দুই চাকায় মালয়েশিয়া-৪
বান্দিং টু জেলি- ৮০ কিলোমিটার

বাংলাদেশি আসাদ ভাইয়ের সঙ্গে দুই সাইকেল আরোহী
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে একটা জিনিস কমন-সবাই অতীব রাজনীতি সচেতন। কাল রাতে ছয়জনের সঙ্গে কথায় দেশ আর রাজনীতিই বারে বারে উঠে এসেছে। অবশ্য রাজনীতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা থাকা ভালো। রাজনীতি শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার জিনিস নয় মোটেও। অবশ্য সাধারণ মানুষ থেকে নানান সিঁড়ি বেয়ে ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করলেই রাজনীতিবিদরা সেসব ভুলে যান। অনেক উপর থেকে আবছা আবছা দেখতে শুরু করেন সাধারণ জনগণকে। কেন্দ্রের চোখ দিয়ে প্রান্তকে দেখলে সবকিছু অস্পষ্ট দেখাই স্বাভাবিক।
আসাদ ভাই সকাল সকাল কফি বানিয়ে খাওয়াল। সাথে ওটস আর ডার্ক চকলেটের মিশেলের বিস্কুট। সকালের কমলা রঙের মৃদু রোদে নির্মাণাধীন হোটেল থেকে তেমেংগর লেক আর বান্দিং দ্বীপ দেখলাম। মালয়েশিয়ান উপদ্বীপের (সাবাহ আর সারাওয়াক প্রদেশ ছাড়া আর সব প্রদেশ মালয়েশিয়ান উপদ্বীপেই অবস্থিত) ২য় বৃহত্তম লেক এই তেমেংগর। আমাদের কাপ্তাই লেকের মতো এটিও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৃষ্ট। পরবর্তীতে স্বাদু পানির মাছের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে একে গড়ে তোলা হয়েছে। আসাদ ভাইয়ের কাছে জানলাম সংস্কারাধীন এই ভবনে বেশ কয়েকবার হাতি হানা দিয়েছে।
এজন্যই রাতে নানানদিকে তার টানিয়ে ঘুমান বাংলাদেশি ভাইরা। সকালে হাতি না দেখলেও এই প্রাঙ্গণেই কয়েকটা বানর দেখলাম। কোভিডের আগে এটি বেশ চালু হোটেল ছিল। অতিমারীর দিনগুলোতে মুখ থুবড়ে পড়ে ব্যবসা। মালিকানা বদল হয়ে যায় হোটেলের। কুয়ালালামপুরের এক এমপি কিনে নেন এটি। গত কয়েক মাস ধরে শুরু হয়েছে সংস্কার কার্য।
হোটেলের এক কোণে ধনেশের পেইন্টিং দেখে আসাদ ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলাম এই পাখি এখানে দেখতে পাওয়া যায় কি না। উত্তর এলো, 'প্রচুর।' এই নির্মাণাধীন হোটেলের বারান্দাতেই মাঝে মাঝে আসে ধনেশ! মালয়েশিয়ায় বিদ্যমান ১০ রকমের ধনেশই এই রয়েল বেলুম স্টেট পার্কে দেখা মেলে।
আটটা নাগাদ পথে। আমি ভোরের পাখি হলেও জুমন ভাইয়ের সকালে ধাতস্থ হতে খানিকটা সময় লাগে। তাছাড়া মালয়েশিয়াতে সকালের আলো ফোটতেই সাতটা পেরিয়ে যায়। তাই খানিক দেরিতেই প্যাডেলে পা রাখা শুরু। পথে নামতেই হাতের বামে ছোট্ট একটা ক্যান্টনমেন্ট। ফটকের সামনেই বিশাল একটা ট্যাংক শোভাবর্ধন করছে। এরপরেই লেকের উপরে বিশাল এক ব্রিজ। লেকের এপার-ওপারকে যুক্ত করা সেতুর ওপারে রয়েল বেলুম রেইনফরেস্ট রিসোর্ট। আমাদের মতো মানুষের নাগালের বাইরে এর কক্ষের ভাড়া। অবশ্য এসব নিয়ে আফসোস নেই। উচ্চবিত্তদের উপর ঘৃণার পর্দা তুলে দূরত্ব বাড়িয়ে কী লাভ?
