কাঁচা নাকি পাকা আম, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো

সংগৃহীত ছবি
গরমের দাবদাহ শুরু হতে না হতেই ফলের বাজারে এখন আমের জয়জয়কার। বাঙালির পাতে আম থাকবে না, তা কি হয়? তবে আম নিয়ে আমাদের মনে একটা চিরাচরিত বিতর্ক সবসময়ই থাকে শরীরের জন্য আসলে কোনটা বেশি উপকারী? কাঁচা আম নাকি পাকা আম? পুষ্টিবিদরা বলছেন, আম যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, এর গুণাগুণ জানলে আপনি সত্যিই অবাক হবেন।
আপনি কি জানেন, একটি ছোট কাঁচা আমে ৩টি আপেল বা ১টি বড় কমলার সমান ভিটামিন সি থাকে? রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সিজনাল জ্বর সর্দি দূরে রাখতে কাঁচা আমের কোনো জুড়ি নেই। অন্যদিকে, আম পাকার সঙ্গে সঙ্গে এর স্টার্চ চিনিতে বদলে যায়। পাকা আম হলো ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিনের খনি, যা আপনার চোখের দৃষ্টি ঠিক রাখার পাশাপাশি ত্বকে আনবে গ্ল্যামারাস জেল্লা।
তপ্ত রোদে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে কাঁচা আমের 'আম পান্না' বা শরবত হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখে। এমনকি যাদের সকালে ঘুম থেকে উঠে বমি ভাব হয় বা যারা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন, তারা একটু বিট লবণ দিয়ে কাঁচা আম খেলে দ্রুত আরাম পাবেন।
পাকা আম হলো ইন্সট্যান্ট এনার্জির উৎস। যারা দুর্বলতা অনুভব করেন বা একটু ওজন বাড়াতে চান, তাদের জন্য পাকা আম আদর্শ। তবে সাবধান! পাকা আমে ক্যালরি ও সুগার বেশি থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে মেপে আম খাওয়া।
আমের সেই সাদা আঠালো কষ কিন্তু বেশ বিপদজনক। ভালো করে না ধুয়ে খেলে গলা চুলকানি বা পেটে ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত আম খেলে ত্বকে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যাদের বাতের ব্যথা আছে, অতিরিক্ত টক বা কাঁচা আম তাদের কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে।
আসলে কাঁচা বা পাকা কোনো আমই ফেলনা নয়। আপনি যদি নিজেকে চনমনে ও শীতল রাখতে চান, তবে কাঁচা আম বেছে নিন। আর যদি শরীরের শক্তি ও পুষ্টি বাড়াতে চান, তবে বেছে নিন মিষ্টি পাকা আম। আপনার শরীরের প্রয়োজন বুঝে সঠিক আমটি বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।















