মাঝেমধ্যেই কারওয়ান বাজারে খেতে আসে বানরটি

ছবিঃ আগামীর সময়
গ্রীষ্মের দুপুর বিকেলের দিকে গড়িয়ে গেলেও তেজ কমেনি। নগরের পথে পথে হেঁটে যাওয়া মানুষের শরীরে জন্ম নিচ্ছে ঘাম। বাতাসে শীতলতার খোঁজ মেলা দুষ্কর। এমনই যখন অবস্থা, তখন ঢাকার নিউক্লিয়াস, কারওয়ান বাজারে দেখা মিলল এক বানরের। কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের দুই ফুটপাত ঘেঁষে তখন ব্যস্ত মানুষের পদচারণা।
ঘরে ফেরার তাড়া, অফিসে ফেরার তাড়া কিংবা কারও কোনো তাড়া নেই, তবুও পথে তারা হেঁটে যান গায়ের সঙ্গে গা গলিয়ে। সেই ফাঁক গলে মেট্রো স্টেশনের তল দিয়ে হেলেদুলে এক বয়সী বানর এসে বসে পড়ল পান্থপথমুখী বাঁকে। মেট্রো স্টেশন থেকে মানুষ নামতেই থমকে যাচ্ছেন, একটু সরে গিয়ে তাকে বিরক্ত ছাড়াই নিজ গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন।
কেউ বানরটিকে বিরক্ত করবেন না। ও এখানে প্রায়ই আসে। ও ওর মতো থাকে আবার চলে যায়
যেখানে পা রাখার জায়গা নেই। ফুটপাত ঘেঁষে মানুষ যাচ্ছে কোনোমতো, লেগে থাকা ভিড়ের মাঝেই সেখানে মুহূর্তে বানরটির জায়গা হয়ে গেল। শুধু তা-ই নয়, একজন পাশের দোকান থেকে কলা নিয়ে ছিলে দিল। তার সামনে। আরেকজন শুনতে চাইছেন,
‘সে কি কেক খায়?’
আরেকজন জিজ্ঞেস করছেন,
‘পানি দেব?’
বানরটি বসল। বেশকিছুক্ষণ বসে থাকল। অনেক কৌতূহলী মুখ এসে নানা প্রশ্ন করে গেল। কিছুক্ষণ পর বানরটি পেছন ঘুরে হাঁটা শুরু করে দিল। ফুটপাত দিয়ে হেঁটে হেঁটে পাশের একটি ব্যাংকের বারান্দায় উঠে বসে পড়ল। কিছু মানুষ বেশ উঁকিঝুঁকি দিয়ে বানরটিকে দেখতে লাগলেন, করতে লাগলেন নানা প্রশ্ন। সে কতটা সাড়া দেয় কেউ কেউ সে চেষ্টাও করলেন।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে ব্যস্ত কারওয়ান বাজার ও ছুটে চলা মানুষকে দেখছিল অবাক হয়ে
মুহূর্তে একজন নিরাপত্তারক্ষী এসে বললেন, ‘কেউ বানরটিকে বিরক্ত করবেন না। ও এখানে প্রায়ই আসে। ও ওর মতো থাকে আবার চলে যায়।’
নিরাপত্তারক্ষীর নাম সুবীর। সুবীরকে বললাম, ‘বানরটি প্রায়ই আসে মানে, কোথা থেকে আসে?’ সুবীর বললেন, ‘কোথা থেকে আসে সেটা ঠিক আমি জানি না। কিন্তু ও মাঝেমধ্যেই আসে। অন্যান্য বানরের মতো সে না, কাউকে বিরক্ত করে না। আক্রমণাত্মক নয়। ও ওর মতো আসে। মানুষজন কলা, বাদাম বা বিভিন্ন খাবার দেয়। সে খেয়ে চলে যায়। আবার কাঁচা বাজারের দিকেও যায়, ওদিকেও খাবার পাওয়া যায়। আমরা কেউ বিরক্ত করি না, কাউকে করতেও দিই না।।’
সুবীর যখন কথা বলছিলেন, তখন ব্যাংকের বারান্দা থেকে বানরটা নেমে ফের ফুটপাতে চলে এসেছে, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে ব্যস্ত কারওয়ান বাজার ও ছুটে চলা মানুষকে দেখছিল অবাক হয়ে।

