প্রথম ওয়ানডে
সুযোগ আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে সিরিজ জয়

এই ট্রফির লড়াইয়ে নামছেন দুই অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও টম ল্যাথাম। ছবি: আগামীর সময়
কেউ খুঁজছেন সুযোগ, কারও চাই অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে দুই দলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য এক, সিরিজ জয়। তবে সেই লক্ষ্যপূরণের পথটা আলাদা। মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটসম্যানদের দিতে চান পর্যাপ্ত সুযোগ, এতে করে কারও জন্য হয়তো অপেক্ষার প্রহরটা হবে দীর্ঘ। টম ল্যাথাম তার সতীর্থদের দিতে চান উপমহাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা, যে সুযোগটা তাদের অনেকেরই হয়েছে আইপিএল এবং পিএসএলে খেলার জন্য শীর্ষ ক্রিকেটারদের ছেড়ে দেওয়ার কারণে। শুক্রবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ, প্রথম ম্যাচে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ১১টায়।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তিন ম্যাচেই একই একাদশ মাঠে নেমেছিল, স্কোয়াডে থাকা অন্যদের এ সিরিজে সুযোগ মিলবে কি না, এমন প্রশ্নে মিরাজ বলেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমি চাই একজন ব্যাটসম্যানকে যেন তার জায়গায় পর্যাপ্ত সুযোগ পায়। সে যেন নিজের বিষয়টা বুঝতে পারে। অধিনায়ক হিসেবে আমার পরিকল্পনা হচ্ছে প্রতিটি ব্যাটসম্যান যেন একই সুযোগ পায়।’ ওই সিরিজে স্কোয়াডে থাকা দুজন ব্যাটসম্যান সুযোগ পাননি, একজন সৌম্য সরকার ও অন্যজন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
বিসিবি সভাপতি যখন ওয়ানডে অধিনায়ক ছিলেন, তখন সৌম্যকে সাত নম্বরে অলরাউন্ডার হিসেবে খেলানোর চেষ্টা করেছিলেন। একেক সময়ে একেক কোচ তাকে একেক সংস্করণে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান, ওয়ানডাউনসহ নানান ব্যাটিং পজিশনে সুযোগ দিয়েছেন। ৭৯টা ওয়ানডে ও ৮৭টা টি-টোয়েন্টি খেলা একজন ক্রিকেটারকে যদি তার চেয়েও পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা ক্রিকেটারদের কাছে জায়গা হারাতে হয়, সেটা নিজের দোষেই।
তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান মিলে খেলেছেন ৪০ ওয়ানডে (৩১+৯), যেটা সৌম্যর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রায় অর্ধেক, বিপিএল এবং বিসিএলে চূড়ান্ত ফ্লপ সৌম্য জাতীয় দলে টিকে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯১ রানের ইনিংসের স্মৃতিতে ভর করে। অঙ্কন স্কোয়াডে আছেন মূলত বিকল্প উইকেটকিপার হিসেবে, লিটন দাস চোট পেয়ে স্কোয়াডের বাইরে না গেলে তার খেলার সুযোগ কম। মিরাজের আশ্বাস, ‘প্রতিটি ক্রিকেটারই সুযোগ পাবে। কারণ, আমাদের একটা সিরিজ না, বিশ্বকাপের আগে অনেক ম্যাচ আছে। অধিনায়ক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি খেলোয়াড়ই তার জায়গায় সুযোগ পাবে।’ সবাইকে সুযোগ দেওয়া, ভালো খেলার সঙ্গে সিরিজ জিতে র্যাংকিংয়ে উন্নতি করাটাও মিরাজের লক্ষ্য, কারণ সেটাই যে প্রশস্ত করবে বিশ্বকাপে যাওয়ার রাস্তা।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেতৃত্বের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে মিরাজের। যদিও বাংলাদেশের সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সফরে আসা অধিনায়ক ল্যাথামের জন্য পরের সিরিজে দলে থাকাটাই অনিশ্চয়তার। শীর্ষ ক্রিকেটাররা ফিরলে উইকেটের পেছনে দাঁড়াবেন ডেভন কনওয়ে বা টিম সেইফার্ট, নেতৃত্বে আসবেন মিচেল স্যান্টনার। বাংলাদেশ সফর হলেই যেন বারবার ডাক পড়ে ল্যাথামের, এটাকে তিনি মনে করেন নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ হিসেবেই।
অনভিজ্ঞদের নিয়ে গড়া দল নিয়ে বাংলাদেশে আসায় নিজের ওপর বাড়তি দায়িত্ব দেখছেন ল্যাথাম, ‘আমাদের দলে এমন খেলোয়াড় আছে যাদের অভিজ্ঞতা একটু কম, বিশেষ করে এই ধরনের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা কম। তারা যত বেশি বাংলাদেশের মতো জায়গায় সুযোগ পাবে, আমাদের জন্য তত ভালো হবে। আমরা যদি ম্যাচ ধরে ধরে উন্নতি করতে পারি, শেখার প্রক্রিয়াটা চালিয়ে যেতে পারি, সিরিজের শেষদিকে গিয়ে ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারব। যখন দলে অভিজ্ঞতা কম থাকে, তখন আমার মতো যারা একটু বেশি খেলেছি আর যারা এ কন্ডিশনে আগে খেলেছে, তাদের দায়িত্ব হলো নতুনদের যতটা সম্ভব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ভাগ করে দেওয়া। আমরা অবশ্যই পরিকল্পনা, অনুশীলন আর প্রস্তুতির সবকিছুই ঠিকভাবে করতে চাই। তবে ম্যাচে নামার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— সামনে যা আসবে, সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজের সেরাটা দেওয়া।’
অভিজ্ঞতা অর্জন, নেতৃত্বের সম্মান সবই থাকবে প্রাপ্তির খাতায়, তবে একই সঙ্গে সিরিজটা জেতারও আশাবাদ ল্যাথামের, ‘আমাদের লক্ষ্য তো পরিষ্কার, আমরা এখানে এসেছি সিরিজ জিততে। সবার দৃষ্টিকোণ থেকেই, এটাই মূল লক্ষ্য।’

