Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
৫০ বছর ধরে বর্জ্যমুক্ত রাখছেন রাস্তা-বাজার
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কাজললেখা

ঝরা পাতার সংসার

আইজ্যাক রবিনসন। ভাষান্তর: সুমন কায়সার
agamir somoy
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৭
ঝরা পাতার সংসার

মা শেষতক আমার ধারণা ভুল প্রমাণ করেই ছাড়ল! অবশ্য পোড়খাওয়া খনিকর্মীর মেয়ে বলে কথা। বেড়ে উঠেছে সরকারি কারখানার ঘণ্টাবাঁধা কাজের কঠিন পরিবেশে। সেই মানুষ নাকি রীতিমতো উদ্যোক্তায় পরিণত! দাচার পেছনের উঠোনে এরই মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক ঝাঁক মুরগির ছানা। দুই দফায় আসা বাচ্চাগুলোর মধ্যে আগে ফোটা কয়েকটা প্রায় ডিম দেওয়ার মতো বড় হয়ে গেছে। নতুন ডিম ফুটেছে কি না দেখতে বেনিচকা বারবার মুরগিদের পেটের তলায় উঁকিঝুঁকি না মারলে বাচ্চার সংখ্যা আরও বেশি হতো সন্দেহ নেই। বেনিচকা হয়তো ভেবেছিল, মুরগিরা ডিম ছেড়ে সরে গেলে তার সামনেই একে একে খোলা ভেঙে বেরিয়ে আসবে বাচ্চাগুলো।

গ্রামের পড়শিদের কাছ থেকে মা ছোট ছোট কিছু সেলাইয়ের কাজের ফরমায়েশও পাচ্ছে। এসব থেকে তার খুব বেশি আয় হচ্ছে তা না। কিন্তু মার তাতে কোনো হেলদোল নেই। মা এক প্রতিবেশীর কুকুরের জন্য শীতের মোটা জ্যাকেট বানিয়ে দিয়েছে। বিনিময়ে তিনি মাকে দিয়েছেন বেশ খানিকটা ছাগলের দুধের চিজ। আর এখন মা’র জন্য চিজ নগদ টাকার চেয়ে কম কিছু না।

বাবাও জোরেশোরে চাকরি খুঁজছে। যেসব জায়গায় অ্যাপ্লাই করেছে তার বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা। মারিওপোল আজকাল এসব প্রতিষ্ঠানের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। মূলত বিদেশিরাই চালায় বলে তাদের আবার ইংরেজি জানা লোক লাগে। অন্তত ভাষাটা কাজ চালানোর মতো বোঝে ও বলতে পারে এমন লোক দরকার তাদের। কাগজে-কলমে শর্ত দেওয়া না হলেও কিছুটা ইংরেজি জানা বাড়তি সুবিধা দেবে। বাবা এই ব্যাপারটাকে কিন্তু খুব সিরিয়াসলিই নিয়েছে। অন্তত কিছু টুকটাক ইংরেজি শেখার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে সে। হঠাৎ কখন দরকার হয়ে পড়ে বলা তো যায় না! আপাতত সাশাই তার শিক্ষক। সাশার নিজের ইংরেজি জ্ঞানের অবস্থাই সঙ্গীন। বাবার ভাষা শিক্ষাটা কেমন হবে তা বলাই বাহুল্য।

আসলে পরিবারের মধ্যে আমিই প্রথম ইংরেজি শিখি। সোভিয়েত শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশি ভাষা শেখার ওপর তেমন জোর দেওয়া হতো না। মা অবশ্য একটু আধটু জার্মান শিখেছিলেন। তার ছোটবেলার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু মার্গারেটা ছিলেন একজন ভলগা জার্মান। শ তিনেক বছর আগে, সেই অষ্টাদশ শতকে রাশিয়ার ভলগা নদীর ধার বরাবর কিছু জার্মান এসে বসতি গড়ে তুলেছিল। তাদের বংশধররাই ভলগা জার্মান বলে পরিচিত এখন।

স্টালিন ১৯৪১ সালে ভলগা জার্মান প্রজাতন্ত্র ভেঙে দেওয়ার পর মার্গারেটার পরিবারকে রাশিয়াছাড়া করা হয়। মধ্য এশিয়ার কাজাখস্থানে পাঠানো হয় তাদের। তবে পরে ক্রুশ্চেভের সময় নতুন নীতি নেওয়া হলে তারা আবার ইউক্রেনের দোনেৎস্কে আসেন। কাজের সন্ধানে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার ঠিক আগে আগে মায়ের বন্ধু মার্গারেটা জার্মানি চলে যান। এরপর থেকে তাদের দুজনের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সোনালি শৈশবের সেই বন্ধুত্বের স্মৃতিতে ফিরে যেতে মার কাছে জার্মান ভাষা একটা সেতুর মতো।

