খাওয়ার পরপরই যেসব কাজ করা ঠিক নয়

প্রতীকী ছবি
খাওয়ার পর অনেকেরই একটু বিশ্রাম নিতে, চা পান করতে কিংবা বিছানায় শুয়ে পড়তে ইচ্ছা করে। কেউ আবার খাবার শেষ করেই ব্যায়াম শুরু করেন। কিন্তু খাবার খাওয়ার পরপরই কিছু কাজ করলে হজমে অস্বস্তি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স কিংবা পেটের সমস্যা বাড়তে পারে। আবার প্রচলিত কিছু ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ততটা শক্ত নয়।
খাওয়ার পর যে ৭টি কাজ এড়িয়ে চলবেন-
খেয়েই শুয়ে পড়া
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর খাবার ও অ্যাসিড খাদ্যনালির দিকে উঠে আসতে পারে। এতে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই এ সমস্যা রয়েছে, তাঁদের খাবারের পর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা শোয়া এড়িয়ে চলা ভালো।
ভারী ব্যায়াম করা
খাওয়ার পরপরই দৌড়ানো, ভারোত্তোলন বা তীব্র ব্যায়াম করলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, বমিভাব বা ক্র্যাম্প হতে পারে। তাই ভারী খাবারের পর শরীরকে কিছুটা সময় দেওয়া ভালো। তবে হালকা হাঁটা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।
ধূমপান করা
খাবারের পর ধূমপানকে অনেকে অভ্যাসে পরিণত করেন। কিন্তু ধূমপান পাকস্থলীর অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়াতে পারে। এটি হজমের জন্যও ভালো অভ্যাস নয়।
কোমর চেপে থাকে এমন পোশাক পরা
খাওয়ার পর আঁটসাঁট বেল্ট, প্যান্ট বা পোশাক পেটের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এতে বিশেষ করে যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের অস্বস্তি বাড়তে পারে।
ভারী খাবারের পরপরই আবার চা-কফি পান
চা বা কফি সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে ক্যাফেইন কিছু মানুষের বুকজ্বালা ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপসর্গ বাড়াতে পারে। তাই খাবারের পর চা-কফি পান করলে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া খেয়াল রাখা জরুরি।
দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা
বিশেষ করে অফিসে দুপুরের খাবার খেয়ে দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে থাকেন অনেকে। একটানা বসে থাকার পরিবর্তে কিছুক্ষণ হেঁটে নেওয়া ভালো। খাবারের পর হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়া
দুপুরের খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু খাবার শেষ করেই ঘুমিয়ে পড়লে, বিশেষ করে যাঁদের রিফ্লাক্সের সমস্যা আছে, তাঁদের অস্বস্তি হতে পারে। রাতের খাবার ও ঘুমের মধ্যে পর্যাপ্ত বিরতি রাখা ভালো।
তাহলে খাওয়ার পর কী করবেন?
খাওয়ার পরপরই বিছানায় না গিয়ে স্বাভাবিকভাবে কিছুক্ষণ বসে থাকতে পারেন। এরপর ১০–২০ মিনিট হালকা হাঁটা ভালো অভ্যাস। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর হাঁটলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান, ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়া এবং অতিরিক্ত না খাওয়ার অভ্যাস হজমের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
সূত্র: তথ্যসূত্র: এনএইচএস; মায়ো ক্লিনিক; পাবমেড; স্পোর্টস মেডিসিন



