ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ইইউ-যুক্তরাজ্য

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে বদলাতে শুরু করেছে ইউরোপের রাজনীতি। যার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক অবস্থানেও। অধিকাংশ ব্রিটিশ নাগরিকের ধারণা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বার্থ প্রায়ই একই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ভিন্ন।
জরিপ সংস্থা ইপসোসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৪৩ শতাংশ ব্রিটিশ মনে করেন, যুক্তরাজ্য ও ইইউর স্বার্থ প্রায় একই। ২০২৩ সালে এই হার ছিল ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে ৪৫ শতাংশ ব্রিটিশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিন বছর আগে যা ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ। একই ধরনের প্রবণতা ফ্রান্স ও জার্মানিতেও। এসব দেশের নাগরিকরাও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ব্রিটেনকে মনে করছেন বেশি ঘনিষ্ঠ।
ট্রাম্পের চরম ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হাঙ্গেরির সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। সম্প্রতি তিনি হেরেছেন নির্বাচনে। এর ফলে ইউরোপের বিভিন্ন ডানপন্থী দল ট্রাম্পের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে ভাবছে নতুন করে।
এ প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। ব্রেক্সিট গণভোটের দশম বার্ষিকীতে রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাষণে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তুলে ধরতে পারেন স্টারমার।
ইইউ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক নতুন করে গতি পেতে যাচ্ছে গ্রীষ্মের শীর্ষ বৈঠকে। তার আগে উভয়পক্ষ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের বাণিজ্যসংক্রান্ত স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি নীতিমালা, কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্য প্রকল্প এবং যুব-গতিশীলতা।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ-যুক্তরাজ্য ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনার মারোস শেফচোভিচ জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য গঠিত ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ তহবিলে যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে চলছে আলোচনা।
সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী নিক থমাস-সাইমন্ডস বলেছেন, ব্রেক্সিট পরবর্তী ‘নেতিবাচক সময়’ শেষ।
নিক থমাস-সাইমন্ডস আরও বললেন, ‘আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হলেও এর মানে এই নয় যে ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকবে না।’

