ধোবাউড়ার হাজংপল্লীতে

জাঙ্গালিয়াপাড়া গ্রামে নিজের ঘরের সামনে সগেন্দ্র হাজং। ছবি: লেখক
ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা ধোবাউড়ার পাহাড়ি জনপদ। সবুজ টিলা, বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত আর মাটির সরু পথ ধরে এগিয়ে গেলে চোখে পড়ে একের পর এক হাজং অধ্যুষিত গ্রাম।
একদিন ভরদুপুরের তপ্ত রোদে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি হাজং অধ্যুষিত গ্রাম ঘুরে দেখার উদ্দেশে বের হলাম। একসময় ধোবাউড়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে সীমান্তের কাছাকাছি নেওলা ব্রিজ পার হয়ে মূল সড়ক ছেড়ে মাটির রাস্তা ধরে চলে এলাম দুধকুড়া গ্রামে। এ ছাড়া এখানকার বগাঝড়া, সোহাগীপাড়া, কংকরপুর, জাঙ্গালিয়াপাড়া, লাঙ্গলজোড়া, ভালুকাপাড়া ও ডেফুলিয়াপাড়ায় হাজং জনগোষ্ঠীর দুই হাজারের বেশি অধিবাসী বসবাস করে।
ভ্রমণের শুরুতেই দুধকুড়া গ্রামের মিতালি হাজংয়ের উঠোনে পা রাখলাম। কোথাও টিনশেড, কোথাও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা ছাপরা, আবার কোথাও ইটের আধাপাকা ঘর। বড় দুই ছেলে ঢাকায় চাকরি করলেও ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি টিনশেড ঘরে থাকেন। জানালেন, বাড়িতে হাজং ভাষায় কথা বললেও বাইরে গেলে তাদের বাংলা ভাষার ওপর নির্ভর করতে হয়।
ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘পাতিন’ এবং ‘মরকিন’ হাজংদের স্বকীয়তার পরিচয় দেয়
এরপর মোটরসাইকেল ছুটিয়ে হাজির হলাম জাঙ্গালিয়াপাড়া গ্রামে। এখানকার মেঠোপথ ধরে এগোতেই দেখা মিলল সগেন্দ্র হাজং ও সাথী হাজং দম্পতির সঙ্গে। কৃষিকাজ তাদের প্রধান জীবিকা। তবে এই এলাকায় ঘুরতে গিয়ে পর্যটক বা দর্শনার্থীর চোখে পড়বে এখানকার যোগাযোগ ও শিক্ষার সংকট।
গ্রামের পথ ধরে এগোতে এগোতে স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী নয়ন রায়ের দেখা মিলল। তিনি শোনালেন হাজংদের বর্ণিল কৃষ্টির কথা। নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘পাতিন’ এবং পুরুষদের ‘মরকিন’ তাদের স্বকীয়তার পরিচয় দেয়। তাদের একটি বিশেষ ধর্মীয় উৎসবের নাম ‘দেউলি’, যেখানে ঐতিহ্যবাহী গান ও পাঁঠা বলির আয়োজন করা হয়।
হাজং ভাষা কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মতিলাল হাজং জানালেন, একসময় এই অঞ্চলে লক্ষাধিক হাজং মানুষের বসবাস থাকলেও নানা ঐতিহাসিক কারণে সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
যদি একটু ভিন্নধর্মী ইতিহাসঘেরা কোনো স্থানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তালিকায় যুক্ত করতে পারেন ধোবাউড়ার এই প্রান্তিক হাজং গ্রামগুলো।
যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাসে প্রথমে ময়মনসিংহ পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে চেপে ধোবাউড়া উপজেলা শহর হয়ে পৌঁছে যাবেন সীমান্তের এই সুন্দর হাজং গ্রামগুলোতে।




