সুপারিশের ৮ মাসেও নিয়োগ পাননি ৪৫ বিসিএসের ৫০ নন-ক্যাডার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
৪৫তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজসেবা অফিসার পদে নিয়োগের সুপারিশ পেলেও অজানা জটিলতায় ঝুলে রয়েছে এই পদের ৫০ জনের চূড়ান্ত নিয়োগ। একই সময়ে সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রার্থীরা এরই মধ্যে কর্মস্থলে যোগ দিলেও একমাত্র সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই পদটিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের নন-ক্যাডার তালিকা থেকে মোট ৫৪৫ জনকে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি অধিদপ্তরে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠায়। এই সুপারিশের আওতায় নবম গ্রেডের ৫০টি এবং দশম গ্রেডের ৭টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বণ্টন করা হয় পদ। যার মধ্যে সুপারিশ করা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘সমাজসেবা অফিসার’ (নবম গ্রেড) পদের জন্য ৫০ প্রার্থীকেও।
কিন্তু পিএসসির সুপারিশের দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এবং নবম ও দশম গ্রেডের অন্যান্য ক্যাটাগরির প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন বা শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও ব্যতিক্রম কেবল সমাজসেবা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অন্য সব দপ্তরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হলেও সমাজসেবা অফিসার পদের ক্ষেত্রে নিয়োগের প্রশাসনিক কাজ এখনো দেখেনি আলোর মুখ।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। জীবন থেকে মূল্যবান সময় হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের এমন অনিশ্চয়তা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। অবিলম্বে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে সমাজসেবা অফিসার পদে নিয়োগের গেজেট প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগীরা।
নিয়োগ পাওয়া ৫০ জনের মধ্যে তিনজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। চিন্ময় কুমার মণ্ডল সেই ৫০ জনের মধ্যে একজন। তিনি বলেছেন, ‘গত বছরের ২৭ নভেম্বর ফলাফল প্রকাশের পর আমি আশাবাদী ছিলাম খুব দ্রুতই দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পারব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও আমাদের চূড়ান্ত নিয়োগ বা গেজেট প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে আছে।’
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ফাইলটির বর্তমান অবস্থা কী তা পিএসসি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিংবা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, কোনো দপ্তর থেকেই আমরা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাচ্ছি না। এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে খবরাখবর নিতে গিয়ে আমরা শুধুই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছি। অন্যান্য পদের অগ্রগতি হলেও আমাদের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ প্রশাসনিক নীরবতা আমাদের এবং আমাদের পরিবারকে চরম হতাশায় ঠেলে দিয়েছে।’
সবশেষে তিনি বলেছেন, ‘পিএসসি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ত্বরান্বিত করে আমাদের ফাইলটির দ্রুত সুরাহা করা হোক এবং আমাদের গেজেট প্রকাশ করে নিয়োগ নিশ্চিত করা হোক।’
নন-ক্যাডারদের ফাইল তারা পাঠিয়েছে কি না সে বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেছেন, ‘আমরা সব ফাইল সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
পরবর্তী সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও প্রতিবেদককে জানিয়েছে, তারাও পিএসসি কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত নন-ক্যাডারের ফাইল সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে তারা বলেছে, ‘আমরা পিএসসি থেকে কোনো ফাইল পাইনি। আমাদের পিএসসি সরাসরি ফাইল পাঠায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আমাদের পাঠায় না। পিএসসি আমাদের পাঠালেই আমরা নিয়োগ দিয়ে দিব।’
জনপ্রশাসন এবং পিএসসির ফাইল পাঠানোর বিষয় তাদের জানালেও তারা সুপারিশকৃত ফাইল পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে।