রিসোর্টের ফটকের আশেপাশে প্রচুর বানর। এরা অবশ্য মানুষ দেখলেই গাছের ডালপালা কাঁপিয়ে পালিয়ে বেড়ায়। কেউ কেউ নিরাপদ দুরত্বে গিয়ে দাঁত খিঁচুনি দেয়। ব্যাটাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে পারলে ভালো লাগত। অল্প এগিয়েই পড়ল আরো একটা সেতু। তবে ব্রিজ যাতে লেকের পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত না করে, মালয়রা এর দারুণ প্রতিকার বের করেছে। লেক বা নদীর প্রবাহের উপর বিশাল থাম বা পিলার তুলে প্রবাহের বিকৃতি না ঘটিয়ে কয়েকটা সরু সরু পিলার তুলেছে ওরা। এক জায়গায় লেখা পড়লাম, পুরকৌশলের পরিভাষায় ডাবল বাক্স গার্ডার ব্রিজ বলে একে। এই সেতুর সাথে লাগোয়া অনেকগুলো হাউজ বোট। সেতুর পরের চড়াইটা পেরোতেই রাস্তার পাশে মুখ থুবড়ে পড়া একটা লরি নজরে এলো। চালক হাতুড়ি ঠুকে জানালার কাচ ভেঙে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। ওনার কাজও প্রায় শেষের দিকে। আমি ইশারায় জানতে চাইলাম সাহায্য লাগবে কি না। না-সূচক উত্তর পেয়ে সামনে বাড়লাম। ফের এগোতেই হাতি পারাপার সংক্রান্ত সতর্কবার্তা। শখানেক মিটার সামনেই নজরে এলো রাস্তার পাশে খাদের ধারে অতিকায় একটা হাতি। ছবি তুলতে যাব এমন সময়ে হাতি গা ঝাড়া দিতে শুরু করায় জোর কদমে প্যাডেল মেরে এগিয়ে গেলাম। চড়াইটার উপরে উঠে থেমে গিয়ে জুমন ভাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। উনি পায়ে পাখা লাগিয়ে জোরে চালিয়ে আসার সময় একটা ছবি তুলতে পেরেছেন। একটু পরেই শুরু হলো ঘন জঙ্গল। চলছি বেলুম-তেমেনগর ফরেস্ট কম্পলেক্সের মধ্য দিয়ে। এত বড় নিরবিচ্ছিন্ন বন মালয়েশিয়ার আর কোথাও নেই। মালয়েশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডেও এই বনাঞ্চল বিস্তৃত। বেলুম-তেমেনগর বন ১৩ কোটি বছরের পুরোনো। বয়সের দিক থেকে বহুল আলোচিত আমাজন আর কঙ্গোর বনের চেয়েও এটি প্রাচীন। রাস্তা থেকেই জঙ্গলের ভেতর বিশাল সব মহিরুহ দেখা যাচ্ছে। কয়েকটা গগনভেদী গর্জন গাছও নজরে এলো। স্থানে স্থানে হাতির মল। যত যা কিছু বলি না কেন, হাতির সঙ্গে পারস্পরিক অদর্শন দুপক্ষের জন্যই মঙ্গল।
যত এগোচ্ছি, জঙ্গল তত পুরু হচ্ছে। বিচিত্র সব আওয়াজ ভেসে আসছে। একটা প্রাণীর শব্দ রীতিমতো অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের মতো। শুনতে শুনতে কানে তালা লেগে যাবার জোগাড়। বেশ অনেকগুলো আপহিল। চড়াই ভাঙতে খুব বেশি বেগ পেতে হচ্ছে না। আগের রাতের টানা বৃষ্টি সকালের উত্তাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে দিয়েছে। পথের পাশে জায়গায় জায়গায় ভূমিধস রোধে সিঁড়ি বানানো। পাহাড় চোঁয়ানো সকল পানি যাতে পুরো পাহাড়ের গাত্রজুড়ে না গড়িয়ে নির্দিষ্ট সিঁড়ির