠের গেট পর্যন্ত এলো। তারপর ভিক্ষুকদের সারি আর বেলুনওয়ালাদের হাঁকডাকের ভেতর মিশে অপেক্ষা করতে লাগল।

মাঠ ভরে গিয়েছিল সাদা টুপি পরা সুখী মুখ আর সারি সারি জায়নামাজে। মাইকে ভেসে আসছিল ইমাম সাহেবের তাকবির। খুতবা আর মোনাজাত শেষ হতেই চারপাশে কোলাকুলির ধুম পড়ে গেল। বাবারা ছেলেদের বুকে টেনে নিচ্ছিল ডান কাঁধে, বাঁ কাঁধে, আবার ডান কাঁধে। আমার পাশে দাঁড়ানো ছেলেটা ছিল আমার চেয়েও লম্বা। অথচ বাবার বুকে মুখ গুঁজে সে খিলখিল করে হাসছিল। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম জায়নামাজ হাতে। রোদটা হঠাৎ বড্ড কড়া লাগল। মনে মনে নিজেকে বললাম, সমস্যা নাই, সমস্যা নাই। এবার আর ফুঁ দিয়ে সারানো গেল না ব্যাধি। পেটের ভেতর থেকে সেই চেনা ঢেউটা গলার দিকে উঠতে শুরু করল।

তারপর আর কিছু মনে নেই।

লোকমুখে শুনেছি, আমি জায়নামাজের ওপর আস্ত চালের বস্তার মতো দুম করে পড়ে গিয়েছিলাম। মানুষজন চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছিল। কেউ একজন পা থেকে চামড়ার জুতা খুলে আমার নাকের কাছে ঠেসে ধরেছিল। আরেকজন চামচ খুঁজছিল, মুখে ঢুকিয়ে দেবে বলে। আম্মু কীভাবে খবর পেয়েছিল, আমি জানি না। হয়তো পুরো নামাজের সময়টুকু গেটের ফাঁক দিয়ে আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল। ভলান্টিয়ারদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে, রাইয়ান রাইয়ান বলে চিৎকার করতে করতে কাতারের পর কাতার পেরিয়ে ছুটে এসেছিল আম্মু। মাথার কাপড় খসে পড়েছিল। আম্মু সেটা তুলে নেওয়ার সময়ও পায়নি।

আম্মু মুখের ওপর থেকে জুতাটা এক ঝটকায় ছুড়ে ফেলেছিল। আমাকে কাত করে শুইয়ে মাথার নিচে ভাঁজ করে দিয়েছিল নিজের ওড়নাটা। তারপর হাতের ঢলঢলে ঘড়িটায় চোখ রেখে সেকেন্ড গুনেছিল, ডাক্তার আংকেল যেভাবে শিখিয়েছিলেন। পেছন থেকে এক মুরুব্বি গজগজ করতে করতে বলছিলেন, মাইয়া মানুষ ঈদগাহে ঢুকছে! আম্মু একবারও মুখ তুলে তাকায়নি। শেষে ইমাম সাহেব নিজে লোকজনের ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন। চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে ভারী গলায় বললেন, উনি ছেলেটার মা। আপনারা অনুগ্রহ করে জায়গা দেন।

জ্ঞান ফিরলে প্রথমে নাকে এসে লাগল আতরের কড়া গন্ধ। তারপর বুঝলাম, আমার মাথা আম্মুর কোলে, ঈদগাহের ঠিক মাঝখানে। চারপাশে ঝুঁকে ছিল অনেক সাদা পাঞ্জাবি পরা মানুষের কৌতূহলী মুখ। ওদের ভেতর ক্লাসের কয়েকটা চেনা মুখও ছিল। লজ্জায় কান দুটো ঝাঁ-ঝাঁ করে উঠল। আম্মুর হাতটা ঠেলে সরিয়ে দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললাম, তুমি ভেতরে আসলা ক্যান? সবাই দেখল!

