শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
চার শতাব্দী ধরে জনপ্রিয় জাপানি থিয়েটার আর্ট ফর্ম কাবুকি

চার শতাব্দী ধরে জনপ্রিয় জাপানি থিয়েটার আর্ট ফর্ম কাবুকি

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • পত্রিকা
  • ইপেপার
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • পত্রিকা
  • ইপেপার
  • EN

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ আগামীর সময়

আগামীর সময় ভারত

বিধানসভা নির্বাচন

পশ্চিমবঙ্গে ভোট দিতে পারবেন না লাখো মুসলিম, নেপথ্যে কী?

আলজাজিরাপ্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২৯
পশ্চিমবঙ্গে ভোট দিতে পারবেন না লাখো মুসলিম, নেপথ্যে কী?

এসআইআর প্রক্রিয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ হারিয়েছেন ভোটাধিকার।

পশ্চিমবঙ্গের ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা নবিজান মণ্ডল। গত ৫০ বছর ধরে ভারতের প্রতিটি নির্বাচনে দিয়ে আসছেন ভোট। তবে হঠাৎ করেই তিনি দেখলেন, তার নাম নেই ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) প্রকাশিত নতুন ভোটার তালিকায়।

পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন হবে, আর ভোট গণনা ৪ মে। নির্বাচনের আগে এই মাসেই বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন করেছে ইসিআই। দেশজুড়ে একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চালানো হয়েছে এ প্রক্রিয়া। তবে এ নিয়ে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

নবিজানের পরিবারের সবার নাম থাকলেও নেই তার। কারণ হিসেবে জানা যায়, তিনি ভোটার কার্ডে ‘নবিজান’ নামে পরিচিত। তবে আধার কার্ড ও রেশন কার্ডের মতো সরকারি নথিতে তার নাম রয়েছে ‘নবিরুল’ হিসেবে।

নবিজন মণ্ডল

এসআইআর প্রক্রিয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ হারিয়েছেন ভোটাধিকার। যা রাজ্যের মোট ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখকে অনুপস্থিত বা মৃত চিহ্নিত করা হয়েছে, আর বাকি ৩০ লাখ ভোট দিতে পারবেন না বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত।

‘আমি খুব কষ্টে আছি। কাকে বলব? কখনো ভাবিনি আমার নাম কাটা যাবে। এখন যাই হোক, নাম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।’

তবে নির্বাচনের আগে এত বিপুল সংখ্যক মামলার শুনানি হওয়া প্রায় অসম্ভব। প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করাও অনেকের জন্য কঠিন। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যাদের মামলা বিচারাধীন, তারা এপ্রিলে ভোট দিতে পারবেন না। তবে নির্বাচন কমিশন চাইলে প্রকাশ করতে পারে পরিপূরক ভোটার তালিকা।

‘পরিকল্পিত পদক্ষেপ’

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ মুসলমান বাস করেন, যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ।

এই রাজ্যে কখনো জয় পায়নি বিজেপি। ২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায়, যা অবসান ঘটিয়েছিল ৩৪ বছরের বাম শাসনের।

ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, মুসলমানরা এ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, বিশেষ করে যেসব জেলায় তাদের জনসংখ্যা বেশি। যেমন মুর্শিদাবাদে ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদায় বাদ গেছে ২ লাখ ৪০ হাজার নাম।

‘পুরুষদের যেখানে বর্তমান ঠিকানার কাগজ দিতে হয়, নারীদের দিতে হয় বাবার বাড়ির কাগজ। এই বৈষম্যের কারণেই বাদ পড়েছে অনেক নারীর নাম।’

গোবিন্দপুর, গোবরা ও বালকি গ্রামের বহু মুসলিম পরিবার জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নথি থাকলেও কেটে দেওয়া হয়েছে তাদের নাম। আবার অনেকেই বাসস্থানের প্রমাণ, বিয়ের পর নাম পরিবর্তন, বানান ভুল বা অন্য রাজ্যে স্থানান্তরের প্রমাণ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া গ্রামের ৪৯ বছর বয়সী শহিদুল ইসলামও আগে ভোট দিয়েছেন, এখন তিনি আর ভোটার নন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহিদুলের ভাষ্য, ‘আমি খুব কষ্টে আছি। কাকে বলব? কখনো ভাবিনি আমার নাম কাটা যাবে। এখন যাই হোক, নাম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।’

ইসিআই বলছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ভুয়া বা মৃত ভোটার বাদ দেওয়া এবং প্রকৃত ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা।

তবে বিরোধী দল ও মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ—যেখানে মুসলমানদের বাদ দেওয়া হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে।

২০১৪ সালের পর থেকে মূলত বিজেপির বিরোধী দলগুলোকেই ভোট দিয়ে আসছেন ভারতের মুসলমানরা