মধ্য দিয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়, সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে। অল্প পরপর বাঁকানো কাস্তের মতো বাঁক। ঢালু রাস্তায় লরি নামছে অতি ধীরে; ব্রেক কষতে কষতে। বাতাসে রবার পোড়ার তীব্র গন্ধ। আমরা পাহাড় ঠেলতে ঠেলতে অতি ধীরে উঠি। মাঝে মাঝে ছোট একটা-দুটো উতরাই পড়ে। সেগুলো বেয়ে নামার আগে চাকা স্কিড করার সংকেত চিহ্ন দেওয়া আছে। এত মসৃণ রাস্তা, এত এত সাবধানবাণীর পরও বেশ কয়েকটা দুর্ঘটনাপ্রবণ গাড়ির দেখা পেলাম রাস্তায়। ব্রেকের তীব্র চাপে একটা লরির চাকা থেকে বেরিয়ে যাওয়া ছিন্নবিচ্ছিন্ন রবার দেখলাম এক জায়গায়। চাকা বসে গিয়ে লরিটা পতিত হয়ে আছে।
ফেডারেল রুট ৪ এর এই হাইওয়ে থেকে অনেক দূর পর পর একটা করে কাঁচা রাস্তা জঙ্গলের ভেতর এগিয়েছে। এই পথ ধরে মূলত মালয়েশিয়ার সবচেয়ে পুরোনো অধিবাসী 'ওরাং আসলি' দের বসতিতে যাওয়া যায়। মালয়েশিয়ান উপদ্বীপের জনসংখ্যার ১ ভাগেরও কম এদের মোট লোকসংখ্যা। এই অঞ্চলে বসবাসরত আসলি জনগোষ্ঠীর বড় অংশ তেমেংগান লেক আর এর আশেপাশের জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। বন আর জলের সাথেই সখ্যতা এদের। এরা প্রথমদিকে সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাসী থাকলেও কেউ কেউ পুরোনো আচার ছেড়ে ইসলাম-খ্রিস্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে।
জুমন ভাই আজ বেশ খানিকটা পেছনে পড়েছেন। হাঁটুর উপর চাপ না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আপহিলে বেশ ধীরে চলছেন। পুরো রাইডে প্রথমবারের মতো এক জায়গায় রাস্তায় গর্ত দেখলাম। এই পাহাড়ি রাস্তায়ও গণপূর্ত বিভাগের ভারী সব গাড়ি আর লরি নিয়মিত টহল দেয়। কোথাও সংস্কার কাজ প্রয়োজন হলেই মুহুর্তেই তারা সেটা শুরু করে। টানা চালিয়ে একটা সুরাও-এ থামলাম। এই জায়গাটা কোনো এক অজানা কারণে বেশ নোংরা। প্রচুর অপচনশীল জিনিসপত্র ছড়িয়ে আছে চারপাশে। দেদার ময়লা ফেলেছে লোকে। ইবাদতখানার ঠিক পেছনেই পাম বাগান। পেছনে উঁকি দিচ্ছে কয়েকটা ব্রেড ফ্রুট গাছ।
জুমন ভাই এলো মিনিট বিশেক বাদে। আমার গতি দেখে বলল, 'আজকে বিজয়া দশমী। তোর শরীরে এজন্যই অসুরের বল!' আমি জবাব দিলাম এখন কেউ অসুর বধ না করলেই হয়! ফের চলতে শুরু করলাম। এবার রাস্তা আরো খাড়া। খানিক সাইকেল চালাই আবার ঠেলি কিছুক্ষণ। কাল থেকেই দেখছি পাহাড়ি পথে চলার সময় কিছু মোটরসাইকেল আরোহী আর গাড়ির ড্রাইভার আমাদের দেখলেই ভেঁপু বাজায়। মালয়েশিয়ানদের আমাদের দেশের ড্রাইভারদের মতো হর্ন-প্রীতি নেই। গুগল ঘেঁটে জুমন ভাই বের করল, এটা সাইক্লিস্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিবাদন জানানোর রীতি! দারুণ ব্যাপার!