মিকিতা আর কাতিয়াকে ওকেলোর কথাগুলো বলার পর ওরাও তার ‘তত্ত্বকথায়’ বেশ মজে গেল। তার সারকথা হচ্ছে: এখনকার দুনিয়া যেভাবে চলে, যুদ্ধের বীজ তার মধ্যেই পোতা। যুদ্ধ মোটেই হঠাৎ ঘটে যাওয়া কিছু না।

ইউক্রেনের সবার কাছেই আসলে যুদ্ধ নিয়ে কিছু না কিছু বলার আছে। যেমন কাতিয়ার মতো অনেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে চায় না। আবার মিকিতার মতো অনেকে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধের জের বয়ে চলেছে। কেউ কেউ হয়তো অবচেতনেই।

কাতিয়ার বয়ফ্রেন্ড মিকিতার পুরো নাম মিকিতা সেরহিওভিচ রোজিলেঙ্কো। পদবিটা এসেছে রোজলিনা নামের একটা গ্রাম থেকে। রোজলিনা নামটা ধরে রেখেছে এক নিঃসীম শূন্যতাকে। সেই সময়ের মানুষদের মধ্যে এখন শুধু মিকিতার দাদিই বেঁচে আছেন।

রোজলিনা গ্রাম একসময় ছিল অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জায়গাটা স্তানিস্লাভিভের আশপাশের অনেক এলাকার মতোই পোল্যান্ডের দখলে যায়। স্তানিস্লাভিভের এখনকার নাম ইভানো ফ্রানকিভস্ক। তারপর এলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সেবার গ্রামটার দখল প্রথমে সোভিয়েত এবং পরে জার্মানদের হাতে গেল। যুদ্ধের পর শেষ পর্যন্ত রোজলিনা আবার ইউক্রেনেরই অংশ হয়ে গেল যা ছিল সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোর একটি।

যুদ্ধের সময় ঘরছাড়া অনেক পুরুষ বাসিন্দাই আর রোজলিনায় ফিরে আসেনি। অনেকেই যুদ্ধে মারা যায়, কাউকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, কেউবা স্রেফ ‘হারিয়ে গেছে’। সোভিয়েত আমলে পরিচয় নিবন্ধনের সময় কেউ কেউ নিজেদের আসল পদবি বলতে চাইত না। হয়তো ভয় পেত। হয়তো তাদের স্বামীরা ‘ভুল’ কোনো পক্ষে জড়িত ছিল। কাজেই নিবন্ধন অফিসের কেরানিরা তাদের বানানো নতুন একটা পদবি দিয়ে দিত। সাধারণত গ্রামের নামের সঙ্গে মিলিয়ে কিছু একটা লিখে দেওয়া হতো।

মিকিতার দাদি তখন মাত্র দুই বছরের দুধের বাচ্চা। তাঁর মা একটি ছোট ব্যাগে জরুরি জিনিসপত্র ভরে মেয়ে কোলে গ্রাম ছেড়েছিলেন। বাস আর ট্রেনে করে তাঁরা পৌঁছেছিলেন জাপোরিঝিয়ায়। সবাই বলেছিল, সেখানে পাকা কাজ জুটবে। সোভিয়েত কৃষিখামারগুলো তখন লোক নিচ্ছিল। তার ওপর ভরসা করেই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সাহস পেয়েছিলেন মিকিতার দাদির মা। মুখবুজে খেতের হাড়ভাঙা কষ্টের কাজ করে মেয়েকে বড় করেছেন একাই। বাবার কথা কিছুই জানতেন না মিকিতার দাদি। মা কখনোই তাঁর কথা বলতেন না। একসময় তিনিও বুঝে গিয়েছিলেন, এ নিয়ে মাকে প্রশ্ন না করাই ভালো।

এর মধ্যে আবার একদিন ওকেলোর সঙ্গে ফোনে কথা হলো। আমরা ঠিক করলাম পরের শুক্রবারই কাজ শেষে দেখা করব। জানালাম, মিকিতা আর কাতিয়াও আমার সঙ্গে আসবে। শুনে ওকেলো খুশিই হলেন। উনি প্রথমে অন্য একটা জায়গায় দেখা করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু কাতিয়া বলল নদীর ধারের স্টেশনের কথা। কিয়েভে এক বছরেরও বেশিদিন ধরে থাকলেও ও এখনো সেখানে যায়নি। আসলে আমার মুখে জায়গাটার বর্ণনা শুনেই এর প্রেমে পড়ে গেছে।