দ্রুত প্রক্রিয়ার পেছনে প্রশ্ন

২০১৪ সালের পর থেকে মূলত বিজেপির বিরোধী দলগুলোকেই ভোট দিয়ে আসছেন ভারতের মুসলমানরা। পশ্চিমবঙ্গে সেই দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত দেখিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মুসলমানরা এ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, বিশেষ করে যেসব জেলায় তাদের জনসংখ্যা বেশি। যেমন মুর্শিদাবাদে ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদায় বাদ গেছে ২ লাখ ৪০ হাজার নাম।

বিজেপি বলছে, এই উদ্যোগ ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বাদ দেওয়ার জন্য নেওয়া— যেখানে ‘বাংলাদেশি’ ও ‘রোহিঙ্গা’দের উল্লেখ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষক সাবির আহমেদ বলছিলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে হয়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে করা হয়েছে তড়িঘড়ি করে।

তার মতে, ‘এই তাড়াহুড়োর পেছনে উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু এলাকায় মুসলিম ভোটারদের নামই বেশি কাটা হয়েছে। যেমন নন্দীগ্রামে মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ মুসলিম হলেও বাদ পড়া নামের ৯৫ শতাংশই মুসলিম।

আইনবিদ স্বাতী নারায়ণ বলেছেন, নারী ও দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ তাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি কম থাকে।

‘এই মাটিতে খুঁড়লে আমাদের নাড়ি পাওয়া যাবে। আমি একজন মুসলমান— আমরা এখানেই ভোট দেব, এখানেই মরব।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদবের মতে, ‘পুরুষদের যেখানে বর্তমান ঠিকানার কাগজ দিতে হয়, নারীদের দিতে হয় বাবার বাড়ির কাগজ। এই বৈষম্যের কারণেই বাদ পড়েছে অনেক নারীর নাম।’

নারী ও দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন
‘আমরা এখানেই থাকব’

মুর্শিদাবাদের শহিদুল ইসলামের দাবি, সব নথি জমা দেওয়ার পরও তার নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলছেন, ‘এই মাটিতে খুঁড়লে আমাদের নাড়ি পাওয়া যাবে। আমি একজন মুসলমান— আমরা এখানেই ভোট দেব, এখানেই মরব।’

বিধানসভা নির্বাচনপশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনমুসলিম ভোটার
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাজ্যে খাদ্য সরবরাহে শঙ্কা

    ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাজ্যে খাদ্য সরবরাহে শঙ্কা

    ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০১

    যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে ‘সমকামিতা’ দাবি, আলোচনায় পাকিস্তান-বাংলাদেশ

    যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে ‘সমকামিতা’ দাবি, আলোচনায় পাকিস্তান-বাংলাদেশ

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৩৮

    একটি নয়, এনসিপির নজর সংরক্ষিত ৩ আসনে

    একটি নয়, এনসিপির নজর সংরক্ষিত ৩ আসনে

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১০

    ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল-লেবানন

    ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল-লেবানন

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৩৫

    কুমিরের মুখে কুকুর, তদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    কুমিরের মুখে কুকুর, তদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:২০

    ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ইইউ-যুক্তরাজ্য

    ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ইইউ-যুক্তরাজ্য

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১৪

    ভয়ংকর এক ‘মমি’ আসছে দেশে

    ভয়ংকর এক ‘মমি’ আসছে দেশে

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:২২

    ফিরল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, থাকবে সরকারি ছুটি

    ফিরল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, থাকবে সরকারি ছুটি

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১১

    কেন বাউলদের আঘাত করা হচ্ছে, প্রশ্ন রিজভীর

    কেন বাউলদের আঘাত করা হচ্ছে, প্রশ্ন রিজভীর

    ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৪২

    মাঝেমধ্যেই কারওয়ান বাজারে খেতে আসে বানরটি

    মাঝেমধ্যেই কারওয়ান বাজারে খেতে আসে বানরটি

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৪

    বাড়ছে রেডিওর জনপ্রিয়তা, কমছে টেলিভিশনের

    বাড়ছে রেডিওর জনপ্রিয়তা, কমছে টেলিভিশনের

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৫

    ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল দাবির সত্যতা কতটা?

    ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল দাবির সত্যতা কতটা?

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১০

    পশ্চিমবঙ্গে ভোট দিতে পারবেন না লাখো মুসলিম, নেপথ্যে কী?

    পশ্চিমবঙ্গে ভোট দিতে পারবেন না লাখো মুসলিম, নেপথ্যে কী?

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২৯

    সুযোগ আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে সিরিজ জয়

    সুযোগ আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে সিরিজ জয়

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০০

    মাঝেমধ্যে চলছে ফেরি, ট্রিপ বাতিল করছে ট্রলারও

    মাঝেমধ্যে চলছে ফেরি, ট্রিপ বাতিল করছে ট্রলারও

    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৭