তেল সংকট
মাঝেমধ্যে চলছে ফেরি, ট্রিপ বাতিল করছে ট্রলারও

বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাট। ছবি : আগামীর সময়
বরিশাল নগরীর নিউ সার্কুলার রোড এলাকার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম। নগরী থেকে প্রতিদিন তাকে যেতে হয় নিজ কর্মস্থল মুলাদীর আরিফ মাহামুদ ডিগ্রি কলেজে। নিয়মিত যাতায়াতে তেমন ভোগান্তিতে না পড়লেও আজ পড়েছেন বিপাকে।
বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে তিনি উঠেছিলেন মুলাদীর একটি বাসে। পথে বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করছিল বাসটি। পরে জানা গেল তেল না থাকায় চলছে না ফেরি। বাস থেকে নেমে মরিয়ম চলে যান ট্রলার ঘাটে। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তেল সংকটে চলছে না ট্রলারও।
মরিয়মের ভাষ্য, ‘ঘণ্টা খানেক বসে থাকার পর একটি ট্রলারে তেল ভরা হলে অতিরিক্ত ভাড়ায় যেতে পেরেছি কলেজে।’
শুধু মরিয়ম নন, বরিশাল থেকে হিজলা ও মুলাদীগামী যাত্রী বা সেখান থেকে বরিশাল বা ঢাকাগামী যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে এমন ভোগান্তিতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় সব সময় চলছে না ফেরি। কমেছে ট্রলারও।
বরিশাল নগরী ও ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগে দুই উপজেলার একমাত্র ভরসা মীরগঞ্জ ফেরি। তবে জ্বালানি তেল সংকটের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন হিজলা ও মুলাদীর বাসিন্দারা। প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ না থাকায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলছে না যানবাহন। এতে একদিকে বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ, অন্যদিকে লোকসানের মুখে পরিবহন মালিকরা।
নিয়মিত মীরগঞ্জ ফেরিঘাট ব্যবহার করা স্কুল শিক্ষিকা সালমা ইসলাম বলছিলেন, ‘এই ঘাট অচল থাকলে বরিশাল থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে মুলাদী ও হিজলা। তেল সংকটে এই উত্তাল নদীতে নৌকায় যাতায়াতে বাধ্য হতে পারে স্থানীয়রা।’
মীরগঞ্জ ফেরি ঘাট এলাকার চা দোকানি জগন্নাথ বাড়ৈ মন্তব্য করেন, ‘তেল সংকটের কারণে এপার থেকে ওপারে যেতে পারছে না অনেক বাস। মীরগঞ্জ ঘাটেই যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে বাসগুলো। তাছাড়া ঠিকমতো চলছে না ফেরিও। এতে একদিকে যাত্রীদের হয়রানি বেড়েছে, আরেকদিকে উপার্জন কমেছে স্থানীয় দোকানিদের।’
ফেরি ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একটি ফেরি সচল রাখতে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ২৬০ লিটার তেল প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫০ লিটার তেল। দৈনিক ঘাটতি ১০০ লিটারের। এভাবে সপ্তাহ শেষে ঘাটতি ৭০০ লিটারের বেশি।
মীরগঞ্জ ফেরির ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রাকিবুল ইসলাম মামুনের ভাষ্য, ‘এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাবে ফেরি সেবা।’
একই ঘাটে তীব্র সংকটে যাত্রী পারাপারের জন্য ব্যবহৃত ট্রলারগুলোও (ইঞ্জিন চালিত নৌকা)। ট্রলার চালকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন ট্রলার প্রতি প্রায় ৬০ লিটার তেলের প্রয়োজন, কিন্তু কোনো সরবরাহ পাচ্ছেন না তারা। স্থানীয় দোকান থেকে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল সংগ্রহ করে আংশিকভাবে যাত্রী পরিবহন করছে ট্রলারগুলো।
বাবুগঞ্জের কামিনী ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা শুধু বাবুগঞ্জেই নয়, পুরো দেশেই। তারপরও সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে তেল।
‘ফেরি চালাতে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে ২০০ লিটার তেল। অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ বলছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা।