যত এগোচ্ছি, ততই যেন বনের গহীনে প্রবেশ করছি। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাস্তার বাঁকের সংখ্যাও। স্থানে স্থানে হাতি চলাচলের পথ সংক্রান্ত সতর্কবার্তা। বেশ কয়েক জায়গায় দুর্ঘটনার কবলে পড়া গাড়ির ধংসাবশেষ নজরে এলো। পথের তীক্ষ্ণ বাঁকগুলতেই ঘটে দুর্ঘটনাগুলো। অবশ্য গাড়ি ঠিক লেইনে থাকে বলে অন্য গাড়ির সাথে সংঘর্ষের চেয়ে রাস্তার ধারের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আঘাত করার হারই বেশি। একটা জায়গায় চড়াই পথে ধীরে ধীরে উঠতে গিয়ে মনে কাল এখান দিয়েই পেরিয়েছি! পথের দুপাশ হুবহু এক! অবশ্য একটু পর একটা ওয়াচ টাওয়ার দেখে ভুল ভাঙল। পাঁচতলা ওয়াচ টাওয়ারের তেতলায় আবার কেউ দুটো তাঁবুও খাটিয়েছে। তবে এই পর্যবেক্ষণ চৌকি পুরোদস্তুর বৈদ্যুতিক বেড়া দিয়ে ঘেরা। হতে পারে সাধারণের অগম্য স্থাপনা; সরকারি কিংবা দরকারি কোন কাজে লাগে এটি। ওয়াচ টাওয়ারের পরে বিশাল এক চড়াই। প্যাডেলে জোর না পাওয়ায় সাইকেল ঠেলছি। উঠছি আর ভাবছি। এই অধমের নিশ্বাস বাতাসে পড়ছে, কিন্তু খাড়া পাহাড়ি পথে সাইক্লিং করার লাইফ চয়েসটা কীসে পড়ছে? আফসোস ক্যাটাগরিতে কি? ভেবে কূলকিনারা করতে পারি না। আজকের গন্তব্য জেলি পৌঁছাতে পৌঁছাতে পা দুটো জেলির মতো অর্ধতরল না হয়ে গেলেই হলো। যাহোক, উঠছি ইস্ট-ওয়েস্ট হাইওয়ের সর্বোচ্চ বিন্দু তিতিওয়াংসা রেস্ট অ্যান্ড সার্ভিস এরিয়াতে; উচ্চতা ১০৫০ মিটার। রাস্তার পাশের সতর্কবাণীতে শুধু হাতির রাজত্ব; অন্য কোন প্রাণীর দেখা নেই আজ।
টানা চড়াই ভেঙে ১১.৫৫ নাগাদ তিতিওয়াংসা টপে। সকাল থেকে ৩৫ কিলোমিটার পথে কিচ্ছু মেলেনি। এখানে একটা রেস্তোরাঁ, এবাদতখানা, বায়ুকল, তিতিওয়াংসার স্থাপনা, টয়লেট ইত্যাদি আছে। জুমন ভাই এলো আরো মিনিট কুড়ি পরে। আমি অর্ডার করলাম নাসি কেরাবু। এলো নীলচে রঙের ভাত; অপরাজিতা ফুলের নির্যাস দিয়ে বানানো বলেই এর রং নীলচে। কেলান্টান আর তেরেঙ্গানু প্রদেশের খাবার হিসেবে নাসি কেরাবু প্রসিদ্ধ।
সবমিলিয়ে ঘন্টাখানেকের বিরতির পর নামতে শুরু করলাম। টানা উতরাই পথ। সকাল থেকে যে পথটুকু অতিকষ্টে চালিয়ে উঠেছি, সেটাই বিনা ক্লেশে একটাও প্যাডেল না মেরে নেমে যাচ্ছি! কী আনন্দ আকাশে বাতাসে! একের পর এক মাইলপোস্ট নিমেষেই পেরোচ্ছি। অথচ সকাল থেকে চড়াই পথে এক একটা মাইলফলক যেন ছিল আলোকবর্ষ দূরত্বে। পথে পড়ল টানেলের মতো দেখতে একটা রক শেড। উপর থেকে বড়ো পাথর গড়িয়ে পড়া ঠেকায় এই রক শেড। আরো কিছুদূর উতরাই পথে নামার পর পা রাখলাম নতুন প্রদেশে। পেরাক প্রদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আমরা এখন কেলান্টান-এ। পথ অবশ্য এখনো পুরু বনের মধ্য দিয়েই। পরিবর্তন শুধুমাত্র একটা জায়গায়।