ক্লান্ত দুপুরে চা-কফি নাকি এক গ্লাস পানি?

দুপুরের খাবারের পর কাজ করতে বসেছেন। চোখে ঘুম, মাথায় ঝিমুনি, কাজে মন বসছে না। এমন সময়ে অনেকের হাত চলে যায় চায়ের কাপের দিকে, কেউ আবার বানিয়ে নেন এক মগ কফি। কিন্তু শরীরের এই ক্লান্তি কাটাতে সত্যিই কি ক্যাফেইন দরকার, নাকি এক গ্লাস পানিই হতে পারে ভালো শুরু?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি নির্ভর করে ক্লান্তির কারণের ওপর। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে পানি পান উপকার করতে পারে। অন্যদিকে, ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতর্কতা বাড়াতে এবং ঘুম ঘুম ভাব কমাতে পারে। তবে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প হিসেবে চা-কফির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে
দিনের ব্যস্ততায় অনেকেই নিয়মিত পানি পান করতে ভুলে যান। গরম আবহাওয়া, ঘাম, দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকা কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর লক্ষণ হিসেবে তৃষ্ণা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। এমন অবস্থায় এক গ্লাস পানি পান করা ভালো সিদ্ধান্ত। তবে পানির ঘাটতি না থাকলে অতিরিক্ত পানি পান করলেই যে সঙ্গে সঙ্গে কর্মশক্তি ফিরে আসবে, এমন নয়।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের (এনএইচএস) পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে ছয় থেকে আট গ্লাস তরল পান করা একটি সাধারণ নির্দেশনা। তবে আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যক্তিভেদে প্রয়োজনের পরিমাণ বদলাতে পারে। প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকা শরীরে পর্যাপ্ত পানির একটি সাধারণ নির্দেশক।
চা-কফি কি সত্যিই ক্লান্তি কমায়?
চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে কিছু সময়ের জন্য ঘুম ঘুম ভাব কমতে পারে এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। এ কারণেই দুপুরের ক্লান্তিতে অনেকেই চা বা কফি পান করেন।
তবে ক্যাফেইনের প্রভাব সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। কারও অল্প কফিতেই সতর্কতা বাড়ে, আবার কেউ একই পরিমাণ পান করেও অস্বস্তি অনুভব করেন। বেশি ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে অস্থিরতা, উদ্বেগ, বুক ধড়ফড় এবং ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত বিরূপ প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তবে এটি সবার জন্য নির্দিষ্ট নিরাপদ মাত্রা নয়। পানীয়ের ধরন, পরিমাণ, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার, চা-কফিও দৈনিক তরল গ্রহণের অংশ। স্বাভাবিক পরিমাণে এগুলো পান করলেই শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে পানি দৈনন্দিন পানীয় হিসেবে সহজ ও ভালো পছন্দ।
তাহলে কোনটি বেছে নেবেন?
দুপুরে ক্লান্ত লাগলে প্রথমে নিজের শরীরের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। তৃষ্ণা লাগলে বা দীর্ঘক্ষণ পানি না খেলে এক গ্লাস পানি পান করুন। এরপরও যদি ঘুম ঘুম ভাব থাকে এবং ক্যাফেইন আপনার শরীরে অস্বস্তি তৈরি না করে, তাহলে অল্প চা বা কফি বেছে নিতে পারেন।
চা-কফিতে অতিরিক্ত চিনি যোগ না করাই ভালো। বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যায় ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ খেয়াল রাখা প্রয়োজন, কারণ এর প্রভাব কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে এবং রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
দুপুরের ক্লান্তি কমাতে শুধু পানীয়ের দিকে তাকালেই চলবে না। আগের রাতের ঘুম, দুপুরের খাবারের পরিমাণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও কাজের একঘেয়েমিও বিবেচনায় নিতে হবে। সম্ভব হলে অল্প সময় হাঁটুন, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে বিরতি নিন এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সূত্র: এনএইচএস, এফডিএ, সিডিসি




