ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল দাবির সত্যতা কতটা?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বাক্য: ‘গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রীও গুম অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন’- নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোচনা।
এ শুধু একটি দাবি নয়, এটি যেন আঘাত করেছে এক দীর্ঘ প্রতীক্ষা, এক অনিশ্চয়তায় আটকে থাকা জীবনের অনুভূতিকে। বছরের পর বছর ধরে নিখোঁজ স্বামীর খোঁজে প্রশ্ন করে যাওয়া এক নারীর নাম জড়িয়ে যখন এমন একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেটি শুধু বিভ্রান্তিই তৈরি করে না- বরং না পাওয়া উত্তরগুলোর নতুন করে নাড়া দেয়।
তবে অনুসন্ধান বলছে, আবেগ ছড়িয়ে দেওয়া এই দাবির ভেতরে সত্যের কোনো ভিত্তি নেই; আছে কেবল ভুল তথ্যের বিস্তার।
১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় ‘Bangladesh Jamaat Islami Kaliganj Jhenaidah’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়ে আলোচিত এই পোস্টটি। অল্প সময়েই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
পোস্টটির কমেন্ট ঘেঁটে দেখা যায়, অনেকেই এটি সত্য ধরে নিয়ে জানাচ্ছেন প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, কেউ আবার ইঙ্গিত করেছেন ব্যক্তিগত স্বার্থের দিকে। এসব মন্তব্যে স্পষ্ট— একটি অযাচাইকৃত দাবি কীভাবে মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
কিন্তু তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।
ভাইরাল দাবির বিষয়ে কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধান করে দেশের কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি জাতীয় সংসদের অধিবেশন বা সংশ্লিষ্ট আলোচনায়ও এ ধরনের কোনো ভোটের তথ্য নেই।
দৈনিক সমকালে ১০ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদের অনুমোদন না পাওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারায়। এর মধ্যে ছিল ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’। অর্থাৎ এই অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনই হয়নি, ফলে এটি নিয়ে প্রশ্নই ওঠে না কোনো ভোট হওয়ার।
একইভাবে, প্রথম আলোর ১৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়— যেসব অধ্যাদেশ সময়মতো সংসদে তোলা হয়নি, সেগুলো নিয়েভবিষ্যতে নতুন করে বিল আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট
তাহসিনা রুশদীর লুনা শুধু একজন সংসদ সদস্য নন, তিনি গুমের শিকার এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। ২০১২ সালে স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তিনি গুমের বিরুদ্ধে পালন করে আসছেন সোচ্চার ভূমিকা ।
সম্প্রতি সংসদেও তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের খোঁজ জানতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। যমুনা টিভির একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এখনো জানি না আমাদের স্বজনেরা কোথায়… তাদের পরিণতি কী।’
তিনি গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং আর্থিক সহায়তার দাবিও তুলেছেন।
সব দিক বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট- ‘ইলিয়াস আলীর স্ত্রী গুম অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন’ এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশটি সংসদে উত্থাপনই হয়নি, ফলে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না।

