ধারণার উল্টো তথ্য জরিপে
বাড়ছে রেডিওর জনপ্রিয়তা, কমছে টেলিভিশনের
- ২০২২ সালে রেডিও ব্যবহার ১২.৮ শতাংশ পরিবারে
- ২০২৪-২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ
- টেলিভিশনের ব্যবহার নেমেছে ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশে
- ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে জেলা, বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য

আগামীর সময় গ্রাফিকস
দেশের মানুষ এখন আর রেডিও শোনেন না। সাধারণ ধারণা এটাই। কিন্তু প্রচলিত এ ধারণা যাচ্ছে বদলে। দেশে কমছে পরিবারভিত্তিক টেলিভিশনের ব্যবহার, বাড়ছে রেডিওর। এমনই চিত্র পাওয়া গেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আইসিটির প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৪-২৫-এর প্রতিবেদনে। আজ বৃহস্পতিবার এটি প্রকাশ করা হয় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিবিএস মিলনায়তনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে রেডিও ব্যবহার হতো ১২ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারে। ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশে। পরিবারভিত্তিক টেলিভিশনের ব্যবহার নেমেছে ৬২ শতাংশ থেকে ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশে।
প্রচলিত রেডিওর বাইরেও মোবাইল ফোনে রেডিওর ব্যবহার এবং চার্জার লাইটসহ অন্য ডিভাইসের সঙ্গে থাকা রেডিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এ হিসাবে। এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ রেডিওর ওপর নির্ভরশীল থাকে আবহাওয়ার খবর জানতে। আগামীর সময়কে বলছিলেন বিবিএসের কম্পিউটার উইংয়ের পরিচালক কবীর উদ্দিন। তবে টেলিভিশনের ব্যবহার কেন কমছে তার কারণ জানাতে পারেননি তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোনের ব্যবহার পরিবারভিত্তিক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশে, যা ২০২২ সালে ছিল ৯৭ দশমিক ৪ শতাংশ। বাড়েনি ল্যান্ডফোনের ব্যবহার। ইন্টারনেট ব্যবহার করা পরিবারের সংখ্যা ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে রয়েছে জেলা, বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য। জেলাভিত্তিক সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে ঢাকার পরিবারগুলোতে আর সবচেয়ে কম পঞ্চগড়ে।
পরিবারভিত্তিক মোবাইল ফোন রয়েছে সবচেয়ে বেশি কিশোরগঞ্জে। নড়াইলে সবচেয়ে কম। ঢাকায় পরিবারভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সবচেয়ে বেশি, সবচেয়ে কম পঞ্চগড়ে।
ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ঢাকায়, পঞ্চগড়ে কম। স্মার্টফোনের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি কুমিল্লায় এবং কম পঞ্চগড়ে। কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা সবচেয়ে বেশি ঢাকার পরিবারগুলোতে এবং কম ঠাকুরগাঁওয়ে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই কপি-পেস্টের কাজ করেন সবচেয়ে বেশি। তবে ইন্টারনেটে যে সুবিধা আছে, ব্যবহার হয় তার অনেক কম।
প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৫ সালের আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সও। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক গড় স্কোর ৭৮ এবং নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের স্কোর ৬৬। বাংলাদেশের স্কোর ৬৪ দশমিক ৯। ভিয়েতনামের স্কোর ৮৬, ভুটানের ৮৫ দশমিক ৭। মালদ্বীপের স্কোর ৮১ দশমিক ৭, শ্রীলঙ্কার ৭১ দশমিক ৪, মিয়ানমারের ৬৯ দশমিক ৭।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। ‘সঠিক পরিসংখ্যানের মাধ্যমেই সঠিক পরিকল্পনা করা সম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে’— বললেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জরিপের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দা মারুফা শাকি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মাসুদ রানা চৌধুরী ও মীর হোসেন। বিবিএসের মহাপরিচালক মো. ফরহাদ ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিবিএসের ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড লেবার উইংয়ের পরিচালক এইচ এম ফিরোজ।