কাতিয়া আর আমি আবার মিকিতার সঙ্গে দেখা করলাম সেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশাল তোরণের সামনে। এর ঠিক পাশেই ফিউনিকুলার ট্রেন। তাতে চড়ে একটু পরেই নেমে যেতে হবে। ফিউনিকুলার থেকে নেমে রাস্তাটা পার হলেই তোমার চোখের সামনে নদীর পাড় স্টেশন! সিটি সেন্টার থেকে দনিপ্রো নদী যে এত কাছে, তা প্রায় অবিশ্বাস্য।

যেমনটা ভেবেছিলাম, ওকেলো আগেই পৌঁছে গেছেন। তার বিয়ারের গ্লাস এরই মধ্যে অর্ধেক শেষ। আমাদের জন্য তিনটা বিন ব্যাগও রেখে দিয়েছিলেন ওকেলো। মিকিতা সময় নষ্ট না করে আলোচনায় যোগ দিল। কথা শুরু হলো জাতিরাষ্ট্রের তত্ত্ব কীভাবে বারবার পৃথিবীকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় তা নিয়ে। আমি অবশ্য ইতিমধ্যেই এসব নিয়ে ওকেলোর সঙ্গে আলাপ সেরে ফেলেছি।

কাতিয়া চুপচাপ আমার পাশে বসে ছিল। মাঝে মাঝে ইশারা করতে হাতে চিমটি কাটছিল। বেচারা উঠে পড়তে চায়। শেষ পর্যন্ত আমি হার মানলাম। ওকে নিয়ে এগোলাম ফুড কোর্টের শেষ মাথায়। কাতিয়াকে খুশি করতে ছোটখাটো একটা ফটো সেশন করতে হবে। পোজ দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে তবে থামল মেয়েটা। পাশের কিওস্কগুলোর দিকে গেল সে। ফিরল একটু পরই। হাতে সবার জন্য কোনো আইসক্রিম! ওকেলোকে কিছু জিজ্ঞেস করার দিকে গেল না কাতিয়া। সোজা তার হাতে তুলে দিল একটা। মৃদু হেসে আইসক্রিমটা নিলেন ওকেলো।

(চলবে)

    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    জনতা ব্যাংকে মহাদুর্নীতি, ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বোর্ড

    জনতা ব্যাংকে মহাদুর্নীতি, ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বোর্ড

    সৌদির রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় কালীগঞ্জের দুই প্রবাসীর মৃত্যু

    সৌদির রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় কালীগঞ্জের দুই প্রবাসীর মৃত্যু

    ডিআইজি-এসপিসহ চাকরি গেল ৬  কর্মকর্তার

    ডিআইজি-এসপিসহ চাকরি গেল ৬ কর্মকর্তার

    ‘নিয়মিত ক্লাস না করলে সুপারিশ শোনা হবে না’

    ‘নিয়মিত ক্লাস না করলে সুপারিশ শোনা হবে না’

    সিজারের পর নারীর মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ পরিবারের

    সিজারের পর নারীর মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ পরিবারের

    শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই গ্রেপ্তার

    শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই গ্রেপ্তার

    ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে কিছু হবে না’ বলা সেই ওসি গ্রেপ্তার

    ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে কিছু হবে না’ বলা সেই ওসি গ্রেপ্তার

    সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ‘আগামীর সময়’ পরিদর্শন

    সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ‘আগামীর সময়’ পরিদর্শন

    অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়েই জুডিশিয়াল সার্ভিসে বাজিমাত ঢাবির ১০ শিক্ষার্থীর

    অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়েই জুডিশিয়াল সার্ভিসে বাজিমাত ঢাবির ১০ শিক্ষার্থীর

    খলিলুর রহমানের দপ্তরে নিয়োগ পেলেন জাইমা রহমানসহ ৬ বাংলাদেশি

    খলিলুর রহমানের দপ্তরে নিয়োগ পেলেন জাইমা রহমানসহ ৬ বাংলাদেশি

    ১১ বোয়িং কেনার চুক্তি, বাংলাদেশকে নিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট

    ১১ বোয়িং কেনার চুক্তি, বাংলাদেশকে নিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট

    রেলওয়ের ৬ কোটি টাকার গোপন দর ফাঁস, কাজ সেই আফসারের হাতে

    রেলওয়ের ৬ কোটি টাকার গোপন দর ফাঁস, কাজ সেই আফসারের হাতে

    এনবিআরের কর কমিশনারের শতকোটির দুর্নীতি!

    এনবিআরের কর কমিশনারের শতকোটির দুর্নীতি!

    নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি, ক্ষোভ

    নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি, ক্ষোভ

    স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় বলিউডের ৭ নায়িকা

    স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় বলিউডের ৭ নায়িকা