আম্মু কিছু বলল না। শুধু মাটি থেকে ধুলোমাখা ওড়নাটা তুলে চুপচাপ আবার মাথায় টেনে দিল। আমি মনে মনে ভাবছিলাম, আব্বু থাকলে আম্মুকে আজ এভাবে বিব্রত হতে হতো না।

সন্ধ্যায় আম্মু আব্বুকে ফোন করল। এত বছরে এমনটা কখনো দেখিনি। নির্লিপ্ত সুরে আম্মু শুধু বলল, ছেলেটার সঙ্গে একটু কথা বলো। আজ ওর তোমাকে দরকার। তারপর ফোনটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বারান্দার অন্ধকারে গিয়ে দাঁড়াল। সারা দিন আম্মু কিছু মুখে দেয়নি। দরজার ফাঁক দিয়ে দেখলাম, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই বাটি থেকে ঠান্ডা সেমাই খাচ্ছে।

ওপাশে আব্বুর গলা কেমন ভেঙে ভেঙে যাচ্ছিল। রাইয়ান, বাবা, তুই ঠিক আছিস? আমি অভ্যাসমতো বললাম, সমস্যা নাই আব্বু! অল ইজ ওয়েল।

আব্বু বলল, তোর জন্মের পর প্রথম ঈদে তোকে কোলে নিয়ে ঈদগাহে গেছিলাম, জানিস? লোকজন কোলাকুলি করতে আসে আর তুই গলা ফাটিয়ে কাঁদিস বোকার মতো। শেষে তোকে বুকে চেপে ধরেই সবার সঙ্গে কোলাকুলি করেছি।

আমার জীবনের এ অংশটার সঙ্গে পরিচিত নই আমি। সেখানেও আব্বুর একচেটিয়া অধিকার।

আব্বুর কাছে আমি কখনো কিছু চাইনি। সেদিন চাইলাম। সামনের ঈদে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করবা, আব্বু? ওপাশ থেকে অনেকক্ষণ শুধু ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ এলো। পেছন থেকে ভেসে আসছিল আমার ছোট বোনটার আব্বু আব্বু ডাক। তারপর ধরে আসা গলায় আব্বু বলল, করব বাবা। নিশ্চয়ই করব।

ফোন রেখে বারান্দায় গেলাম। আম্মু গ্রিল ধরে রাস্তার দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। পেছন থেকে গিয়ে বললাম, আম্মু, সকালে তো তোমার সঙ্গে কোলাকুলিই করা হলো না!

আম্মু অবাক হয়ে ফিরে তাকাল। হাত দুটো কোথায় রাখবে বুঝতে না পেরে আড়ষ্ট হয়ে রইল। আমি আম্মুর দুই কাঁধ ধরে প্রথমে ডানদিকে জড়িয়ে ধরলাম, তারপর বাঁদিকে, তারপর আবার ডানে। তখনই প্রথমবারের মতো টের পেলাম, আম্মুর কাঁচা-পাকা চুলভর্তি মাথাটা এখন আমার কাঁধের কাছে এসে থেমে যায়।

 