গাড়ির গতিরোধের জন্য দেওয়া হলদে দাগ এই প্রদেশে লালচে দাগে রূপ নিয়েছে।
কিছুদূর এগোতেই বিশাল এক নার্সারি; তারপরেই গোছানো একটা অ্যাগ্রো ফার্ম। সামনে বাড়তেই দুই সাইক্লিস্টের সঙ্গে দেখা হলো। আমাদের উলটোপথে যাচ্ছে ওরা; অনুশীলন করতে বেরিয়েছে। মাঝে দূর থেকে ধূসর একটা পাথরকে হাতির পিঠ বলে ভুল করে একটু ত্রস্তই হয়ে পড়লাম। হাতির হাতে পড়ার কোন ইচ্ছে এই মুহুর্তে নেই। আরো কয়েক কিলোমিটার উতরাই পথে নামতেই রাস্তার দুই ধার পরশপিপুল গাছের দখলে চলে গেল। এরপরেই হাইড্রো ইলেকট্রনিক বিশাল প্ল্যান্ট। অতিকায় একটা ঢাল দিয়ে পানি নামানোর ব্যবস্থা! হলিউডি সিনেমায় এমন সব ঢাল থেকে পানি গড়িয়ে দিয়েই জলের প্রলয়নাচন দেখানো হয়।
যত জেলির দিকে এগোচ্ছি, প্রকৃতির রূপ যেন আরো খুলছে। পথের ধারে সরেক শেডের সবুজ; গাঢ় সবুজ, হালকা সবুজ, কচুরিপানার সবুজ। এক জায়গায় থেমে ব্রেক প্যাডে পানি ঢাললাম। কেদাই বাটু নামক স্থান থেকে বনের শেষ; লোকালয় শুরু। আস্তে ধীরে গ্রাম, দোকানপাট উঁকি দিতে লাগল। এর ফাঁকে আলাদা করে নজর কাড়ল গুনুং রেং নামক পাহাড়। এত সুন্দর পাহাড় আমি বহুদিন দেখিনি।মাত্র ২৫৬ মিটার লম্বা চুনাপাথরের এই পাহাড়ের কারণে চোখ পথে থাকছে কম, পাহাড়ে থাকছে বেশি। এই পাহাড়ে গুহা আছে সর্বমোট ৬৯টি। গুনুং রেং-এ চোখ রাখতে রাখতেই জেলি শহরের কিছুটা আগে আন-নিসা হোমস্টে-তে থামলাম। আজ পুরোদিনে ১২৩৬ মিটার এলিভেশন গেইন হয়েছে; আর এলিভেশন লস হয়েছে ১৩৩০ মিটার। হোমস্টে-টায় মালিক কিংবা কাকপক্ষী- কেউই নেই। তবে বাড়ির গেইট খোলা। মালিক আছে শহরের বাইরে, এদিকে তার ইংরেজি জ্ঞানও প্রায় হিমান্কের কাছাকাছি। ওর সাথে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করে দুই জায়গায় নম্বর লক খুলে অবশেষে প্রবেশ করতে পারলাম হোমস্টে-তে। বাইরের বারান্দায় যেতেই মন ভালো হয়ে গেল। ছোট্ট একটা সুইমিংপুল আছে বাড়ির পেছনের আঙিনায়। ওখান থেকে দূরের পাহাড়ও চোখে পড়ে। বাড়ির মালিক জানাল, এটা ওর বাচ্চাদের জন্য বানানো; তবে আমরা ব্যবহার করতে পারব। আজকের রাইড পরবর্তী কুল ডাউন হোমস্টের ছোট্ট সুইমিং পুলেই।

















