দাঁতের ক্ষতি করতে পারে যে খাবার

ছবি: সংগৃহীত
দাঁত কেবল খাবার চিবিয়ে খাওয়ার পেষণ যন্ত্রই নয়, বরং এটি আমাদের সামগ্রিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুন্দর ও সুস্থ একপাটি দাঁত যেমন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, তেমনি শারীরিক সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি হিসেবেও কাজ করে।
মুখগহ্বর হলো শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশদ্বার। তাই দাঁত যদি রোগমুক্ত না থাকে, তবে তার প্রভাব সরাসরি আমাদের হজম প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপরও পড়তে পারে।
একটি মোহনীয় একটি হাসির আড়ালেও সুস্থ দাঁতের ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের সামাজিক যোগাযোগকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে স্বাস্থ্যকর মুখগহ্বর। তাই কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং রোগমুক্ত ও দীর্ঘায়ু জীবনের জন্য দাঁতের সঠিক যত্ন ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনে কিছু খাবার আছে এমন যা আমাদের দাঁতে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী-
কোমল পানীয় বা সফট ড্রিঙ্কস
কোমল পানীয় দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। প্রথমত, এতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে যা ব্যাকটেরিয়ার প্রধান খাদ্য। দ্বিতীয়ত, সোডায় থাকা ফসফরিক এবং সাইট্রিক অ্যাসিড দাঁতের শক্ত আবরণ বা এনামেল গলিয়ে ফেলে। এমনকি ডায়েট সোডাও অ্যাসিডিক হওয়ার কারণে দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে চুমুক দিয়ে এই পানীয় খেলে দাঁত সরাসরি অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসে, যা ক্যাভিটি ও দাঁত শিরশিরানি বাড়িয়ে দেয়।
আঠালো মিষ্টি ও ক্যান্ডি
ললিপপ, চকোলেট বা জেলির মতো আঠালো খাবারগুলো দাঁতের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ এগুলো খাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ লেগে থাকে দাঁতের ফাঁকে। আমাদের মুখের লালা শক্তভাবে লেগে থাকা চিনি সহজে পরিষ্কার করতে পারে না। ফলে মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দীর্ঘ সময় ধরে সেই চিনি খেয়ে অ্যাসিড তৈরি করার সুযোগ পায়। যা দাঁতের গঠন নষ্ট করে গর্ত বা ক্যাভিটি তৈরি করে।
স্টার্চ বা শ্বেতসারযুক্ত খাবার
সাদা পাউরুটি, চিপস বা পাস্তার মতো খাবারগুলো চিবানোর সময় লালার প্রভাবে চিনিতে পরিণত হয় ও একটি আঠালো মণ্ড তৈরি করে। এটি দাঁতের মাঝখানের সরু খাঁজে ঢুকে বসে থাকে। ব্রাশ না করা পর্যন্ত এগুলো বের হয় না। দীর্ঘমেয়াদে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয় এর কারণে। আলু বা ময়দার তৈরি এই খাবারগুলো অনেক সময় মিষ্টির চেয়েও বেশি সময় দাঁতে আটকে থেকে দাঁতের ক্ষতি করতে থাকে।
শুকনো ফল বা ড্রাই ফ্রুটস
কিশমিশ, খেজুর বা শুকনো খুবানি চিবোতে বেশ আরামদায়ক হলেও এগুলো কিন্তু বেশ আঠালো। ফল শুকানোর ফলে এর ভেতরের প্রাকৃতিক চিনি খুব ঘনীভূত হয়ে যায়। এই আঠালো চিনি দাঁতের এনামেলের সাথে শক্তভাবে লেগে থাকে, যা ক্যান্ডির মতোই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ড্রাই ফ্রুটস খাওয়ার পর ব্রাশ বা ফ্লসিং (সুতো দিয়ে দাঁত পরিষ্কার) না করলে দাঁতের ক্ষয় রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ড্রাই ফ্রুটস স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি, সেজন্য খাওয়া বন্ধ না করে খাওয়ার পর মুখ ও দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিলেই হবে।