একটানে পড়ে ফেলার মতো গল্প

সুখপাঠ্য গল্প ‘জননী। একটানে পড়ে ফেলা যায়, উপলব্ধি করা যায় সন্তানকে ঘিরে এক মায়ের জীবনযাপনের সংগ্রাম আর এক জনকের নিস্পৃহ নীরব নিষ্ঠুরতাকে। একাত্ম হওয়া যায়, রোগাক্রান্ত এক সন্তানের অনুভূতির সঙ্গে। বড় দাগে বলা যায়, হ‍ুমায়ূন আহমেদীয় ঘরানার গল্প এটি। তাতেও কোনো সমস্যা নেই, কারণ প্রতিটি ঘরানাই স্ব স্ব বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল ও স্বকীয়; তা ছাড়া একই ধারার মধ্যে থেকেও একজন লেখক আরেকজন থেকে আলাদা হয়ে উঠতে পারেন। তেমন হয় বলেই একই ধারায় থেকেও হাসান আজিজুল হক আর আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মধ্যে অনেক তফাত; শংকর থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও অনেক আলাদা। হ‍ুমায়ূন আহমেদ নিজে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন সোমেন চন্দের গল্প থেকে, কিন্তু খুব দ্রুতই আলাদা হয়ে পড়েছিলেন তার থেকে; এতই আলাদা যে, সোমেনের ধারা থেকেই সরে গিয়েছিলেন তিনি। এ গল্পে সেরকমভাবে আলাদা হয়ে ওঠার চিহ্ন অবশ্য অস্পষ্ট; কিন্তু গল্পের প্রকৌশল বলে দিচ্ছে, তিনি সেই পথে হাঁটতে চলেছেন। এই গল্পে চরিত্রগুলোর মধ্যে, গল্পের ধারাবর্ণনার মধ্যে যে আবেগ ও স্বস্তি আছে, যে অপূর্ণতার অনুভূতি আছে, তা আমাদের পাঠকদের আপ্লুত করবে, উদ্বেল করবে, মধ্যবিত্তীয় ভালো লাগা ও বিষণ্নতার ঘেরাটোপে ঘুরপাক খাওয়াবে; সন্দেহ ও সংশয় নেই যে, তিনি প্রশংসিতও হবেন। কিন্তু লেখক যদি তাতেই পরিতৃপ্ত হন, তুষ্ট হন, তা হলে নিজের কলমের প্রতি অবিচার করবেন, নিজের চলার পথকে রুদ্ধ করে ফেলবেন। নিজের কাহিনি ও ভাষা নির্মাণের সংগ্রাম তাকে নির্মমভাবে অব্যাহত রাখতে হবে পাঠকের প্রশংসাকে সযত্নে ব্যক্তিগত জাদুঘরে রেখে দিয়ে।

 

জননীএপিলেপসিসুনামির ঢেউধুলোমাখাসুখপাঠ্যনিস্পৃহকাজললেখা
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    ডেঙ্গু সামলাতে অনুমোদন পাচ্ছে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা

    ডেঙ্গু সামলাতে অনুমোদন পাচ্ছে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা

    বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীকে

    বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীকে

    নানার মৃত্যুতে তনুশ্রী বললেন ‘ইভিল ডেডের পেছনে ছুটবে মিডিয়া’

    নানার মৃত্যুতে তনুশ্রী বললেন ‘ইভিল ডেডের পেছনে ছুটবে মিডিয়া’

    সেই চোখ, সে চিৎকার এবং সে নীরবতা

    সেই চোখ, সে চিৎকার এবং সে নীরবতা

    কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে সাংবাদিকের মা-বাবার ওপর হামলা

    কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে সাংবাদিকের মা-বাবার ওপর হামলা

    বিএসইসির ১২ নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে বড় রদবদল

    বিএসইসির ১২ নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে বড় রদবদল

    শিবিরের গুপ্ত রাজনীতির বলি হয়েছিল আবরার ফাহাদ : আব্দুল কাদের

    শিবিরের গুপ্ত রাজনীতির বলি হয়েছিল আবরার ফাহাদ : আব্দুল কাদের

    বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক হলেন শেখ মাহবুব উর রহমান

    বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক হলেন শেখ মাহবুব উর রহমান

    বরগুনায় বিএনপির নেতাদের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

    বরগুনায় বিএনপির নেতাদের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

    ন্যাশনাল ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য সুখবর

    ন্যাশনাল ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য সুখবর

    জব্দ আলামতে পাওয়া গেল  সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডিএনএ’র মিল

    জব্দ আলামতে পাওয়া গেল সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডিএনএ’র মিল

    পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি পেল রূপপুর

    পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি পেল রূপপুর

    ‘কাল থাকব কি না জানি না’ বলার ৪ দিন পরেই চিরবিদায় নানা পাটেকরের

    ‘কাল থাকব কি না জানি না’ বলার ৪ দিন পরেই চিরবিদায় নানা পাটেকরের

    কী আছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তিতে?

    কী আছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তিতে?

    নিকাব পরা ছাত্রীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা, ঢাবি শিক্ষিকাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

    নিকাব পরা ছাত্রীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা, ঢাবি শিক্ষিকাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি