বিজ্ঞান যা বলছে
চুল কতবার আঁচড়ানো উচিত?

ছবি- বিবিসি
খেলার ছলেই হোক কিংবা আয়নার সামনে নিজের চুলকে সাজিয়ে তোলার জন্যই হোক, সুযোগ পেলেই ছোটবেলায় চুল আঁচড়াতাম আমরা। বিশেষত চুলের প্রতি শৌখিন বা হেয়ারফেটিশিস্ট যারা, ঘুম থেকে ওঠার পর, বাথরুমের আয়নার সামনে, এমনকি পড়াশোনার ফাঁকে একটু বিরতি পেলেও চুল সজ্জার চর্চা করেন সেসব ব্যক্তি।
বারবার চুলে ব্রাশ করার সময় মাথায় আসতেই পারে উনিশ শতকের ইউরোপীয় তথা অস্ট্রিয়ান সম্রাজ্ঞী সিসির কথা। দীঘল বাদামি চুল ছিল তার। গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা ছিল সম্রাজ্ঞী সিসির চুল। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী প্রতিরাতে চুলে অন্তত ১০০ বার ব্রাশ চালাতেন তিনি। আর এভাবেই চুল সুস্থ রাখতেন এই সম্রাজ্ঞী। সম্ভবত মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া একটি লোককাহিনি এটি।
ভিক্টোরীয় যুগের সেই কল্পকাহিনিতে সত্যতা থাকলেও, চুল কতবার আঁচড়ানো উচিত, এর পেছনের বিজ্ঞান অনেক বেশি জটিল। পদার্থবিদ থেকে শুরু করে হেয়ারড্রেসার, এ বিষয়ে গবেষণা করছেন অনেকেই। উত্তরটি নির্ভর করে আপনার চুলের ধরন, ব্যবহৃত ব্রাশ, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং আরও নানা বিষয়ের ওপর।
ইতিহাসের পাতায় চিরুনি বা চুলের ব্রাশ
চিরুনি, হেয়ারব্রাশ এবং চুল পরিচর্যার ইতিহাস প্রাগৈতিহাসিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। ‘দ্য হেয়ার হিস্টোরিয়ান’-এর প্রতিষ্ঠাতা র্যাচেল গিবসনের মতে, সবসময় হাতের কাছে যা পেয়েছে, তা দিয়েই পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যচর্চার সরঞ্জাম তৈরি করেছে মানুষ। তাই ইতিহাস জুড়ে এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষের কাছে দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ একটি অভ্যাস ছিল চুল আঁচড়ানো।
ক্ষতি করতে পারে অতিরিক্ত চুল আঁচড়ানোও
পশ্চিমা দেশে শতবার ব্রাশ করার ধারণাটির উৎপত্তি সম্ভবত ভিক্টোরীয় যুগে। নারীদের লম্বা চুল সামাজিক মর্যাদা ও নারীত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো সে সময়। গিবসনের ভাষায়, নারীদের মুকুটের মতো চূড়ান্ত এক গৌরবের প্রতীক ছিল তাদের চুল।
সাধারণত পরিচর্যার প্রথম ধাপে চিরুনি দিয়ে ছাড়ানো হতো চুলের জট। ময়লা, উকুন ও অন্যান্য আবর্জনার ভগ্নাবশেষও পরিষ্কার করা হতো চিরুনি দিয়ে। এরপর প্রাকৃতিক ব্রিসলযুক্ত, সাধারণত শূকরের লোম দিয়ে তৈরি ব্রাশ দিয়ে পাট করা হতো চুল। মাথার ত্বকের তেল ছড়িয়ে দেওয়া হতো পুরো চুলে।
বিশেষ এক ধরনের কেপ থাকত অভিজাত ভিক্টোরীয় নারীদের। ঝরে পড়া চুল পোশাকে না লাগে যাতে সেজন্য ব্যবহার করা হতো এই কেপ। এমনকি আলাদা পাত্রও রাখা হতো ঝরে পড়া চুল সংগ্রহের জন্য। পরে সেই ঝরে পড়া চুল দিয়ে ‘ডেড হেয়ার ডোনাট’ বানিয়ে চুলের সাজে যোগ করা হতো বাড়তি ভলিউম ও কাঠামো।
১৮৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের আফ্রিকান-আমেরিকান হেয়ারড্রেসার লাইডা নিউম্যান প্রথম উদ্ভাবন করেন কৃত্রিম ব্রিসলযুক্ত হেয়ারব্রাশ। এর ফলে ব্রাশ উৎপাদন সহজ ও সস্তা হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চুল ব্রাশ করার অভ্যাস ছড়িয়ে পড়ে আরও। তবে এর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে নানা ভুল ধারণাও।
চুলের নেপথ্যের পদার্থবিজ্ঞান
অনেকের বিশ্বাস, বেশি চুল আঁচড়ালে দ্রুত বাড়ে চুল। ২০২৫ সালের একটি জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৬ শতাংশেরও বেশি এই দাবিকে সত্য বলে মনে করেন এখনো। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার সেলুন মালিক নিকি করজিনের মতে, সম্পূর্ণ ভুল ধারণা এটি। তার মতে, চুল বেশি ব্রাশ করলেই দ্রুত বাড়বে এমন নয়। বরং চুলের ক্ষতির ওপর পরিচর্যার প্রভাব বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা যে গবেষণা করেছেন, তা বলছে অতিরিক্ত ব্রাশ করলে ক্ষতি হয় চুলের। এমনকি চুল পড়ার কারণও হতে পারে অতিরিক্ত চুল আঁচড়ানো।
একদল গবেষকের গবেষণায় দেখা যায়, দুটি চুল একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গিঁট পাকালে ছাড়ানোর সময় কী ঘটে আসলে।
গবেষণায় দেখা যায়, বেশি আঁচড়ানোর ফলে যাদের চুলে আগা ফাটার প্রবণতা আছে, ভেতর থেকে ফেটে যেতে শুরু করে তাদের চুল। অপেক্ষাকৃত সুস্থ চুলও বারবার চাপ প্রয়োগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেক্ষেত্রে বাইরের দিক থেকে ফাটল তৈরি হয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তা।
আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষণার সহলেখক ডেভিড টেলরের ভাষ্য, আমাদের ধারণা, চুলের আগা ফাটার প্রধান কারণ এটিই। চুল যখন অনেক বেশি বাঁকানো অবস্থায় থাকে, তখন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি চাপ পড়ে তাতে।
তিনি আরও জানালেন, চুল আমরা যত বেশি ব্রাশ করি, ক্ষতির সম্ভাবনা তত বাড়ে। তবে আসল বিষয় ব্রাশ করার সংখ্যা নয়, বরং আপনি কত জোরে ব্রাশ করছেন তা।
চুল গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিআরআই প্রিন্সটনের ট্রেফর ইভানসও বিভিন্ন পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, বারবার পরিচর্যা বা আঁচড়ানোর ফলে ক্ষতি হয় চুলের।
তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন, পরীক্ষাগারের ফলাফল বাস্তবজীবনের প্রভাবকে সবসময় পুরোপুরি প্রতিফলিত করতে পারে না।
ইভানসের মতে, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ব্রাশ করার কারণে যে ক্ষতি হয়, তা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট বা অতিরিক্ত তাপ ব্যবহারজনিত ক্ষতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।
চুল ব্রাশ করার অজানা উপকারিতা
নিকি করজিন বলেছেন, সাবধানে এবং সচেতনভাবে চুল ব্রাশ করা কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা ব্রাশে নয়, আপনি কীভাবে ব্রাশ করছেন, সেটাই মূল বিষয়। নিয়মিত চুল আঁচড়ালে বড় বড় জট, চুল জট বেঁধে শক্ত হয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তা। ফলে পরে চুল আঁচড়ানোর সময় অতিরিক্ত টান, ভাঙন ও ক্ষতির ঝুঁকি কমে।
জৈব রসায়নবিদ এবং একটি হেয়ারকেয়ার ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা জ্যারেড রেনল্ডসের মতে, সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করে একবার খুব জোরে ব্রাশ করার চেয়ে প্রতিদিন এক বা দুইবার নিয়মিত ব্রাশ করলে ক্ষতি অনেক কম হয়।
তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, পরীক্ষাগারে চুলের ওপর যে পরীক্ষা চালানো হয়, বাস্তবজীবনের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে পুরোপুরি অনুকরণ করতে পারে না তা।
নিয়মিত চুল আঁচড়ালে ঝরে পড়া চুল, মৃত ত্বকের কণা এবং মাথার ত্বকে আটকে থাকা ময়লাও দূর হয়। এসব ময়লা জমে থাকলে মাথার ত্বকে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কীভাবে চুল আঁচড়াবেন
চুল আঁচড়ানোর সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি নির্ভর করে আপনার চুলের ধরনের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিভিত্তিক সেলুন মালিক নিকোলা লিঞ্চের মতে, যাদের চুল সোজা বা ঢেউখেলানো এবং খুব বেশি কোঁকড়ানো নয়, তাদের সপ্তাহে অন্তত তিনবার চুল ব্রাশ করা উচিত। অনেকের ক্ষেত্রে দিনে দুইবার পর্যন্ত ব্রাশ করাও উপকারী হতে পারে। জ্যারেড রেনল্ডস ও নিকি করজিনও দিনে এক থেকে দুবার চুল আঁচড়ানোর পরামর্শ দেন।
লিঞ্চের মতে, সোজা বা ঢেউখেলানো চুলের অধিকারীদের জন্য ভেজা অবস্থায় চুল ব্রাশ না করাই উত্তম। ভেজা চুল আপাতদৃষ্টিতে দেখতে হয়তো বেশি মজবুত মনে হতে পারে; কিন্তু বাস্তবে তখন অনেক বেশি দুর্বল থাকে চুলের গোড়া।
এর কারণ চুলের গঠন। একটি চুলের মধ্যে থাকে কর্টেক্স বা কেন্দ্রীয় অংশ এবং কিউটিকল নামের বাইরের স্তর। কিউটিকল আসলে কেরাটিনের তৈরি অসংখ্য পাতলা স্তরের সমষ্টি। কেরাটিনই আমাদের নখেরও প্রধান উপাদান। এগুলো ছাদের টালির মতো একটির ওপর আরেকটি বসানো থাকে।
চুল ভিজে গেলে এই স্তরগুলোর কিনারা কিছুটা উঠে যায় এবং প্রসারিত হয়। ফলে আরও নমনীয় হয়ে ওঠে চুল। একই সঙ্গে ভেঙে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায় চুলের।
অন্যদিকে যাদের চুল খুব কোঁকড়ানো বা কুণ্ডলী পাকানো ধরনের, তাদের জন্য পরামর্শ একেবারেই উল্টো। তারা শুকনো অবস্থায় চুল ব্রাশ না করাই ভালো। বরং চুল ধোয়ার সময়ই জট ছাড়ানো এবং আঁচড়ানোর কাজ করা উচিত।
কোঁকড়ানো চুলের পরিচর্যা
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্পেলম্যান কলেজের রসায়ন ও জৈবরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মিশেল গেইনস বহু বছর ধরে টেক্সচারযুক্ত বা কোঁকড়ানো চুলের রাসায়নিক গঠন নিয়ে গবেষণা করছেন।
তিনি মনে করেন, কোঁকড়ানো বা কয়েল করা কুণ্ডলী পাকানো চুলের ভৌত বৈশিষ্ট্য সোজা বা ঢেউখেলানো চুলের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। অথচ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সৌন্দর্যশিল্পে এই পার্থক্য যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি দীর্ঘদিন ধরে।
বৈজ্ঞানিকভাবে কোঁকড়ানো চুলের ধরন তালিকাবদ্ধ করার জন্য একটি পদ্ধতিও উদ্ভাবন করেছেন গেইনস। তার গবেষণায় দেখা গেছে, চুল যত বেশি কোঁকড়ানো হয়, ততই এর ভেতরের কিছু রাসায়নিক বন্ধনের ধরন বদলে যায়। এর ফলে পরিবর্তিত হয় চুলের শক্তি, স্থিতিস্থাপকতা এবং ভাঙার প্রবণতাও।
তার প্রাথমিক গবেষণা আরও ইঙ্গিত দেয়, কোঁকড়ানো ও কুণ্ডলী পাকানো চুলে কিউটিকল স্তরগুলো তুলনামূলক ছোট, একে অপরের কাছাকাছি এবং বেশি খসখসে হতে পারে কিনারাগুলো। ফলে এসব চুল আর্দ্রতা ধরে রাখতে কম সক্ষম হয় এবং সহজেই জট বাঁধতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে গবেষণা প্রয়োজন আরও।
গেইনস আরও উল্লেখ করেন, সমাজে প্রচলিত সৌন্দর্যচর্চার কারণে কোঁকড়ানো চুলে প্রায়ই অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করা হয়, যেমন ঘন ঘন আঁচড়ানো, চুল স্ট্রেইট করার চেষ্টা, রাসায়নিক ট্রিট্মেন্ট করা বা অতিরিক্ত পরচুলা দিয়ে বেণি করা। এসবের ফলে ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়ে।
তাই তিনি পরামর্শ দেন, জট ছাড়ানোর সময় এমন পণ্য ব্যবহার করতে, চিরুনি বা ব্রাশকে সহজে চুলের ভেতর দিয়ে চলতে সাহায্য করে যা।
সঠিক ব্রাশ বেছে নেওয়াও জরুরি
চুলের ধরন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, চুলের যত্নে তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সঠিক ব্রাশ ব্যবহার করাও। লিঞ্চের মতে, যাদের চুল কোঁকড়ানো, কুণ্ডলী পাকানো অথবা যারা ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়াতে চান, তাদের জন্য নরম ও নমনীয় ডিট্যাঙ্গলিং ব্রাশ সবচেয়ে উপযোগী। এগুলোকে সাধারণত ‘ওয়েট ব্রাশ’ বলা হয়। এক্ষেত্রে শক্ত বা রুক্ষ চিরুনি ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
অন্যদিকে শুকনো চুলের জন্য উত্তম নরম ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ। মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে এসব ব্রাশ। আজও এসব ব্রাশকে বোয়ার ব্রিসল ব্রাশ বলেন অনেকে। কারণ ভিক্টোরীয় যুগে, যখন সম্রাজ্ঞী সিসি একটানা ১০০ বার চুল ব্রাশ করতেন, তখন সত্যিই শূকর বা বোয়ার লোম দিয়ে তৈরি হতো এসব ব্রাশ।
কেমন হতে পারে ভবিষ্যতের চিরুনি?
দুই ধরনের ব্রাশের সুবিধা একসঙ্গে পাওয়ার জন্য নতুন ধরনের একটি ব্রাশের নকশা নিয়ে কাজ করছেন জ্যারেড রেনল্ডস। একটি হাইব্রিড ধরনের ব্রাশ হবে জ্যারেড রেনল্ডসের এই ব্রাশ। যাতে থাকবে প্লাস্টিকের গোলাকার মাথাওয়ালা লম্বা পিন এবং বোয়ার ব্রিসলের মতো ছোট্ট ব্রিসল। লম্বা প্লাস্টিক পিনগুলো আলাদা ও সুশৃঙ্খল করবে চুলকে। আর ছোট ব্রিসলগুলো মসৃণ করবে চুল। স্ক্যালের প্রাকৃতিক তেল ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে। ভলিউম যোগ করবে চুলে। রেনল্ডসের ভাষায়, চুলের জন্য এটাই হবে সবচেয়ে আদর্শ সমন্বয়।
বাংলাদেশি পাঠকের জন্য আরও সাবলীল ও পাঠযোগ্যভাবে এভাবে লেখা যেতে পারে:
অতীত থেকে ভবিষ্যৎ
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে চুলের ব্রাশ ও চিরুনির নকশা বদলেছে নানা রূপে। খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ সালেরও আগে প্রাচীন মিসরের সমাধি থেকে হাতির দাঁতের তৈরি চিরুনি পাওয়া গেছে। আবার বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গাছের বাঁকানো ডালপালা দিয়েও চিরুনি বানানোর নজির রয়েছে। চুল পরিচর্যার এই দীর্ঘ যাত্রা এখনো থেমে নেই। চুলের গঠন, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান যত বাড়ছে, ততই চুলকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত ও সুস্থ রাখার নতুন নতুন উপায়ও সামনে আসছে। ভবিষ্যতে হয়তো চুলের যত্নে আরও অভিনব ও কার্যকর প্রযুক্তি দেখতে পাব আমরা।







